জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান রুমান, পৌর মেয়র লিটন ও সাংবাদিক নেতা মানিক আক্রান্ত
শেরপুরে ক্রমেই বাড়ছে করোনা সংক্রমণ। চলতি মাসের ১০ দিনেই জেলায় আক্রান্ত হয়েছেন ৮০ জন। এতে পরিস্থিতি খারাপের দিকে এগুলেও অধিকাংশ মানুষই মানছেন না স্বাস্থ্যবিধি। এদিকে কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পরও শেরপুরে এবার করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর রুমান, পৌর মেয়র গোলাম মোহাম্মদ কিবরিয়া লিটন ও নবগঠিত সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মানিক দত্ত। অন্যদিকে জেলায় করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সহসাই প্রশাসনের তরফ থেকে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ হতে পারে। ১০ জুন বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের সাথে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় ওই কথা জানান জেলা প্রশাসক আনার কলি মাহবুব।

জানা যায়, শহরের মীরগঞ্জ এলাকার বাসায় শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা বেড়ে গেলে গত ৭ জুন রাজধানী ঢাকায় স্কয়ার হাসপাতালে গিয়ে ভর্তি হন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হুমায়ুন কবীর রুমান। পরে সেখানে তার নমুনা পরীক্ষায় করোনা শনাক্ত হয়। এরপর থেকে তিনি স্কয়ার হাসপাতালের করোনা ইউনিটে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তবে তার করোনা আক্রান্ত হওয়ার তথ্যটি বিলম্বে জানাজানি হয়। ১০ জুন বৃহস্পতিবার রাতে হাসপাতালে অবস্থানরত জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের খালাতো ভাই ইউসূফ আলী রবিন জানান, বর্তমানে তিনি মুটামুটি ভালো আছেন। তবে এখনও চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছেন তিনি। শেরপুর পৌরসভার মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব গোলাম মোহাম্মদ কিবরিয়া লিটনও করোনা উপসর্গ নিয়ে রাজধানী ঢাকায় নিয়ে পরীক্ষা করালে ৯ জুন বুধবার তার করোনা পজেটিভ আসে। তিনি বর্তমানে ঢাকার উত্তরার বাসায় আইসোলেশনে রয়েছেন। তার জ্বর ও মাথা ব্যথা থাকলেও বড় কোন সমস্যা নেই। এছাড়া শেরপুর সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি ও প্রেসক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক মানিক দত্ত কয়েকদিন যাবত করোনা উপসর্গে ভুগছিলেন। ওই অবস্থায় বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলা সদর হাসপাতালে নমুনা পরীক্ষায় তারও করোনা শনাক্ত হয়। তিনি সুস্থ থাকলেও শরীরে হালকা ব্যথা রয়েছে।
এদিকে গত মে মাসে জেলায় করোনা শনাক্তের সংখ্যা ৬৮ হলেও চলতি মাসের ১০ দিনেই আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮০ জনে। ১০ জুন বৃহস্পতিবার জেলায় নতুন করে আরও ১৪ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় মোট করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ৮৫১ জন। এই সময়ে সুস্থ হয়েছেন ৭২২ জন। আর ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে জেলায় ১১১ জন করোনা আক্রান্ত রোগী রয়েছেন। এ পর্যন্ত জেলায় মোট নমুনা সংগ্রহ হয়েছে ১১ হাজার ৭৪০ জনের। এর মধ্যে রিপোর্ট পাওয়া গেছে ১১ হাজার ৭০৬ জনের। রিপোর্ট অপেক্ষমাণ রয়েছে ৩৪ জনের। এছাড়া জেলায় মোট টিকা নিয়েছেন ৫৫ হাজার ৩৯১ জন। এর মধ্যে কোভিড-১৯ এর প্রথম ডোজের টিকা গ্রহণ করেছেন ৩৩ হাজার ৬৬০ জন। আর দ্বিতীয় ডোজ নিয়েছেন ২১ হাজার ৭৩১ জন।
এ ব্যাপারে শেরপুরের সিভিল সার্জন ডা. একেএম আনওয়ারুর রউফ জানান, জেলায় করোনা পরিস্থিতি ধীরে ধীরে খারাপের দিকে যাচ্ছে। বর্তমানে শেরপুর ইয়েলো জোন ছাড়িয়ে অরেঞ্জ জোনে রয়েছে। এভাবে চলতে থাকলে অচিরেই জেলা রেডজোনে পড়ে যেতে পারে। এজন্য তিনি সকলকে স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব মেনে চলার আহবান জানান।




