শেরপুরে আলু, পেঁয়াজ, ভোজ্যতেল সহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের বাজারমূল্য নিয়ন্ত্রণে স্টেকহোল্ডারদের সাথে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ৪ ডিসেম্বর বুধবার দুপুরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষ রজনীগন্ধায় ওই মতবিনিময় সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। ভোক্তা অধিকার সংগঠন কনজ্যুমারস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) এবং জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহযোগিতায় জেলা প্রশাসন ওই সভাটির আয়োজন করে। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক তরফদার মাহমুদুর রহমান।

সভায় জেলা প্রশাসক বলেন, আমরা যদি স্বচ্ছ এবং সচেতন হই এবং আমাদের কৃষি পণ্য উৎপাদনে আন্তরিক হই তাহলে আমাদের আলু-পেঁয়াজের জন্য ভারতের মুখাপেক্ষী হতে হবে না। খাদ্যসহ সকল প্রকার কৃষি পণ্য উৎপাদনে উদ্বৃত্ত থাকবে। তিনি আরও বলেন, বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের পক্ষ নিয়মিত বাজার তদারকি ও ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে। আমরা আশাকরি ব্যবসায়ীরা মুনাফা করবেন, এটা ঠিক। কিন্তু সেটা যেন অবশ্যই যৌক্তিক পর্যায়ে থাকে। এজন্য তিনি নিজেদের নৈতিকতা উন্নয়নের ওপর জোড় দেন। তাছাড়া ভোক্তাদেরও আরো সচেতন হওয়ার ওপর গুরুত্ব আরোপ করে বলেন, বাজারে কোন জিনিসের সংকট হলেই অনেকেই হুমড়ি খেয়ে পড়েন, এই প্রবণতা থেকে বেড়িয়ে আসতে হবে।
ওইসময় বক্তারা পাইকারি বাজার থেকে খুচরা বাজারে দ্রব্যমূল্যের দাম বিশাল ফারাক নিয়ন্ত্রণে এবং সিন্ডিকেট ভাঙতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোসা. হাফিজা জেসমিনের সভাপতিত্বে মতবিনিময়র সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন জেলা ক্যাবের সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক হাকিম বাবুল। জেলা জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. আরিফুল ইসলামের সঞ্চালনায় সভায় আরও বক্তব্য রাখেন জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রেজওয়ান, জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. সাখাওয়াত হোসেন, জেলা মৎস্য অধিদপ্তরের সিনিয়র সহকারী পরিচালক সুলতানা লায়লা তাসনীম, জেলা কৃষি বিপণন কর্মকর্তা ফাতেমা বেগম, শেরপুর প্রেসক্লাবের কার্যকরী সভাপতি রফিক মজিদ, জেলা টাস্কফোর্স কমিটির সদস্য ছাত্র প্রতিনিধি মামুনুর রহমান প্রমুখ।
মতবিনিময় সভা শেষে দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণ, কার্ডের মাধ্যমে নিত্যপণ্য বিক্রী এবং টিসিবি’র ট্রাক সেলের পরিমাণ বাড়নো, বাজার মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করা, আলাদা কনজ্যুমারস মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠাসহ ৮ দফ দাবিতে ক্যাবের পক্ষ থেকে ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবরে লিখিত একটি স্মারকলিপি জেলা প্রশাসকের নিকট হস্তান্তর করা হয়। ওইসময় ক্যাবের সভাপতি সুশীল মালাকারসহ সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, সাংবাদিক, ক্যাব সদস্য, ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন পর্যায়ের সুধীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।




