শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে ৫ কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা সংস্কার-সম্প্রসারণ ও পাকাকরণের অভাবে ১২ গ্রামের মানুষের চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। উপজেলার নলকুড়া ইউনিয়নের নুনখোলা খেকে কাংশা ইউনিয়নের নওকুচি সীমান্তের বানাইপাড়া পর্যন্ত ৫ কিলোমিটার কাঁচা রাস্তায় যাতায়াতে ওই দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন স্থানীয়রা। তাই দ্রুত সময়ের মধ্যে ওই রাস্তাটি পাকাকরণের দাবি তাদের।

জানা যায়, ওই রাস্তা দিয়ে ডেফলাই, গান্দিগাও, রাংটিয়া, শালচুড়া নওকুচি, হালচাটি, গজনী, ফুলহাড়ি, ডাকাবর, নুনখোলা, ভালুকা ও ঝিনাইগাতী সদর গ্রামের হাজারও মানুষ প্রতিদিন যাতায়াত করে থাকে। দেশ স্বাধীনের পর থেকেই এ রাস্তাটি পাকাকরণের দাবি উঠে গ্রামবাসীর পক্ষ থেকে। বিভিন্ন সময় আশ্বাসও পাওয়া গেছে প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে। কিন্তু দীর্ঘ ৫২ বছরেও ওই কাঁচা রাস্তাটি সংস্কার, সম্প্রসারণ ও পাকাকরণ করা হয়নি। ফলে ওই পথে যাতায়াতকারী হাজারও পথচারীর চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
কাংশা ইউনিয়নের নওকুচি ৮ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য গোলাপ হোসেন বলেন, ওই রাস্তার চারপাশে ৪টি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ২ টি উচ্চ বিদ্যালয়, ৫টি কিন্ডারগার্টেন ও ৪টি মাদ্রাসা রয়েছে। শুস্ক মৌসুমে যেমন তেমন, বর্ষা মৌসুমে কাদা পানিতে ভিজে স্কুল কলেজে যেতে হয় শিক্ষার্থীদের। ওইসময় শিক্ষার্থীসহ পথচারীদের দুর্ভোগের সীমা থাকে না। ওই পথে যানবাহন চলাচল তো দূরের কথা, পায়ে হেঁটে যাতায়াতও কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে।

ডেফলাই গ্রামের কৃষক জামাল মিয়া, শালু মিয়া, কৃষানী ফাতেমা বেগম, নওকুচি গ্রামের কফিল উদ্দিন মন্ডলসহ স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, এ রাস্তার দুপাশে উৎপাদিত কৃষি পণ্য বাজারজাত করতে ও গবাদিপশু আনা-নেওয়া করতে কৃষকদের নানা বিড়ম্বনার শিকার হতে হচ্ছে। নির্বাচনের সময় এলে প্রার্থীরা রাস্তাটি পাকা করে দেয়ার আশ্বাস দিয়ে শুধু আমাদের কাছে ভোট নেয়। কিন্তু নির্বাচনের পর কেউ আর আমাদের খোঁজ-খবর নেন না। তারা রাস্তাটি সংস্কার ও পাকাকরণের দাবি জানান।
নলকুড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রুকুনুজ্জামান ও কাংশা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আতাউর রহমান বলেন, রাস্তাটি সংস্কার, সম্প্রসারণ ও পাকাকরণের দাবি দীর্ঘদিনের। তারা বলেন, কৃষির উন্নয়ন ও পথচারীদের দুর্ভোগ লাঘবে রাস্তাটি সংস্কার করা জরুরি হয়ে পড়েছে। বিষয়টি উর্ধ্বতন মহলকে বারবার জানানো হয়েছে।
এ ব্যাপারে এলজিইডি’র ঝিনাইগাতী উপজেলা প্রকৌশলী শুভ বসাক বলেন, শেরপুর উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় রাস্তাটির নাম তালিকাভূক্ত করা হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলেই রাস্তাটি পাকা করা হবে।




