সারা দেশের রাজনীতিবিদদের ভোটে দ্বিতীয়বারের মতো জার্মানির প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলেন ফ্রাংক-ভাল্টার স্টাইনমায়ার। ১৩ ফেব্রুয়ারি রবিবার তিনি দেশটির রাষ্টপ্রধান হিসেবে পুননির্বাচিত হলেন। দেশটির পার্লামেন্টের সদস্যদের সর্বোচ্চ ভোটে নির্বাচিত হয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিশ্বের গণতন্ত্র রক্ষায় সর্বাত্মক চেষ্টা অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

জার্মান প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্ক ভাল্টার স্টাইনমায়ার বলেন, ‘আমরা পূর্ব ইউরোপে সামরিক সংঘাত, যুদ্ধের বিপদের মধ্যে আছি। আমাকে যারা ভোট দিয়ে আবারও নির্বাচিত করেছেন, আপনাদের সবার প্রতি কৃতজ্ঞতার শেষ নেই। কথা দিচ্ছি, আপনাদের বিশ্বাসের মান রক্ষাসহ দল ও মতের ঊর্ধ্বে উঠে দেশের গণতন্ত্র সুসংহত রাখব। আমি (রাশিয়ার) প্রেসিডেন্ট পুটিনের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। ইউক্রেনের গলার ফাঁস আলগা করুন এবং ইউরোপে যাতে শান্তি বজায় থাকে আমাদের সঙ্গে তেমন পথের সন্ধান করুন।’
তিনি আরও বলেন, ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের কারণে আমরা এ মুহূর্তে কঠিন সময় পার করছি। সবকিছুর জন্য রাশিয়াই দায়ী। এ কারণেই আমি দেশটির প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের কাছে সমস্যার সমাধানের আহ্বান জানাচ্ছি।

এ সময় রাশিয়া ও ইউক্রেন সংকটের সুষ্ঠু সমাধান হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। ইউক্রেনে অবস্থানরত সব জার্মান নাগরিককে অবিলম্বে দেশটি ত্যাগ করার সিদ্ধান্তকেও স্বাগত জানান। ১৪৩৭ ভোটের মধ্যে ১০৪৫টি ভোটই পড়েছে তার পক্ষে৷ সিডিইউ এর সদস্য হয়েও উগ্র ডানপন্থি দল এএফডি এর পছন্দে এই নির্বাচনে অংশ নেয়া ওটেকে দল থেকে বহিস্কারের দাবি তুলেছেন নেতারা।
পুননির্বাচিত হওয়ার পর দেয়া প্রতিক্রিয়ায় তিনি গণতন্ত্র তুলে ধরার পক্ষে নিজের অবস্থান ব্যক্ত করার পাশাপাশি ইউক্রেনে রাশিয়ার সম্ভাব্য হামলার পরিণতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন৷। জার্মানির পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ বুন্ডেসটাগের সদস্য ও ১৬ টি রাজ্যের ‘ডেলিগেটসদের’ ভোটে আরো পাঁচ বছরের জন্য জার্মানির প্রেসিডেন্ট পদে থাকছেন ফ্রাংক-ভাল্টার স্টাইনমেয়ার। সাতাত্তর শতাংশ ভোট পড়েছে এই রাজনীতিকের পক্ষে। জার্মানিতে সজ্জন রাজনীতিকদের মধ্যে দেশটির ক্ষমতাসীন দল সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টি এসপিডি থেকে নির্বাচিত বর্তমান প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্ক ভাল্টার স্টাইনমায়ার অন্যতম। রোববার দেশটির প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তারই প্রতিচ্ছবি দেখতে পেলেন জার্মানিসহ ইইউর অধিবাসীরা।
সোশ্যাল ডেমোক্রেট সদস্য ৬৬ বছর বয়সি স্টাইনমায়ার সাবেক চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল সরকারের দুই মেয়াদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন। শুধু রাজনীতিবিদ নন, জার্মানির জনগণের মধ্যেও রয়েছে তার গ্রহণযোগ্যতা। সাম্প্রতিক এক জরিপের ফলাফল অনুযায়ী, জার্মানির ৮৫ শতাংশ মানুষ মনে করেন তিনি যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। বর্তমান জোট সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যেও রয়েছে তার সমর্থন।
দ্বিতীয়বারের মতো প্রেসিডেন্ট হওয়ার পথে তিনি বিরোধী বাম দলের প্রার্থী গ্রেরহার্ড ট্রেবার্ট, ফ্রি ভোটার্স নামের একটি রাজনতিক গোষ্ঠীর মনোনীত প্রার্থী পদার্থবিদ স্টেফানি গেবাউয়ার এবং এএফডি এর মনোনীত মাক্স ওটেকে পরাজিত করেন। নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়লাভ করায় চ্যান্সেলর ওলাফ শলজসহ ইইউর অন্য রাজনীতিবিদরা শুভেচ্ছা জানিয়েছেন স্টাইনমায়ারকে।
উল্লেখ্য, ১৯ মার্চ থেকে জার্মানির ১২তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে নতুন করে যাত্রা শুরুর কথা রয়েছে তার।




