জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মহাসড়কের (ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ে) মাদারীপুর জেলার শিবচরের কুতুবপুর এলাকায় ঢাকাগামী ইমাদ পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস খাদে পড়ে ১৯ যাত্রী নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছে কমপক্ষে ২৮ জন। রবিবার সকাল পৌনে ৮টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। বাসের ভেতর থেকে ১৫ জনের মরদেহ এবং হাসপাতালে নেওয়ার পথে আরও দুজন এবং হাসপাতালে আরও দুজনের মৃত্যু হয়।

শিবচর হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু নাঈম মো. মোফাজ্জেল হক এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বাসের ভেতর থেকে ১৫ জনের মরদেহ এবং হাসপাতালে নেওয়ার পথে আরও দুজনের মৃত্যু হয়। আর ঢাকা মেডিকেলে নেওয়ার পর মারা যান আরও দুজন। মরদেহগুলো রাখা হয়েছে শিবচর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে।
জানা গেছে, রবিবার সকাল ৮টার দিকে শিবচরের এক্সপ্রেসওয়ের কুতুবপুর এলাকার ঢাকাগামী লেনে ইমাদ পরিবহনের বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রেলিং ভেঙে উল্টে নিচে পড়ে যায়। দুর্ঘটনার পর হাইওয়ে পুলিশ, শিবচর থানার পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের দল উদ্ধার তৎপরতা শুরু করে।

আহতদের মধ্যে বাসযাত্রী ফয়সাল আহমেদ (৩৬), আ হামিম (৫০), বদরুদ্দোজা (৩০), পঙ্কজ কান্তিজ ঘোষ (৪০), ঝুমা (৩৪), বুলবুল (৫০) ও এনামুল (৪০) ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। চিকিৎসকের বরাত দিয়ে ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির সহকারী ইনচার্জ (এএসআই) মো. মাসুদ এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত ৯ জনকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছে। এর মধ্যে অজ্ঞাতনামা দুই ব্যক্তিকে হাসপাতালে নিয়ে আসার পর চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন। বাকি সাতজনের মধ্যে দু-তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। সবাইকে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
ফায়ার সার্ভিস ফরিদপুর জোনের উপসহকারী পরিচালক শিপলু আহম্মেদ বলেন, ‘বাসটিতে মোট ৫৪টি আসন রয়েছে। প্রতিটি আসন এবং সামনের ইঞ্জিনের কাভারেও যাত্রী ছিল। এর মধ্যে যাঁরা সামনের দিকে বসে ছিলেন, তাঁদের মৃত্যুই বেশি ঘটেছে।’ বাসে কমপক্ষে ৬০ জন যাত্রী ছিলেন জানিয়ে এই কর্মকর্তা বলেন, ‘যাত্রীদের প্রায় সবাই আহত হয়েছেন। আমরা খবর পাওয়ার পরে ঘটনাস্থলে এসে ১৪ জনকে মৃত হিসেবে শনাক্ত করি। তাঁদের উদ্ধারের পরে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করি। হাসপাতালে নেওয়ার পরে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানতে পারি। এখানে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট কাজ করছে। আমাদের উদ্ধারকাজ এখনো চলমান রয়েছে।’




