স্টাফ রিপোর্টার : শেরপুরে ভুল চিকিৎসায় গৃহবধুর স্তন কর্তনের ঘটনায় দায়ের করা চাঞ্চল্যকর মামলায় গ্রেফতার হাজতী আসামী ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (ঢামেক) এর বার্ণ ও সার্জারি বিভাগের চিকিৎসক শরীফুল ইসলাম শরীফের জামিনের বিষয়ে শুনানী ফের পেছানো হয়েছে। ২২ মে রবিবার দুপুরে উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে জামিনের বিষয়ে শুনানীর এক পর্যায়ে আসামী পক্ষের আইনজীবী ঘটনার বিষয়ে আপোস-মিমাংসার লক্ষ্যে শুনানী পেছানোর প্রার্থনা করলে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আ ন ম ইলিয়াস তা মঞ্জুর করে ২৪ মে মঙ্গলবার পুনঃশুনানীর তারিখ ধার্য করেন। অন্যদিকে ওইসময় চিকিৎসক শরীফের জামিন শুনানীকে কেন্দ্র করে আদালত অঙ্গণে উপস্থিত জেলা মহিলা পরিষদের সভানেত্রী জয়শ্রী দাস লক্ষ্মীসহ নারী ও মানবাধিকার সংগঠনের নেতৃবৃন্দ মামলার অপর আসামী ময়মনসিংহের কুন্ডু প্যাথলজির মালিক ডাঃ কে.কে কুন্ডুকেও দ্রুত গ্রেফতার করে উভয়কে বিচারের মুখোমুখি করার দাবি জানান। অন্যথায় একাত্মতা পোষণকারী অন্যান্য সংগঠনকে নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি হাতে নেওয়া হবে।
জানা যায়, শ্রীবরদী থানার চাঞ্চল্যকর ওই মামলার দীর্ঘ সাড়ে ৪ মাস পর ২০ মে শুক্রবার দুপুরে শহরের নারায়ণপুর এলাকার মুন্নী ডায়াগনস্টিক সেন্টারে প্রাইভেট প্রাকটিসরত অবস্থায় সেই সার্জারী বিশেষজ্ঞ ডা. শরীফুল ইসলাম শরীফকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর শনিবার তাকে আদালতে সোপর্দ করা হবে বলে থানা পুলিশের তরফ থেকে গণমাধ্যম কর্মীদের জানানো হলেও হঠাৎ করেই ওইদিনই বিকেলে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয় এবং আসামীপক্ষ থেকে দেওয়া হয় জামিনের আবেদন। ওই অবস্থায় উভয় পক্ষের শুনানী শেষে একই আদালত রবিবার জামিন শুনানীর তারিখ ধার্য করে চিকিৎসক শরীফকে জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
উল্লেখ্য, গত বছরের ১৫ নভেম্বর ভুল চিকিৎসায় রাজধানী ঢাকার একটি ক্লিনিকে শ্রীবরদী উপজেলার কাকিলাকুড়া ইউনিয়নের ভুতনীপাড়া গ্রামের এক গৃহবধূর বাম স্তনে ক্যান্সার রয়েছে বলে তা কেটে ফেলেন ডাঃ শরীফ। পরবর্তীতে বায়োপসি পরীক্ষায় দেখা যায় ওই স্তনে কোনো ক্যান্সার নেই। ওই ঘটনায় ২৯ ডিসেম্বর শেরপুরের সিআর আমলী আদালতে ডাঃ শরীফ ও কুন্ডু প্যাথলজির মালিক ডাঃ কে.কে কুন্ডুকে আসামী করে একটি নালিশী মামলা দায়ের হলে ৪ জানুয়ারি আদালতের নির্দেশে মামলাটি রেকর্ড হয়। এরপরও ডা. শরীফুল ইসলাম শরীফ আদালত থেকে কোনপ্রকার জামিন না নিয়েই ঢাকা থেকে শেরপুর এসে নিয়মিত ব্যক্তিগত চেম্বারে রোগী দেখছিলেন। একই অবস্থা চলছে ময়মনসিংহের ডাঃ কে.কে কুন্ডুর ক্ষেত্রেও।




