শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে বৃদ্ধা নারী মেহেরী বেগমকে (৬০) শারীরিক নির্যাতন করে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করার অভিযোগ উঠেছে। গত ২৮ জুন সোমবার সকালে উপজেলার মালিঝিকান্দা ইউনিয়নের উত্তর রাঙ্গামাটিয়া গ্রামে ওই ঘটনা ঘটে। মেহেরী বেগম স্থানীয় মো. আব্দুল জুব্বারের স্ত্রী। বর্তমানে তিনি শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের যন্ত্রণা আর ভেঙ্গে যাওয়া পায়ের ব্যথা নিয়ে কাতরাচ্ছেন ঝিনাইগাতী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মহিলা ওয়ার্ডে। ওই ঘটনায় মেহেরী বেগমের ছেলে ইয়াসিন আলী বাদী হয়ে ৩ জনকে আসামি করে ঝিনাইগাতী থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। কিন্তু গত ৫ দিনেও কোন আসামি গ্রেফতার হয়নি।

জানা যায়, মেহেরী বেগমের স্বামী ও তার এক ছেলে ঢাকায় শ্রমিকের কাজ করেন। মেহেরী বেগম একাই তার গ্রামের বাড়িতে বসবাস করেন। মেহেরী বেগমের ওই বাড়ির প্রতি লোভ জাগে প্রতিবেশী মৃত আবুল কাশেমের ছেলে হাবিবুর রহমান হবি, হুরমুজ আলী ও মো. সাইফুল ইসলামের। তারা মেহেরী বেগমকে ওই বাড়ি থেকে উচ্ছেদের উদ্দেশ্যে বেশ কিছুদিন থেকে নানা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ওই ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে মাঝে-মধ্যেই হবি ও তার লোকজন মেহেরী বেগমের বসতবাড়ি জবর দখলের চেষ্টাসহ গাছপালা কেটে ফেলতো। ওইসব বিরোধের জের ধরে গত ২৮ জুন সোমবার সকালে সাইফুল ইসলাম (২৫) ওই বৃদ্ধার ঘরের কোণে ইচ্ছাকৃতভাবে প্রশ্রাব করতে বসে। বৃদ্ধা মেহেরী বেগম তার ঘরের সামনে প্রশ্রাব করার প্রতিবাদ করলে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে হাবিবুর রহমান হবি (৪০), হুরমুজ আলী (৩০) ও মো. সাইফুল ইসলাম (২৫) মেহেরী বেগমের বাড়িতে প্রবেশ করে অমানসিকভাবে নির্যাতন চালায়। তারা ওই বৃদ্ধার শরীরের বিভিন্ন স্পর্শকাতর স্থানে আঘাত করে। তাদের আঘাতে মেহেরি বেগমের ডান পায়ের গোড়ালি ভেঙে যায়। পুরো শরীরে রক্তাক্ত জখম এবং মারাত্মকভাবে আহত হন তিনি। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। মেহেরী বেগম ৫ দিন ধরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শরীরের অসহ্য যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন। অপরদিকে প্রভাবশালী ও মারধরকারী হবি ও তার লোকজন এলাকায় বিচরণ করলেও তাদের ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না।
এ ব্যাপারে ঝিনাইগাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফায়েজুর রহমান বলেন, ওই ঘটনায় একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে । তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।




