ads

শনিবার , ৪ মার্চ ২০২৩ | ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধনপ্রাপ্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  1. ENGLISH
  2. অনিয়ম-দুর্নীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আমাদের ব্লগ
  6. ইতিহাস ও ঐতিহ্য
  7. ইসলাম
  8. উন্নয়ন-অগ্রগতি
  9. এক্সক্লুসিভ
  10. কৃষি ও কৃষক
  11. ক্রাইম
  12. খেলাধুলা
  13. খেলার খবর
  14. চাকরির খবর
  15. জাতীয় সংবাদ

বিশ্ব বন্যপ্রাণী দিবস আজ

শ্যামলবাংলা ডেস্ক - ফটো কার্ড
মার্চ ৪, ২০২৩ ১২:৪৮ অপরাহ্ণ

আজ শুক্রবার, ৩ মার্চ। বিশ্ব বন্যপ্রাণী দিবস। ‘সকলের অংশগ্রহণ, বন্যপ্রাণী হবে সংরক্ষণ’ এ শ্লোগানে সারাদেশে নানা আয়োজনে পালিত হচ্ছে দিবসটি। ‌পাশাপাশি জাতিসংঘভুক্ত দেশগুলো এ দিবসটি পালন করে আসছে।

Shamol Bangla Ads

এদিকে বাংলাদেশে বন্যপ্রানী পাচারের ঘটনা অহরহ ঘটছে। জেল জরিমানাও করে ঠেকানো যাচ্ছে না। বন্যপ্রাণী উদ্ধার অভিযান প্রক্রিয়ায় দেশের আর্ন্তজাতিক বিমান বন্দর ও সীমান্ত চেকপোষ্টগুলোতে প্রায় সময়ই বন্যপ্রানীসহ পাচারকারীরা আটক হচ্ছে। জেল জরিমানা করা হলেও কারামুক্ত হয়ে আবারো এই পাচারের কাজে লিপ্ত হচ্ছে পাচারকারীরা। এদের রয়েছে শক্ত সিন্ডিকেট। কোনোভাবে বন্যপ্রাণী পাচার সিন্ডিকেটকে নির্বিকার করা যাচ্ছে না।

বন বিভাগ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বলছেন, ইউএস ‘এলিমিনেট, নিউট্রালাইজ অ্যান্ড ডিসরাপ্ট ওয়াইল্ড লাইফ’ ট্রাফিকিং প্রতিবেদনে বিশ্বের ২৮ দেশের তালিকায় বাংলাদেশও রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, বন্যপ্রাণী পাচারের অন্যতম রুট হিসেবে বাংলাদেশকে বিবেচনা করা হয়। দেশের সংরক্ষিত বনাঞ্চল থেকে বিলুপ্ত বন্যপ্রাণী ধরে যেমন পাচার করে একটি চক্র। আবার অন্যদেশ থেকে আনা বন্যপ্রাণীও বাংলাদেশ হয়ে পাচার হয়। তবে সবচেয়ে বেশি পাচার হচ্ছে বিভিন্ন প্রজাতির পাখি। সচেতনতার অভাবেও এসব অপরাধ সংগঠিত হচ্ছে বলে মনে করছেন বন বিভাগ সংশ্লিষ্টরা।

Shamol Bangla Ads

জানা যায, ২০১৩ সালের ২০ ডিসেম্বর জাতিসংঘের ৬৮তম সাধারণ অধিবেশনে ৩ মার্চকে বিশ্ব বন্যপ্রাণী দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়। ২০১৪ সালে প্রথম দিবসটি পালন করা হয়। বিশ্বের বন্যপ্রাণী এবং উদ্ভিদকূলের প্রতি সচেতনতা বৃদ্ধি করা এই দিবসের মূল লক্ষ্য। এ উপলক্ষে আগামী রোববার পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়েরর উদ্যোগে ঢাকার আগারগাঁওয়ের বন ভবনে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। এতে প্রধান অতিথি হিসাবে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিনের উপস্থিত থাকবেন।

এদিকে বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের (বনবিভাগ) পরিচালক মো. সানাউল্লাহ পাটোয়ারী বলেন, বন্যপ্রাণী পাচার করা যে অপরাধ তাও অনেকে জানে না। অনেকে অভাবের কারণে, অনেকে কাজের জন্য, অনেকে আবার শখ করেও এই অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। আমরা তাই শাস্তিমূলক ব্যবস্থার পাশাপাশি সচেতনতার ওপর জোর দিচ্ছি। বিষয়টি একদিন বা দুইদিনে সমাধান সম্ভব নয়। আবার একেবারে নির্মূল করা যাবে কিনা তাও নিশ্চিত করে বলা যায় না। কারণ বনের কাছাকাছি বসবাসকারীরা বিপদে পড়লে এসবে আবার জড়িয়ে পড়তেই পারে।

তিনি বলেন, আমরা আগের চেয়ে অনেক কঠোর অবস্থানে গিয়েছি। নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছি। আশা করছি এই অপরাধ প্রবণতা কমে আসবে। প্রাণীরা বনে নিরাপদে থাকতে পারবে।

