ঝিনাইগাতী (শেরপুর) প্রতিনিধি ॥ শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে সালমা বেগম (১৯) নামে এক গৃহবধূ হত্যার অভিযোগে স্বামী ও দেবরকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ১১ আগস্ট শনিবার সকালে তাদের গ্রেফতার করা হয়। এরা হচ্ছেন উপজেলার খৈলকুড়া গ্রামের খলিলুর রহমানের ছেলে গৃহবধূর স্বামী বাবুল মিয়া (২৮) ও দেবর আশিক মিয়া (১৫)। এর আগে গত শুক্রবার বিকেলে স্বামী বাবুলের বাড়ির গোসলখানা থেকে গৃহবধূ সালমার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। সালমা উপজেলার গজারীকুড়া গ্রামের ছামিউল হকের মেয়ে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ২ বছর আগে উপজেলার খৈলকুড়া গ্রামের খলিলুর রহমানের ছেলে বাবুল মিয়ার সঙ্গে গজারীকুড়া গ্রামের ছামিউল হকের মেয়ে সালমার বিয়ে হয়। ওই দম্পতির ঘরে ছয় মাসের একটি কন্যা শিশু আছে। কিন্তু বিয়ের পর থেকে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সঙ্গে সালমার পারিবারিক কলহ চলে আসছিল। শুক্রবার বিকেল ৩টার দিকে খৈলকুড়া গ্রামের কয়েকজন বাসিন্দা বাবুলের বাড়ির গোসলখানার ভেতরে গৃহবধূ সালমাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। বিষয়টি তারা পুলিশকে জানান। সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে গোসলখানা ঘরের আড়ার সঙ্গে গলায় রশি দিয়ে বাঁধা সালমার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেন। ওই সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন সুকৌশলে পালিয়ে যায়। পরে পুলিশ ও এলাকাবাসী সালমাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। ওই ঘটনায় সালমার বাবা মোঃ ছামিউল হক বাদী হয়ে স্বামী ও শ্বশুর-শাশুড়ি, দেবরসহ ৬ জনকে আসামী করে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
ঝিনাইগাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বিপ্লব কুমার বিশ্বাস ওই ঘটনায় ২ জনকে গ্রেফতারের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।




