স্টাফ রিপোর্টার ॥ ‘টেকসই উন্নয়ন-লক্ষ্য অর্জনে জনমুখী সেবা ও উদ্ভাবনী প্রয়াস’Ñ এ প্রতিপাদ্যকে কাজে লাগাতে শেরপুরে দিনব্যাপি নানা জনসেবামূলক কর্মকান্ড পরিচালিত হয়েছে। ২৩ জুন বৃহস্পতিবার সকালে জেলা কালেক্টরেট অফিস অঙ্গনে বর্ণাঢ্য র্যালির মাধ্যমে দিবসটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করে জেলা প্রশাসক ডাঃ এ এম পারভেজ রহিম। শহরে র্যালি শেষে রজনীগন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত হয় জেলা পর্যায়ের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের নিয়ে আলোচনা সভা। এর পরপরই বিভিন্ন দপ্তরের উদ্যোগে নেয়া জনসেবামূলক কর্মকান্ড পরিচালিত হতে থাকে। ওইসব কর্মকান্ডের মধ্যে ছিল সমাজসেবা অধিদপ্তরের আওতায় প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা মোতাবেক ৩শ প্রতিবন্ধীকে সুবর্ণ নাগরিকের পরিচয়পত্র প্রদান, যুব ও ক্রীড়া অধিদপ্তরের আওতায় ৭ জন অবসরপ্রাপ্ত খেলোয়াড়কে মাথাপিছু ১২ হাজার টাকা করে ৮৪ হাজার টাকা অনুদান প্রদান, বিআরডিবির আওতায় ২ জন মুক্তিযোদ্ধাকে ৭০ হাজার টাকার সুদবিহীন ঋণ দান, প্রাণীসম্পদ অধিদপ্তরের আওতায় গবাদিপশু ও হাস-মুরগির ফ্রি ভ্যাকসিন প্রদান, খাদ্য বিভাগের আওতায় গুদাম অঙ্গনে কৃষকদের সরাসরি সুবিধা দিতে ‘ওয়ান স্টপ সেন্টার’ সেবাদান, রেকর্ডরুম থেকে ৩৫ জন আবেদনকারীকে বিনামূল্যে ভূমির পর্চার জাবেদা নকল সরবরাহ, জেলা সদর হাসপাতালে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা ও জাতিসংঘের ঘোষণা মোতাবেক সেবক পদকের জন্য ২ জন কর্মকর্তা বাছাই প্রক্রিয়া শুরু। এছাড়া জেলা পুলিশ প্রশাসনের তরফ থেকে চুরি, ছিনতাইসহ নানা অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং যানজটসহ আইনগত সহায়তাপ্রত্যাশী মানুষের দ্রুত সেবা নিশ্চিত করতে থানাগুলোতে বাড়ানো হয় বিশেষ তৎপরতা।
এ ব্যাপারে সভার প্রধান অতিথি জেলা প্রশাসক ডা. এ এম পারভেজ রহিম বলেন, দেশের জনসংখ্যার বিরাট অংশ এখনও দারিদ্রসীমার নিচে বসবাস করছে। ওই বৃহৎ উপার্জনক্ষম জনগোষ্ঠীকে টেকসই উন্নয়ন কর্মকান্ডে সম্পৃক্ত করা জরুরি। এজন্য প্রয়োজন জনবান্ধব প্রশাসন, সুশাসন এবং নাগরিক কেন্দ্রিক জনসেবা; বিশেষত: অসহায় নাগরিকের সুরক্ষা। এ ব্যাপারে তিনি স্বচ্ছ, দুর্নীতিমুক্ত ও গতিশীল জেলা প্রশাসনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। অন্যদিকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ আব্দুল ওয়ারীশ জানান, নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবেই পুলিশের সেবা দেওয়া হচ্ছে। তবে আন্তর্জাতিক পাবলিক সার্ভিস দিবসকে স্মরণে রাখতে প্রতিটি স্তরে সেবাকে অগ্রাধিকার বিবেচনায় রেখে কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।




