শেরপুরে ‘ডিবি হেফাজতে’ কৃষকদল নেতা আবু বক্কর সিদ্দিক বাচ্চুর মৃত্যুর ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২০ সেপ্টেম্বর রবিবার দুপুরে শেরপুর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত ওই সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন নিহতের ছেলে মোকারম ইসলাম মহন।

লিখিত বক্তব্যে তিনি অভিযোগ করেন, তার বাবা জেলা কৃষকদলের সহসভাপতি আবু বক্কর সিদ্দিক বাচ্চুকে ২০১২ সালের ৩ ডিসেম্বর মধ্যরাতে কোন মামলা ছাড়াই মারধর করে ধরে নিয়ে যায় ডিবি পুলিশের একটি দল। পরদিন ভোরে ডিবি অফিস থেকে জানানো হয়, তার বাবা ডিবি অফিসে মৃত্যুবরণ করেছেন। পরে পুলিশ পাহারায় তার লাশ দাফন করা হয়। পরবর্তীতে মামলা করতে চাইলে উল্টো তাদের পরিবারের ওপর নির্যাতনের খড়গ নেমে আসে। তাদের তিন ভাইয়ের বিরুদ্ধে দেওয়া হয় বেশ কয়েকটি মামলা।
তিনি আরও বলেন, ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে ডিবি হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনায় ২০২৫ সালের ২৯ জুন আদালতে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হলে সেটির তদন্তভার পায় পিবিআই। দীর্ঘ এক বছর তদন্ত শেষে ২০২৬ সালের ১৪ জুলাই পিবিআই আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই জামালপুরের পুলিশ সুপার পংকজ দত্ত। প্রতিবেদনে বলা হয়, এই ঘটনার কোন সত্যতা পাওয়া যায়নি।

মহনের অভিযোগ, তদন্তের সময় তাদের ঘটনার সত্যতার বিষয়ে আশ্বস্ত করা হলেও পরবর্তীতে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে মিথ্যা প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে। এ ঘটনায় তিনি মামলাটির তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে পুনরায় সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও অভিযোগ করেন, মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তার সঙ্গে তার কথোপকথন ও অন্যান্য তথ্য-প্রমাণ তার কাছে রয়েছে। তদন্তের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অনিয়ম হয়ে থাকলে তা খতিয়ে দেখে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানান তিনি। সংবাদ সম্মেলনে কৃষকদল নেতার দুই ছেলেসহ আত্মীয়-স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন।
তবে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে জামালপুর ও শেরপুর পিবিআইয়ের দায়িত্বে থাকা পুলিশ সুপার পংকজ দত্ত জানান, আদালতের নির্দেশে আমি নিজেই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ছিলাম। মামলার তদন্তকালে যেসব তথ্য-উপাত্ত পেয়েছি, সে অনুযায়ী তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে।




