স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের অধীনে ইনকাম সাপোর্ট প্রোগ্রাম ফর দ্যা পুওরেষ্ট (আইএসপিপি)-যত্ন প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোর দাবিতে জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বরাবরে স্মারকলিপি দিয়েছে ওই প্রকল্পে কর্মরতরা। ২৮ মার্চ সোমবার দুপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জেলা প্রশাসক মো. মোমিনুর রশীদের কাছে ওই স্মারকলিপি দেওয়া হয়।

ওইসময় যত্ন প্রকল্পের শেরপুর অঞ্চলের সেফটিনেট প্রোগ্রামের সুপারভাইজার মো. শহিদুল ইসলাম, সেফটিনেট প্রোগ্রাম অ্যাসিস্ট্যান্ট মহসিন আলম, মাহবুবুর রহমান, মনিবুর রহমান, উজ্জল আচার্য, সুমী আক্তার, শাহনাজ পারভীনসহ প্রকল্পে কর্মরতরা উপস্থিত ছিলেন।
স্মারকলিপি সূত্রে জানা যায়, যত্ন প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হবে আগামী ৩১ মে। এ প্রকল্পের অধীনে শেরপুর জেলায় চাকরি করেন ৫৭ জন। শেরপু্ের এই প্রকল্পের আওতায় উপকারভোগীর সংখ্যা ২৫ হাজার ১৮৯ জন। আগামী মে মাসের পর ওই প্রকল্প বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সেখানে কর্মরতরা চাকুরি হারাবেন। চাকরি হারানোর চিন্তায় পড়েছেন সকল কর্মচারী ও তাদের পরিবারের সদস্যরা। আগামী বছরের জানুয়ারি মাসে আরও একটি প্রকল্প আসার কথা রয়েছে। সে পর্যন্ত যত্ন প্রকল্প চালু রাখার দাবি জানিয়েছেন চাকুরিরতরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সরকারের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির আওতায় যত্ন প্রকল্পটি ২০১৫ সালের জুন মাসে শুরু হয়। এর কাজ হলো প্রকল্প এলাকার অতিদরিদ্র ও অপুষ্টিতে ভোগা অন্তঃসত্তা নারী, ০ হতে ৬০ মাস বয়সী শিশু এবং তাদের মায়েদের সেবা গ্রহণের বিপরীতে নগদ অর্থ প্রদান, শিশুদের পুষ্টি ও মনো-দৈহিক বিকাশ সাধন করার মাধ্যমে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী (সেফটিনেট সেল) তৈরি করা। ইতোমধ্যে এই প্রকল্পটি বেশ সুনাম কুড়িয়েছে। সারাদেশের ৭ জেলায় ওই প্রকল্পে কর্মরত রয়েছেন ৫০৮ জন। আর মোট উপকারভোগী ৬ লক্ষ।
চাকরিরতরা প্রকল্পের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করলে তারা জানিয়েছে, আগামী বছরের জানুয়ারির দিকে আরেকটি নতুন প্রকল্প শুরু হতে পারে। ওই প্রকল্পে বর্তমান চাকরিরতদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
যত্ন প্রকল্পের শেরপুর অঞ্চলের সেফটিনেট প্রোগ্রামের সুপারভাইজার মো. শহিদুল ইসলাম জানান, প্রকল্পে চাকরিরতরা দুঃশ্চিন্তায় রয়েছেন। বর্তমান উর্ধ্বমুখী দ্রব্যমূল্যের বাজারে চাকরি হারালে আমাদের মতো স্বল্প আয়ের মানুষের পরিবার-পরিজন নিয়ে কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই। তাই সরকারের কাছে দাবি, নতুন প্রকল্প চালু না হওয়া পর্যন্ত যত্ন প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হোক।




