স্টাফ রিপোর্টার ॥ শেরপুরের সীমান্তবর্তী ঝিনাইগাতী উপজেলাতে এক বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী কিশোরী (১৫) কে ধর্ষণ ও ধর্ষণের ভিডিওচিত্র ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার চাঞ্চল্যকর মামলায় ৩ যুবককে বিভিন্ন মেয়াদে সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। ২ জুলাই সোমবার দুপুরে শিশু আদালতের বিচারক (অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ) মোহাম্মদ মোসলেহ উদ্দিন আসামীদের উপস্থিতিতে ওই রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্তরা হচ্ছে নালিতাবাড়ী উপজেলার দোহালিয়া গ্রামের আবেদ আলী ওরফে ঢনা (২৯) ও শাহিন মিয়া (২৪) এবং ঝিনাইগাতী উপজেলার মালিঝিকান্দা খামারপাড়া গ্রামের আলাউদ্দিন (২৮)। একইসাথে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় সোহেল মিয়া (২৮) ও নজমুল হক নজর (২১) কে খালাস দেওয়া হয়।
আদালতের পিপি এডভোকেট গোলাম কিবরিয়া বুলু ওই রায়ের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মামলায় ধর্ষণের বিষয়টি প্রমাণিত না হওয়ায় শ্লীলতাহানির দায়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১০ ধারায় আবেদ আলীকে ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ৩ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। সাজাপ্রাপ্ত অপর ২ আসামী আসামী আলাউদ্দিন ও শাহিনকে ধর্ষণের ভিডিওচিত্র ইন্টারনেটে ধারণ, ছড়িয়ে দেওয়া ও সহায়তার দায়ে পর্ণোগ্রাফী আইনের ৮ (১) ধারায় ৫ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড ও ২৫ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ৬ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড, ৮ (২) ধারায় ৩ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ৬ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৮ (৪) ধারায় ১ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ৩ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া শাহিনকে ৮ (৩) ধারায় ৩ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ৪ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তবে বিভিন্ন ধারায় দণ্ডিত ওই ২ আসামীর সাজা একইসাথে চলবে।
আদালত সূত্র জানায়, ২০১৪ সালের নভেম্বর মাসের কোন এক দিন দুপুরে কয়েকজন যুবক নালিতাবাড়ী উপজেলার দক্ষিণ বুরুডুবি গ্রামের বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী ওই কিশোরীকে ফুঁসলিয়ে ঝিনাইগাতী উপজেলার তিনআনী বাজারের ঠাকুরবাড়ির বাগানের ভিতরে নিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। ঘটনার পর ভিকটিম বিষয়টি পরিবারের লোকজনকে জানানোর পরও আসামীদের হুমকির কারণে প্রথমে তারা ঘটনা চেপে যায়। কিন্তু পরবর্তীতে আসামীরা ধর্ষণের ভিডিওচিত্র ইন্টানেটের মাধ্যমে বিভিন্নজনের কাছে ছড়িয়ে দিলে এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়। পরে কিশোরীর দাদী বাদী হয়ে ২০১৫ সালের ৮ ডিসেম্বর সাজাপ্রাপ্ত ৩ জন ও অজ্ঞাতনামা আরও ২/৩ জনের বিরুদ্ধে ঝিনাইগাতী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। তদন্তকালে এজাহারনামীয় ৩ জনসহ সোহেল ও নজর নামে আরও ২ জন গ্রেফতার হয় এবং আসামী শাহিন ও আলাউদ্দিন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। মামলার তদন্ত শেষে ২০১৬ সালের ১৭ এপ্রিল ঝিনাইগাতী থানার তৎকালীন পরিদর্শক (তদন্ত) বিপ্লব কুমার বিশ্বাস কেবল এজাহারনামীয় ৩ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। পরবর্তীতে আদালত তদন্ত কর্মকর্তার অব্যাহতি চাওয়া ২ জনসহ ৫ জনের বিরুদ্ধেই অভিযোগ আমলে গ্রহণ করেন। বিচারিক পর্যায়ে সংবাদদাতা বাদী, ভিকটিম, জবানবন্দি গ্রহণকারী ম্যাজিস্ট্রেটসহ ৭ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়।




