৫ ওভার শেষে দক্ষিণ আফ্রিকার রান ৩ উইকেটে ৩১। ৫ ওভারে ভারতের রান ৩ উইকেটে ২৯। শুরুর বিপর্যয় সামলে দক্ষিণ আফ্রিকা দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ালেও ভারত সেটা পারল না। মিডল অর্ডারে তিনটি ঝোড়ো ইনিংসে প্রোটিয়ারা যত রান তুলল পরের ১৫ ওভারে, গোটা ইনিংসেও তা স্পর্শ করতে পারল না ভারতীয়রা। গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দুই ফাইনালিস্টের লড়াইয়ে পাত্তাই পেল না শিরোপাধারীরা। ৭৬ রানের রেকর্ড জয়ে সুপার এইটে যাত্রা শুরু করল গতবারের রানার্স আপ দক্ষিণ আফ্রিকা। আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে আজ টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে ৭ উইকেটে ১৮৭ রান করে দক্ষিণ আফ্রিকা। জবাবে ৮৮ রানে ৮ উইকেট হারিয়ে একশর আগে গুটিয়ে যাওয়ার চোখরাঙানি এড়িয়ে ১১১ পর্যন্ত যেতে পারে ভারত।

নিজেদের টি-টোয়েন্টি ইতিহাসে রানের হিসাবে এটি ভারতের দ্বিতীয় বড় ব্যবধানে হার। আর দক্ষিণ আফ্রিকার এই জয় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে সবচেয়ে বড় ব্যবধানের।
টি-টোয়েন্টিতে রেকর্ড টানা ১২ জয়ের পর পরাজয়ের তেতো স্বাদ পেল ভারত। চাপের মুখে ৫ নম্বরে ব্যাটিংয়ে নেমে পাল্টা আক্রমণে ৭ চার ও ৩ ছক্কায় ৩৫ বলে ৬৩ রানের ইনিংস খেলে দক্ষিণ আফ্রিকার নায়ক ডেভিড মিলার। ম্যাচসেরার স্বীকৃতিও পেয়েছেন তিনি। চারে নেমে ৩টি করে চার ও ছক্কায় ২৯ বলে ৪৫ রান করেন ডেভাল্ড ব্রেভিস। ট্রিস্টান স্টাবসের ২৪ বলে ৪৪ রানের ইনিংস ভারতকে চ্যালেঞ্জিং লক্ষ্য ছুঁড়ে দেয়।

শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত লাগাতার উইকেট হারাতে থাকা ভারতের হয়ে শিবম দুবের ৪২ ছাড়া আর কেউ ২০ রানও ছুঁতে পারেননি। ২২ রানে ৪ উইকেট নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার সফলতম মার্কো ইয়ানসেন। বাঁহাতি স্পিনার কেশব মহারাজ ২৪ রানে নেন ৩টি উইকেট।
আজকের বিশাল হারে খাদের কিনারায় চলে গেল ভারত। এরপর থেকে তাদের সব ম্যাচই বাঁচা-মরার। সেমিফাইনালে উঠতে হলে জিম্বাবুয়ে ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে পরের দুই ম্যাচ শুধু জিতলেই চলবে না, নেট রান রেট নিয়েও ভাবতে হবে বিশ্বকাপের সহ-আয়োজকদের।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
দক্ষিণ আফ্রিকা: ২০ ওভারে ১৮৭/৭ (মিলার ৬৩, ব্রেভিস ৪৫, স্টাবস ৪৪*; বুমরা ৩/১৫, অর্শদীপ ২/২৮)।
ভারত: ১৮.৫ ওভারে ১১১ অলআউট (দুবে ৪২, পান্ডিয়া ১৮, সূর্যকুমার ১৮; ইয়ানসেন ৪/২২, মহারাজ ৩/২৪, বশ ২/১২)।
ফল: দক্ষিণ আফ্রিকা ৭৬ রানে জয়ী।
ম্যান অব দ্য ম্যাচ: ডেভিড মিলার (দক্ষিণ আফ্রিকা)।




