বিদ্যমান পদ্ধতির চেয়ে ভার্টিকাল এক্সপানশন গভীর পানির স্তর ব্যবহার করে একই পুকুরে চারগুণ বেশি উৎপাদনের লক্ষ্য নিয়ে আধুনিক উন্নত আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) প্রযুক্তির মাধ্যমে মাছ চাষ কার্যক্রমে উদ্বোধন করা হয়েছে। ১০ মার্চ সোমবার ময়মনসিংহ জেলার ত্রিশাল উপজেলা প্রশাসনের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার মোহাম্মদ মোখতার আহমেদ।

ওইসময় উপস্থিত ছিলেন ত্রিশাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল বাকিউল বারী, ত্রিশাল পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা কাবেরী জালাল, উপজেলা সহকারী কমিশনার(ভূমি) মাহবুবুর রহমান, উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা শামসুজ্জামান মাসুম, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ শহিদুল্লাহ, উপজেলা সমাজ সেবা অফিসার মাহমুদুল হাসান প্রমুখ।
মাছ চাষে এআই প্রযুক্তির ব্যবহার বিশ্বের বিভিন্ন দেশে হয়। এ পদ্ধতিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক আ্যকুয়াকালচার ৪.০ প্রযুক্তির অটোমেশন ডিভাইস ও ভার্টিকাল এক্সপানশন প্রযুক্তির সমন্বিত ব্যবহারে পুকুরের সামগ্রিক চলমান ওয়েব ও মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন এর মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করা হয়। এমন পদ্ধতি গ্রহণের মূল উদ্দেশ্য অল্প জায়গায় কিভাবে ৩ থেকে ৪ গুণ মাছ উৎপাদন করা যায় এবং ম্যানুয়াল লেবার বা কায়িক শ্রম এর পরিমাণ কমানো। এক একর জমির একটি পুকুরে এই প্রযুক্তির ব্যবহারে সেন্সর ও অন্যান্য প্রযুক্তিগত সামগ্রিক ক্রয় ও ইনস্টলমেন্টে খরচ হবে সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ টাকা।

উদ্বোধনকালে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে প্রধান অতিথি বলেন, দেশে সবচেয়ে বেশি মাছ উৎপাদন হয় ময়মনসিংহে। সেইক্ষেত্রে আমাদের এই নতুন উদ্ভাবন প্রকল্পটি মাছ চাষে আরো সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। তিনি আরও বলেন, এ প্রকল্পটি বর্তমানে পরীক্ষামূলক পর্যায়ে আছে, এই উপজেলার ১২টি ইউনিয়নে এই প্রকল্পের কার্যক্রম পরীক্ষামূলকভাবে চালানো হবে। যাতে করে মাছ চাষীরা এই পদ্ধতিতে মাছ চাষে আগ্রহী হয়।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ত্রিশাল উপজেলা সরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা – কর্মচারী এবং প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার গণমাধ্যম কর্মী।
এর আগে উপজেলার কানিহারী ইউনিয়নের একটি সরকারি পুকুরে এ আই পদ্ধতিতে মাছ চাষ করে সফলতা পেয়েছে উপজেলা প্রশাসন। এরই প্রেক্ষিতে উপজেলা পরিষদের সরকারি পুকুরটি পুনরায় খনন করে মাছ চাষের জন্য উপযুক্ত করা হয়। জানা গেছে, ভার্টিকাল এক্সপানশন গভীর পানির স্তর ব্যবহার করে একই পুকুরে বেশী মাছ চাষ করা হয়। এই পদ্ধতিতে মাছ চাষ করতে এগিয়ে আসার জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও মৎস্য চাষীদের সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন উপজেলা প্রশাসন।




