শ্যামলবাংলা ডেস্ক : কুষ্টিয়ায় কুমারখালীর ছেঁউলিয়ায় লালন আখরাবাড়িতে ‘বাড়ির কাছে আরশি নগর, সেথা এক পরশি বসত করে, আমি একদিনও না দেখিলাম তারে’ এই আধ্যাত্নিক বাণীর শ্লোগানে বাউল সম্রাট, মরমী সাধক ফকির লালন শাহ্’র ১২৯তম তিরোধান উপলক্ষ্যে ৩ দিন ব্যাপী লালন স্বরনাৎসব শেষ হয়েছে। ১৮ অক্টোবর শুক্রবার রাতে ওই উৎসবের সমাপ্তি ঘোষনা করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি খুলনা বিভাগীয় কমিশনার লোকমান হোসেন মিয়া। তিনি বলেন, জন্ম হোক যথাতথা, কর্ম হোক ভালো। মরমী সাধক ফকির লালন শাহ্’র কর্ম ভালো থাকায় সারা বিশ্বের মানুষ তাকে স্মরণ করছে। আমি-আপনি বা আপনারা যে কাজই করি, সে কাজটি ভালো হলে সমাজ তথা রাষ্ট্রে তথা বিশ্ববাসী তা মনে রাখবে। সে লক্ষ্যে পৃথিবীতে নিজের কর্মটাকে প্রাধান্য দিয়ে সন্ত্রাস, মাদক ও দূর্নীতিমুক্ত সমাজ গড়ার কোন বিকল্প নেই।

কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক ও লালন একাডেমির সভাপতি আসলাম হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. হারুন-উর-রশিদ আসকারী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব উপ-পরিচালক মৃনাল কান্তি দে, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট লুৎফুন নাহার, জেলা জাসদ সভাপতি আলহাজ্ব গোলাম মুহসিন, জিপি এডভোকেট আক্তারুজ্জামান মাসুম প্রমূখ।
প্রধান আলোচক কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. হারুন-উর-রশিদ আসকারী বলেন, পৃথিবী বুকে আর্বির্ভূত বিষ্ময়মানব লালন ছিলেন বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী। ফকির লালন, লালন সাঁই, লালন শাহ্, মহাত্না লালন, মরমী সাধক, মরমী কবি ইত্যাদি নামেও তিনি পরিচিত। ব্যাপকঅর্থে তিনি বাউল সম্রাট। এছাড়া একাধারে তিনি একজন আধ্যাতিœক বাউল সাধক, মানবতাবাদী, সমাজ সংস্কারক, দার্শনিক, গীতিকার ও সুরকার। তীর্থকালে তিনি বসন্ত রোগে আক্রান্ত হলে তখনকার সমাজপতিরা তাকে প্রত্যাখান করে। পরে একজন মুসলমাসের দয়া ও আশ্রয়ে জীবন ফিরে পাওয়ার পর তিনি সাধক ফকির হন। লালন সাঁই মুখে মুখেই গানের পদ রচনা করতেন। মরমী সাধক লালন গান গেয়ে শোনাতেন, আর সেই বাধা গান লিখে রাখতেন ফকির মানিক ও মনিরুদ্দিন শাহ্।
সরেজমিনে বক্তদের সাথে কথা বলে জানা যায়, লালনের রচিত গানের সংখ্যা ১০ হাজারেরও বেশী। কিন্তু, প্রকৃতপক্ষে এত বিপুলসংখ্যক গান খুঁজে পাওয়া যায় না। লালনের কোনো কোনো শিষ্যের মৃত্যুর পর গানের খাতা তাদের কবরে পুঁতে দেওয়া হতো। এছাড়া অনেক ভক্ত-অনুরাগীরা গানের খাতা নিয়ে আর ফেরতই দেননি।
আলোচনা পর্ব শেষে মূল মঞ্চে লালন একাডেমির শিল্পীরাসহ দেশ বরেণ্য লালন শিল্পীরা লালন ফকিরের আধ্যাতিœক গান পরিবেশন করেন। এরপর উৎসব ছেড়ে অধিকাংশ সাধু-গুরু ও ভক্তরা ফিরে গেছেন তাদের নিজ নিজ গন্তব্যে।
উল্লেখ্য, ১২৯৭ বঙ্গাব্দের পহেলা কার্তিক উপমহাদেশের সবচেয়ে প্রভাবশালী সাধক, বাউল সম্রাট ফকির লালন শাহ্র মৃত্যুর পর থেকে তার স্মরণে লালন একাডেমী ও জেলা প্রশাসন এই লালন স্মরণোৎসব উৎযাপন করে আসছে। এবারও পথ প্রদর্শক লালনকে স্মরণ ও অবাধ্য মনকে শুদ্ধ করতে দেশ-বিদেশের হাজার হাজার অনুসারী, ভক্ত-অনুরাগী ও দর্শনার্থীরা এ উৎসবে সামিল হয়েছিল। বরাবরের মতো এবারও ঐতিহাসিক এ উৎসবকে নির্বিঘ্ন করতে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কয়েকস্তরের কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়।




