ads

সোমবার , ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২২ | ১৯শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধনপ্রাপ্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  1. ENGLISH
  2. অনিয়ম-দুর্নীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আমাদের ব্লগ
  6. ইতিহাস ও ঐতিহ্য
  7. ইসলাম
  8. উন্নয়ন-অগ্রগতি
  9. এক্সক্লুসিভ
  10. কৃষি ও কৃষক
  11. ক্রাইম
  12. খেলাধুলা
  13. খেলার খবর
  14. চাকরির খবর
  15. জাতীয় সংবাদ

শেরপুরে বন্ধ হয়ে গেছে শতাধিক কিন্ডারগার্টেন স্কুল

জুবাইদুল ইসলাম
ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২২ ১:৩৩ অপরাহ্ণ

করোনা মহামারির প্রভাবসহ নানা কারণে শেরপুর জেলায় একে একে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে কিন্ডারগার্টেন স্কুল। ইতিমধ্যে জেলায় অন্তত:শতাধিক কিন্ডারগার্টেন স্কুল বন্ধ হয়ে গেছে। হাতেগোনা কয়েকটি ছাড়া বাকিগুলোও চলছে ধুকে ধুকে। কিন্ডারগার্টেন স্কুল মালিকরা বলছেন, করোনাকালীন সময়ে স্কুল বন্ধ থাকায় বাড়ি ভাড়া ও শিক্ষকদের বেতন দিতে না পারা এবং বেশিরভাগ শিক্ষার্থীরা মাদ্রাসায় ভর্তি হয়ে যাওয়ায় স্কুল বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছেন তারা। করোনার পর স্কুল খুললেও শিক্ষার্থী সংকট রয়েই গেছে।

Shamol Bangla Ads

জেলা কিন্ডারগার্টেন এ্যাসোসিয়েশন ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, বছর দুয়েক আগেও জেলায় প্রায় সাড়ে তিনশ কিন্ডারগার্টেন স্কুল ছিল। এসব স্কুলে অন্তত ৭০ হাজার শিক্ষার্থী পড়াশোনা করতো। আর এসব স্কুলে কর্মসংস্থান হয়েছিল প্রায় ৬/৭ হাজার শিক্ষক-কর্মচারীর। তবে ২০২০ সালে মহামারী করোনাভাইরাস এসে বদলে দেয় পুরো চিত্রই। সরকারের স্কুল বন্ধ ঘোষণার পর বেকার হয়ে পড়েন এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা। অনেকেই স্কুলের বাড়ি ভাড়া ও শিক্ষকদের বেতন দিতে না পেরে কিন্ডারগার্টেনগুলো বন্ধ করে দেন। বর্তমানে প্রায় শতাধিক কিন্ডারগার্টেন স্কুল বন্ধ হয়ে গেছে। বেকার হয়ে গেছে এসব প্রতিষ্ঠানের অন্তত চার হাজার শিক্ষক। এদের অনেকেই বাধ্য হয়ে কাজ নিয়েছেন অন্যত্র। কেউ হয়েছেন ইজিবাইক চালক, আবার কেউ হয়েছেন দোকানের কর্মচারী।

সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, শহরের সজবরখিলা এলাকার ওরিয়েন্টাল স্কুল, গোপালবাড়ি এলাকার এনআই মেমোরিয়াল একাডেমি, দমদমা এলাকার এইম আইডিয়াল স্কুল, মোবারকপুর এলাকার আখেরমামুদ স্কুলসহ অন্তত: শতাধিক স্কুল বন্ধ হয়ে গেছে। এদিকে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকার পর প্রতিষ্ঠানগুলোতে চলতি বছরের শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ভর্তি প্রক্রিয়া শুরু হলেও শিক্ষার্থী ভর্তির তেমন সাড়া মিলেনি। কারণ হিসেবে প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, করোনার সময় স্বাস্থ্যবিধি মেনেও তারা স্কুল চালাতে পারেননি। তবে নূরানী মাদ্রাসা খোলা থাকায় সেসব মাদ্রাসায় বেশিরভাগ শিক্ষার্থীকে ভর্তি করে দিয়েছেন অভিভাবকরা। এজন্য এখন আশানুরূপ শিক্ষার্থী ভর্তির জন্য পাওয়া যাচ্ছে না।

Shamol Bangla Ads

শহরের দমদমা এলাকার এমএ পাবলিক স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক রফিকুল ইসলাম আধার জানান, আমার স্কুলে প্রায় সাড়ে পাঁচশত শিক্ষার্থী ছিল। করোনার পর স্কুল খুললেও আশানুরূপ শিক্ষার্থী না পাওয়া যায়নি। তাই অনেকে স্কুল বন্ধ করে দিয়েছেন। উত্তর গৌরীপুর মডেল স্কুলের পরিচালক শাহরিয়ার শাকির জানান, আমাদের স্কুলের আশেপাশে অন্তত: ১৫টি নুরানী মাদ্রাসা রয়েছে। করোনাকালে স্কুল বন্ধ থাকলেও এসব নুরানী মাদ্রাসা খোলা থাকার কারণে স্কুলের বেশিরভাগ শিক্ষার্থীই মাদ্রাসায় চলে গেছে। এজন্য স্কুল খোলার পরও আমরা আশানুরূপ শিক্ষার্থী পাইনি। করোনার আগে স্কুলে সাড়ে তিনশ শিক্ষার্থী থাকলেও এখন মাত্র ৭০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। এখন কিভাবে স্কুল চালাবো সেটাই ভাবছি।

শহরের বাগরাকসা মহল্লার প্রিজম প্রিপারেটরি এন্ড হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, করোনার কারণে স্কুল অনেকদিন বন্ধ ছিল। সেসময় অনেক কিন্ডারগার্টেন স্কুল বন্ধ হয়ে গেছে। সেখানে কর্মরত শিক্ষকরা বেকার হয়ে কেউ ইজিবাইক চালিয়েছেন, কেউবা দোকানের কর্মচারি হিসেবে কাজ করেছেন। করোনার পর এখন স্কুল খুললেও আগের মতো শিক্ষার্থী নেই। শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমে অর্ধেক হয়ে গেছে।

জেলা কিন্ডারগার্টের এ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. শহিদুল ইসলাম জানান, আমাদের সংগঠনের আওতায় ৭০টি আর জেলায় প্রায় সাড়ে তিনশ কিন্ডারগার্টেন স্কুল ছিল। এসব প্রতিষ্ঠানে ৬/৭ হাজার শিক্ষক-কর্মচারী ছিলেন। এখন অর্ধেকের বেশি স্কুল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এসব প্রতিষ্ঠানের অর্ধেক শিক্ষক-কর্মচারীই বেকার হয়ে পড়েছেন। করোনাকালীন সময়ে টিকে থাকার জন্য আমরা সরকারের কাছে প্রণোদনা ও স্বল্পসুদে ঋণসহ বেশ কিছু দাবি পেশ করেছিলাম। কিন্তু সেগুলো না পাওয়ায় অনেক স্কুলই টিকে থাকতে পারেনি। যেগুলো টিকে আছে, সেগুলোও বন্ধের পথে। তিনি কিন্ডারগার্টেন স্কুলকে টিকিয়ে রাখতে সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন।

এ ব্যাপারে শেরপুরের জেলা প্রশাসক মোমিনুর রশীদ বলেন, কিন্ডারগার্টেনগুলোর আর্থিক সংস্থানের জন্য ব্যাংকে ঋণের আবেদন করতে পারে।

Need Ads
error: কপি হবে না!