বন বিভাগের জরিপে দেখা যায়, গত বছরের জুন মাসে বন সংরক্ষণের ৬৩ অভিযানে ৩৩৪টি বন্যপ্রাণী উদ্ধার হয়। এরমধ্যে পাখি ২৮৭টি, মেছো বিড়াল, বানর, কচ্ছপ ও শিয়াল ৫টি করে। হনুমান, বেজি এবং গুইসাপ একটি করে, সাপ ২০টি এছাড়া ২টি করে গন্ধগোকুল ও তক্ষক উদ্ধার করা হয়। এরপরের মাস অর্থ্যাৎ জুলাই মাসে ৪১ অভিযানে ৩১৪টি বন্যপ্রাণী উদ্ধার হয়। এরমধ্যে পাখি ১৩১টি, সবুজ ব্যাঙ ১৫০টি, মেছো বিড়াল ২টি, বনবিড়াল ৭টি, মায়া হরিণ ২টি, গুইসাপ ৫টি, গন্ধগকুল ৬টি, বানর ২টি, সাপ ৮টি।

এছাড়া ওই বছরের আগস্ট মাসে ৫২ অভিযানে ৩২১ টি বন্যপ্রাণী উদ্ধার হয়। এরমধ্যে পাখি ২৬৮টি , বনবিড়াল ৫ টি, শিয়াল-৫টি, কড়িকাইট্টা-১৬টি, কাঠবিড়ালি-২টি, গন্ধগকুল ১টি, তক্ষক ১০টি, সাপ ৮টি, বানর ৪টি, হনুমান-২টি। সেপ্টেম্বর মাসে ৫৩ অভিযানে ৫৭৪টি বন্যপ্রাণী উদ্ধার করা হয়। যারমধ্যে বনবিড়াল ৩টি, শিয়াল-২টি, কাঁঠ বিড়ালি ১টি, বেজি ২টি, গন্ধগকুল ৩টি, মেছো বিড়াল ২টি, সুন্ধিকাছিম ১টি, পাখি ৫২৯টি, তক্ষক ২টি, সাপ ২১টি, বানর ৪টি, হনুমান ১টি এবং গুইসাপ ৩টি। পাশাপাশি অক্টোবর মাসে ৪৮ অভিযানে ৭৯৬টি বণ্যপ্রাণী উদ্ধার হয়। এগুলোর মধ্যে শিয়াল ২টি, কড়িকাইট্টা ৩০টি, মেছো বিড়াল ২টি, সুন্ধিকাছিম ১টি, পাখি ৭৩৩টি, সাপ ১৯টি, বানর ৭টি, গুইসাপ ২টি।

সে বছরের নভেম্ব মাসে ৫১ অভিযানে ৫০৪টি বন্যপ্রাণী উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত বন্যপ্রাণীর মধ্যে ৩৪৩টি বিভিন্ন প্রজাতির পাখি রয়েছে। এছাড়া সাপ ১৪টি, বানর ৬টি, বাঘাআইড় মাছ ১টি, হনুমান-২টি, লোনা পানির কুমির ১টি, কাড়িকাইট্টা ৮০টি, বনবিড়াল-১টি, সুন্ধিকাছিম ৫৫টি, বেজি একটি।

গত ডিসেম্বরে ৩৬টি অভিযানে ২৭৪টি বন্যপ্রাণী উদ্ধার হয়। এরমধ্যে সুন্ধি কচ্ছপ ১৪টি, শিয়াল-১টি, বনবিড়াল ২টি, গন্ধগকুল ২টি, বেজি ১টি, পাখি ২৪১টি, সাপ ৬টি, বানর ৬টি, হনুমান-১টি এছাড়া চলতি বছরের জানুয়ারী মাসে ৩৬ অভিযানে ৩১৫টি বন্যপ্রাণী উদ্ধার হয়। এরমধ্যে সজারু-১টি, শিয়াল-২টি, বনবিড়াল ৯টি, গন্ধগকুল ১টি, ভালুক শাবক ২টি, পাখি ২৮০টি, সাপ ৩টি, বানর ১২টি, গ্রিভেট বানর ৪টি এবং গুইসাপ ১টি।

এ বিষয়ে বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের (বনবিভাগ) সহকারী পরিচালক আনোয়ারুল হক বলেন, বন্যপ্রাণী উদ্ধার অভিযানে প্রাণী উদ্ধারের পাশাপাশি সচেতনতা বাড়াতেও কাজ করছে বন অধিদফতরের একটি ইউনিট।

গত জুনে দেখা যায়, এই ইউনিট ১৫টি বন্যপ্রাণী বিষয়ক অনলাইন সভা করেছে। সচেতনতামূলক লিফলেট, পোস্টার, বুকলেট এবং স্টিকার বিতরণ করেছে ২ হাজার ৪০০টি। পাশাপাশি বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন- ২০১২ বিষয়ে সচেতন করা হয় ২৪০০ জনকে, বন্যপ্রাণী অপরাধ এবং বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ বিষয়ক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় ২টি, ১ আসামির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়, ২টি মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ৪ আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদ- ও জরিমানা করা হয়। তক্ষক পাচারের দায়ে ১১ আসামির বিরুদ্ধে থানায় ২টি মামলা দায়ের করা হয়। প্রতিমাসেই অভিযান চালানো হচ্ছে। তিনি বলেন, বন্যপ্রাণী ধরা, মারা, খাওয়া, ক্রয়-বিক্রয়, পাচার, দখলে রাখা বা শিকার করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।

Need Ads