স্টাফ রিপোর্টার : শেরপুরে অনৈতিক যৌনাচারের চিত্রধারণ এবং তা ব্লু-টুথের মাধ্যমে মোবাইলে ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা বাড়ছে। এবার ওই অবস্থার শিকার হয়েছে এক স্কুলছাত্রী। ওই ঘটনায় ৪ লম্পটের বিরুদ্ধে স্কুলছাত্রী স্বয়ং বাদী হয়ে ১৮ সেপ্টেম্বর বুধবার রাতে নালিতাবাড়ী উপজেলায় একটি মামলা দায়ের করেছে। মামলার পর তদন্ত কর্মকর্তা ওই স্কুলছাত্রীকে থানা হেফাজতে নিয়ে বৃহস্পতিবার নিরাপদ হেফাজতে রাখার আবেদনসহ আদালতে সোপর্দ করলে চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট মোঃ সেলিম মিয়া তাকে পিতার জিম্মায় প্রদান করেছেন। অন্যদিকে এখনও গ্রেফতার হয়নি কোন লম্পট। ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক তোলপাড় চলছে।
জানা যায়, শেরপুর সদরের চরশ্রীপুর গ্রামের হতদরিদ্র কৃষক পরিবারের মেয়ে এবং চরশ্রীপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর ওই ছাত্রীর (১৪) সাথে পূর্ব পরিচিতির সুবাদে সম্পর্ক গড়ে উঠে পার্শ্ববর্তী ধোবারচর গ্রামের লুতফর রহমানের লম্পট পুত্র আল আমিন (২৫) এর। গত ৪ জুলাই ওই স্কুলছাত্রী জরুরী প্রয়োজনে ছবি উঠানোর জন্য স্কুল থেকে দুপুরে কুসুমহাটি বাজারে রানা স্টুডিওতে পৌছে। এক পর্যায়ে লম্পট যুবক আলামিন সঙ্গীয় একই এলাকার বাসিন্দা আছর ফকিরের পুত্র আক্তার হোসেন, হবিবর রহমান মিস্ত্রির পুত্র মুন্না কাজী ও হারুনর রশিদের পুত্র আমিনুল ইসলাম কাজীর যোগসাজসে ওই স্কুলছাত্রীকে বিয়ের প্রলোভন দেয় এবং ফুসলিয়ে ইচ্ছার বিরুদ্ধে আলামিন তার মোটর সাইকেলে উঠিয়ে স্কুলছাত্রীকে নালিতাবাড়ীর মধুটিলা ইকোপার্কে নিয়ে সেখানে থাকা মহুয়া রেস্ট হাউজের দ্বিতীয় তলায় উঠে। এর পরপরই অপর এক মোটর সাইকেলে সেখানে হাজির হয় আক্তার, মুন্না ও আমিনুল কাজী। ওই অবস্থায় তারা সকলে স্কুলছাত্রীকে দ্বিতীয় তলার একটি কক্ষে নিয়ে দরজার ছিটকিনি বন্ধ করে দেয় এবং লম্পট আলামিন তাকে ধর্ষণ করে। এক পর্যায়ে স্কুলছাত্রী অসুস্থ্য ও অচেতন হয়ে পড়ে। জ্ঞান ফেরার পর সে বুঝতে পারে যে, তার প্রতি উপুর্যপরি পাশবিক নির্যাতন চালানো হয়েছে। পরে সে এও টের পায় যে, তাকে ধর্ষণের চিত্র লম্পটরা মোবাইল ফোনে ভিডিও করেছে। ওই অবস্থায় স্কুলছাত্রী কান্নাকাটি শুরু করলে তাকে এই বলে তারা হুমকি দেয় যে, ধর্ষণের কথা কাউকে বললে তার চিত্র ইন্টারনেটে প্রকাশ করে দেবে। পরে অপরিচিত এক ব্যক্তির সহায়তায় সিএনজি গাড়ি নিয়ে ধর্ষিতা স্কুলছাত্রী বাড়ি ফিরে যায়। কিন্তু লাজ-লজ্জা আর ভয়ে পরিবারের লোকজনকে না জানিয়ে অনেকটা নিরবেই কষ্ট বয়ে বেড়াচ্ছিল স্কুলছাত্রী। কিন্তু এরপরও ঘটনার সময়কালে হুমকিসূত্রে লম্পটরা ধর্ষণের ধারণকৃত ভিডিও ক্লিপ এলাকার বিভিন্ন লোকের মোবাইল ফোনে ব্লু-টুথ এর মাধ্যমে ছড়িয়ে দিলে ঘটনাটি জানাজানি হয়ে যায়। অবশেষে পরিবারের লোকজনদের সামনে মুখ খোলে পরিস্থিতির শিকার স্কুলছাত্রী। ওই ঘটনার বিস্তারিত জানিয়ে হতদরিদ্র পিতাকে নিয়ে বুধবার ৪ লম্পটের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগসহ শেরপুর সদর থানায় হাজির হলে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলটি নালিতাবাড়ী থানার আওতায় হওয়ায় তাদের পাঠানো হয় নালিতাবাড়ী থানায়। অভিযোগ পেয়ে নালিতাবাড়ী থানার ওসি মনিরুল ইসলাম পিপিএম নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৭/ ৯(১)/৩০ এবং তৎসহ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের ৫৭ (২) ধারায় নিয়মিত মামলা রুজু করেন। সেইসাথে মামলার তদন্তভারও নিজেই গ্রহণ করেন। এব্যাপারে তিনি বলেন, ভিকটিমের বয়স সক্রান্তে ডাক্তারী পরীক্ষার পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। অন্যদিকে আসামীদের গ্রেফতারে চেষ্টা চলছে।
উল্লেখ্য, এর আগে ২১ আগস্ট নালিতাবাড়ী পৌর শহরের ২ যুবতীর ছবি অশ্লীল ভিডিওতে সম্পৃক্ত করে ইন্টারনেট মোবাইল ফোনে ছড়িয়ে দেয় স্থানীয় এক ডাউনলোড ব্যবসায়ীসহ তার সাঙ্গপাঙ্গরা। ওই ঘটনার বিষয়েও নালিতাবাড়ী থানায় মামলা হয়েছে। এছাড়া নকলা সদরে সপ্তাহখানেক আগে ব্যক্তিগত চেম্বারে এক যুবতীকে জড়িয়ে ভিডিও ক্লিপ ধারণ এবং তা মোবাইল-ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় গণপদ্দী উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রের উপ-সহকারী মেডিকেল অফিসার পরিতোষ চন্দ্র সাহার বিরুদ্ধে। ওই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক তোলপাড় চললেও এখনও কোন মামলা হয়নি। অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহলের হস্তক্ষেপে বিষয়টি ধামাচাপার পায়তারা চলছে।




