কয়েকজন উপদেষ্টাকে অপসারণ করার দাবি

অর্থবহ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের জন্য অন্তর্বর্তী সরকারকে এই মুহূর্ত থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ভূমিকা পালনের দাবি জানিয়েছে বিএনপি। গতকাল মঙ্গলবার যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠকে দলটির পক্ষ থেকে ওই দাবি জানানো হয়। এ জন্য সর্বপ্রথম প্রশাসনকে পুরোপুরিভাবে নিরপেক্ষ করতে বলেছে দলটি। পাশাপাশি কয়েকজন উপদেষ্টাকেও অপসারণের দাবি জানানো হয়েছে।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ওই কথা জানান বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, রাজনৈতিক বিষয়ে কিছু উদ্বেগ নিয়ে আলাপ করার জন্য তারা প্রধান উপদেষ্টার কাছে গিয়েছিলেন।

বৈঠকের পর প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ করার জন্য যা প্রয়োজন, তা করা হবে বলে বিএনপিকে আশ্বস্ত করেছেন প্রধান উপদেষ্টা। তিনি বলেছেন, নির্বাচনের আগে প্রশাসনের যাবতীয় রদবদল সরাসরি তাঁর তত্ত্বাবধানে হবে।
জানা যায়, চলমান রাজনৈতিক সংলাপের অংশ হিসেবে বুধবার জামায়াতে ইসলামীর প্রতিনিধি দলের সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার বৈঠক হবে। গতকাল সন্ধ্যায় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক করে মির্জা ফখরুলের নেতৃত্বে ৩ সদস্যের প্রতিনিধি দল। অন্যরা হলেন আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও সালাহউদ্দিন আহমেদ। ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক শেষে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের বলেন, বৈঠকে ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচন, প্রশাসনের কিছু বিষয়সহ দেশের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। জাতীয় নির্বাচন সবার কাছে গ্রহণযোগ্য করে তোলার জন্য অন্তর্বর্তী সরকারকে এই মুহূর্ত থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আদলে নিতে হবে, অর্থাৎ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের যে ভূমিকা, সেই ভূমিকায় তাদের যেতে হবে। সে জন্য প্রথমেই প্রশাসনকে পুরোপুরিভাবে নিরপেক্ষ করতে হবে, যাতে জনগণের মধ্যে একটা আস্থা তৈরি হয়। মির্জা ফখরুল বলেন, সচিবালয়ে যারা এখনও আছেন, যাদের চিহ্নিত ফ্যাসিস্টদের দোসর বলা হয়; তাদের সরিয়ে নিরপেক্ষ কর্মকর্তা দেওয়ার জন্য আমরা বলেছি। জেলা প্রশাসনেও একইভাবে ব্যবস্থা নিতে হবে। আমরা মনে করি, তারা এখনও সেই ফ্যাসিস্ট সরকারের স্বার্থ পূরণ করছে। সে জন্য তাদের অপসারণের কথা আমরা বলেছি।
বৈঠকে পুলিশের নিয়োগ ও বদলির প্রক্রিয়া নিয়েও কিছু পর্যবেক্ষণ প্রধান উপদেষ্টার কাছে তুলে ধরেন বিএনপি নেতারা। জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে রাজনৈতিক নেতাদের সম্পৃক্ত করায় এবং ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ সফলভাবে সই করতে পারায় সরকারকে অভিনন্দনও জানান বিএনপি নেতারা। সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থাপনায় অগ্নিকাণ্ডে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন তারা। এসব ঘটনা অন্তর্ঘাতমূলক কিনা, সে বিষয়ে অনুসন্ধানেরও আহবান জানান বিএনপির প্রতিনিধিরা।




