রাষ্ট্রের অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টকে আরও প্রশিক্ষণের তাগিদ দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। ৬ জুলাই শনিবার প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের (পিজিআর) ৪৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে এ তাগিদ দেন তিনি।

প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের উদ্দেশ্যে রাষ্ট্রপতি বলেন, নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রশিক্ষণ জরুরি। অতীত ও ইতিহাসের শিক্ষা নিয়ে আগামী আলোকিত করতে পিজিআরকে কাজ করে যেতে হবে। মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টে অত্যাধুনিক অস্ত্র-সরঞ্জামের অন্তর্ভুক্তির ফলে অপারেশনাল দক্ষতা আরও বাড়বে।’
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের কালরাতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার পরিবারের বেশিরভাগ সদস্যের হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে সাহাবুদ্দিন বলেন, দুঃখজনক হলেও এটি সত্যি যে, পিজিআর প্রতিষ্ঠার মাত্র ৪২ দিনের মাথায় মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতাবিরোধী ঘাতক চক্রের হাতে বঙ্গবন্ধু ও বেগম ফজিলাতুন নেছা মুজিবসহ তার পরিবারের সদস্য বিপদগামী একদল সেনা কর্মকর্তার নির্মম বুলেটের আঘাতে ধানমন্ডির ৩২নং বাড়িতে শহীদ হন। সেদিন আমরা আমাদের স্বাধীনতার স্বপ্নদ্রষ্টাকে রক্ষা করতে পারিনি, সেটা ছিল আমাদের অমার্জনীয় অপরাধ।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘সেদিন যদি পিজিআর আজকের মতো সুসংগঠিত ও চৌকস হতো তাহলে হয়তোবা ১৫ আগস্ট কালরাতে জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যা করতে পারতো না ঘাতক দল। বাঙালি ও বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির ইতিহাস অন্যরকম হতে পারতো। দেশ পরিণত হতো জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলায়।’
পিজিআর সদস্যদের কর্তব্যপরায়ণতা, নিষ্ঠায় অটল এবং ‘চেইন অব কমান্ডে’র প্রতি আস্থাশীল থেকে তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব সুষ্ঠুভাবে পালনের নির্দেশ দেন রাষ্ট্রপতি। রাষ্ট্রপ্রধান বলেন, ‘চেইন অব কমান্ডের প্রতি আস্থাশীল থেকে আপনাদের ওপর অর্পিত যেকোনো দায়িত্ব সুষ্ঠুভাবে পালন করবেন।’
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বিশেষায়িত এই ইউনিট ১৯৭৫ সালের জুলাইয়ে প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠার ৪৯ বছর পূর্তির অনুষ্ঠানে অংশ নেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। জাতীয় সঙ্গীত বাজিয়ে তাকে সালাম জানান উপস্থিত পিজিআর সদস্যরা।
এর আগে ৪৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন সকালে পিজিআর সদর দপ্তরে পোঁছালে তাঁকে অভ্যর্থনা জানান সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, ওএসপি, এসজিপি, পিএসসি। ওইসময় রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব এবং পিজিআর কমান্ডারসহ জ্যেষ্ঠ সামরিক ও অসামরিক কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।




