নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন (নাসিক) নির্বাচনে হ্যাটট্রিক জয়ের পর ভোটে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ‘কাকা’ তৈমূর আলম খন্দকারের বাসায় মিষ্টি নিয়ে গেছেন সেলিনা হায়াৎ আইভী। সোমবার বিকেল ৫টায় শহরের মাসদাইর এলাকায় তৈমূরের বাসায় যান আইভী। দুইজন যখন একত্রে হন তখন এক আবেগঘন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। আইভীকে কাছে টেনে নেন তৈমূর। সোমবার সকালে আইভী গণমাধ্যমকে জানান, তিনি সকালেই তৈমূর আলম খন্দকারের বাসায় যেতে চেয়েছিলেন। তবে সকালে তিনি বাসায় ছিলেন না বলে সে সময় যেতে পারেননি।

নির্বাচনের আগে আইভী বলেছিলেন, ভোটে জিতলে তিনি মিষ্টি নিয়ে তৈমূর আলম খন্দকারের বাসায় যাবেন। এর আগে ২০১৬ সালে নাসিক নির্বাচনে জেতার পরও মিষ্টি নিয়ে ধানের শীষের প্রার্থী সাখাওয়াত হোসেন খানের বাড়িতে গিয়েছিলেন আইভী।
সোমবার বিকেল পৌনে ৫টায় মাসদাইরে মজলুম মিলনায়তনে যান আইভী। সঙ্গে ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আদিনাথ বসু, যুগ্ম সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম। ওই সময় বাসার নিচ তলাতেই অবস্থান করছিলেন তৈমূর ও তার পরিবারের লোকজন। রুমে ঢুকতেই আইভীকে কাছে টেনে নেন তৈমূর। তখন আইভী বলেন, ভোটে যাই হোক আমরা তো চাচা-ভাতিজি। এ সম্পর্কটা আর কখনো নষ্ট হবে না।

আগের দিন ১৬ জানুয়ার আইভী বলেছিলেন, ‘এ জয় শেখ হাসিনার, আইভীর ও নারায়ণগঞ্জবাসীর। আমার এ জয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী তৈমুর আলম খন্দকারও খুশি হবেন। কাকা (তৈমূর আলম খন্দকার) অনেক ভোট পেয়েছেন তাকে অভিনন্দন জানাতে চাচ্ছি। আপনার মেয়ে জিতেছে। মেয়ে তো জিতবেই, বাবারা সব সময় মেয়েদের জিতিয়ে দেয়। তিনি যেহেতু আমার চাচা তিনিও খুশি হয়েছে যে চুনকার মেয়ে জিতেছে, উনারই মেয়ে জিতেছে। তার যে পরিকল্পনা আছে আশা করি সেগুলো বাস্তবায়নে তিনি আমাকে সহায়তা করবেন। আমি বলবো এখানে মানুষের অবদান সবচেয়ে বেশি। এখানে নৌকা আর আইভী এক।’
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সেলিনা হায়াৎ আইভীর দাপুটে জয়ে পরাভূত হয়েছেন স্বতস্ত্র প্রার্থী বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার। ১৯২ কেন্দ্রের সবগুলোর ফলাফলে নৌকার প্রার্থী আইভী পেয়েছেন ১ লাখ ৫৯ হাজার ৯৭ ভোট। আর হাতি প্রতীকে তৈমূর পেয়েছেন ৯২ হাজার ৫৬২ ভোট।




