হামলায় জড়িতদের বিচার দাবি
শেরপুরের নকলা উপজেলার বারইকান্দি গ্রামে নবম শ্রেণির ছাত্র শাকিলের (১৬) ওপর বর্বরোচিত হামলার ঘটনাকে ভিন্নখাতে প্রবাহের চেষ্টার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বিএনপি। একই সাথে ওই হামলার ঘটনায় জড়িত প্রকৃত দোষীদের দ্রুত শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে দলটি। ২৩ জুন সোমবার রাতে নকলা উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব মো. মাহমুদুল হক দুলাল সাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে ওই দাবি জানানো হয়।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘বিগত ১৭ জুন নকলা উপজেলার ১নং গণপদ্দী ইউনিয়নের বারইকান্দি গ্রামের নবম শ্রেণির ছাত্র শাকিল (১৬) সন্ত্রাসী হামলায় গুরুতর আহত হয় এবং তার একটি পা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। উল্লেখ্য যে, পলাতক ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ রাজনৈতিকভাবে দেউলিয়া হয়ে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের ষড়যন্ত্র করে আসছে এবং জনমনে মিথ্যা বিভ্রান্তি ছড়ানোসহ বিএনপির উপর দায় চাপানোর অপচেষ্টায় লিপ্ত। আহত শাকিল একজন স্কুলপড়ুয়া ছাত্র। সে কোন রাজনৈতিক দলের সাথে সম্পৃক্ত নয়। যারা তাকে এই ন্যাক্কারজনক হামলা করে আহত করেছে তারা বিএনপি কিংবা বিএনপির কোন অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের কেউ নয়। নকলা উপজেলা বিএনপি এই হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানায়। সেই সাথে উক্ত হামলায় জড়িত দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছে।’
প্রেস বিজ্ঞপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করে উপজেলা বিএনপির আহবায়ক খোরশেদুর রহমান বলেন, স্কুলছাত্র শাকিলের কোনো রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা না থাকলেও তার ওপর পরিকল্পিতভাবে হামলা করা হয়েছে। আর ওই ঘটনাকে পুঁজি করে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব ছড়াচ্ছে। যা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এতে স্থানীয়ভাবে ব্যাপক উদ্বেগ ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। আমরা স্পষ্টভাবে জানাচ্ছি আমাদের দলের কেউই এ ঘটনার সাথে জড়িত নয়। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করছি। একইসাথে হামলার ঘটনায় দোষীদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি গুজব ছড়ানো ব্যক্তিদেরও শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।

উল্লেখ্য, গত ১৫ জুন তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে নকলা উপজেলার বারইকান্দি উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণিপড়ুয়া শাকিলের উপর অতর্কিত হামলা চালায় একই স্কুলের ছাত্র হাসিবুলসহ কয়েকজন। ওইসময় শাকিলের হাতে ও বাম পায়ে দা দিয়ে এলোপাথারি কুপিয়ে গুরুতর কাটা রক্তাক্ত জখম করে হাসিবুলসহ অন্যরা। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে শাকিলের পা কেটে ফেলতে হয়। ওই ঘটনায় হাসিবুলসহ ৫ জনকে আসামি করে নকলা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন শাকিলের বাবা মো. আমির হোসেন। পরে আমির হোসেন ছেলের কাটা পা হাতে নিয়ে নকলা সেনা ক্যাম্প, থানা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় এবং শেরপুর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে গিয়ে বিচার দাবি করলে ঘটনাটি আলোচিত হয়ে ওঠে।




