সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ বলেছেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও তারুণ্যের চেতনায় দেশে একটি নব শক্তির উত্থান ঘটেছে। সমগ্র জাতি আজ স্বপ্ন দেখছে বৈষম্যহীন ও শোষণমুক্ত সমাজ গড়ার। বর্তমান তরুণসমাজ জাতিকে একটি সমৃদ্ধ রাষ্ট্র প্রতিষ্টার অঙ্গিকার নিয়ে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার নেতৃত্ব দিচ্ছে। তিনি বলেন, ভোট না দিয়ে সরকার এনে তাদের বলেন নির্বাচিত সরকার। আমরা কোনো তথাকথিত সরকার নই। প্রধান উপদেষ্টা ড.ইউনুস এর নেতৃত্বে আমরা একটি বিতর্কমুক্ত সত্যিকারের ভোটের পরিবেশ তৈরী করতে চাই। ২০২৪ সালের আমাদের সন্তানদের আত্মত্যাগ ভোলা যায় না। ৭১ এর মুক্তিযোদ্ধাদের উত্তরসূরি এরা। ৯ সেপ্টেম্বর সোমবার অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের এক মাস পূর্তিতে সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় গৃহীত ব্যবস্থাদি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংতিনি এসব কথা বলেন। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো: খায়রুল আলম সেখ; মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব নাজমা মোবারেক এসময় উপস্থিত ছিলেন।

তিনি আরও বলেন, একাত্তরে অন্যায় হয়েছিল এর বিরুদ্ধে বীর বাঙ্গালী রুখে দাড়িয়েছিল। ২০২৪ সালেও অন্যায় হয়েছে এবার আমাদের সন্তানের রুখে দাড়িয়েছে। তাদের বুকের তাজা রক্তের বিনিময় এক নতুন বাংলাদেশ দিয়ে গেছে। আমরা যে রাষ্ট্র বা সমাজ নির্মাণ করেছিলাম আমাদের বাচ্চাদের সে সমাজ বা রাষ্ট্র ব্যবস্থা পছন্দ হয়নি। তারা এক নতুন রাস্ট্র নির্মাণে রাস্তায় নেমেছে রুখে দাড়িয়েছে। আমরা বড়রা ন্যায় অন্যায়ে স্থুল ছিলাম । এই বাচ্চারা আমাদের শিক্ষা দিয়েছে যে অন্যায় আর সহ্য করবো না। এই বাচ্চারা আমাদের শেকড়কে নাড়া দিয়েছে।
সমাজকল্যাণ উপদেষ্টা বলেন, আমি গর্বিত ড. ইউনুসের দলে অন্তর্ভুক্ত হতে পেরে। আমরা স্বচ্ছতা ও সততার সাথে অর্পিত দায়িত্ব পালন করবো। বির্নিমাণ না হলে নির্মাণ করা যায় না। মেরামত সংস্কার ও পুন:গঠন করতেই হবে। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা শুরু করতে হবে। দুর্নীতি দমন এবং কৃচ্ছতা সাধনের কথা উল্লেখ করে বলেন এমন কাজ কেনো করবো যে, দেশ থেকে পালাতে হবে।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে, কোনো কাজই বন্ধ থাকবে না। তরুণদের সুস্থ্য করে মূল ধারায় নিয়ে আসতে হবে। তাদের একটি নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। অপর এক প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, একটি সুস্থ্য পরিবেশ নিশ্চিত করতে যে সময় লাগবে তার চেয়ে একদিনও বেশি আমরা ক্ষমতায় থাকবো না বা আপনারা যখন মনে করবেন আমাদের প্রয়োজন নেই সে পর্যন্ত আমরা থাকবো। আমাদের লক্ষ্য জাতিকে একটি নির্ভূল নির্বাচন উপহার দেয়া।
গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আমরা একসাথে কাজ করতে চাই। আপনি আমার সমালোচনা করুন কিন্ত এক সাথে থেকে কাজ্ও করুন। সমালোচনার যায়গায় সমালোচনা আর কাজের যায়গা কাজ। এভাবেই আমরা প্রতিষ্ঠা করতে চাই সুন্দর এক সমাজ।




