শেরপুরে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালের স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একের পর এক সমালোচনার পর হাসপাতালে সেবার গুণগত মান উন্নয়নের লক্ষ্যে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২৫ আগস্ট সোমবার দুপুরে জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগে উদ্যোগে হাসপাতালের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক তরফদার মাহমুদুর রহমান। সভায় স্বাস্থ্যসেবার বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ, রোগীদের ভোগান্তি হ্রাস এবং সেবার মানোন্নয়নে করণীয় বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়।

সভায় বক্তারা বলেন, জেলা সদর হাসপাতালে লোকবল সংকট তীব্রতর হয়ে উঠেছে। দালাল, ছিনতাইকারীদের অত্যাচারে প্রতিনিয়ত মানুষ ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। আর হাসপাতালে ময়লা-আবর্জনার দুর্গন্ধে সুস্থ মানুষও অসুস্থ হয়ে পড়ছে। এছাড়া রাতের বেলা হাসপাতালটি অরক্ষিত হয়ে মাদকসেবী ও সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্য হয়ে ওঠে। এসব বিষয় নিয়ে গত কয়েকদিন ধরেই গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে এসব সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার আহবান জানান বক্তারা।
এসব অভিযোগে প্রেক্ষিতে সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক তরফদার মাহমুদুর রহমান স্বাস্থ্য বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট সকলের সমন্বিত প্রচেষ্টায় সদর হাসপাতালের সেবার মান আরও উন্নত করার পরামর্শ দেন। সেইসাথে আলোচনায় ওঠে আসা সমস্যাগুলো দ্রুত সময়ের মধ্যে সমাধান করতে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন। এছাড়া ছোট একটি কমিটি করে সপ্তাহে অন্তত একদিন কোন রকম নোটিশ ছাড়া হাসপাতাল সরজমিনে দেখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

সভায় অন্যান্যের মধ্যে শেরপুরের সিভিল সার্জন ডা. মুহাম্মদ শাহীন, জেলা সদর হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডা. মো. সেলিম মিঞা, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোসা. হাফিজা জেসমিন, স্থানীয় সরকার বিভাগের ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক ও পৌর প্রশাসক শাকিল আহমেদ, শেরপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি কাকন রেজা, সাধারণ সম্পাদক মাসুদ হাসান বাদল, জেলা বিএনপির আহবায়ক অ্যাডভোকেট মো. সিরাজুল ইসলাম, জেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা হাফিজুর রহমান, সাবেক সেক্রেটারি মাওলানা জাকারিয়া মো. আব্দুল বাতেন, বিএনপি নেতা আওয়াল চৌধুরী, জেলা এনসিপির প্রধান সমন্বয়কারী প্রকৌশলী মো. লিখন মিয়া, জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক আহবায়ক মামুনুর রহমানসহ জেলার গুরুত্বপুর্ণ কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।




