ads

বুধবার , ১১ মে ২০১৬ | ১৬ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধনপ্রাপ্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  1. ENGLISH
  2. অনিয়ম-দুর্নীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আমাদের ব্লগ
  6. ইতিহাস ও ঐতিহ্য
  7. ইসলাম
  8. উন্নয়ন-অগ্রগতি
  9. এক্সক্লুসিভ
  10. কৃষি ও কৃষক
  11. ক্রাইম
  12. খেলাধুলা
  13. খেলার খবর
  14. চাকরির খবর
  15. জাতীয় সংবাদ

শেরপুরে সেই দোআশার যুদ্ধজয় : নিরাপদ হেফাজত থেকেই এসএসসিতে জিপিএ গোল্ডেন

শ্যামলবাংলা ডেস্ক
মে ১১, ২০১৬ ১০:৫১ অপরাহ্ণ

doashaস্টাফ রিপোর্টার : শেরপুরের সেই তাবাসসুম বিনতে বানিন দোআশা এবার কঠিন যুদ্ধজয়ী হয়েছে। নিরাপদ হেফাজতে থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েও সে জিপিএ গোল্ডেন পেয়েছে। আনন্দের এ সন্ধিক্ষণে সে প্রেমিক-স্বামীর কাছে ফিরে যাওয়ার আকুতি ব্যক্ত করেছে।
জানা যায়, শেরপুর শহরের চিকিৎসক-অধ্যাপক দম্পতির অসম্ভব জেদী মেয়ে তাবাসসুম বিনতে বানিন দোআশা ২০১৫ সালের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েও সবগুলো পরীক্ষা শেষ না করে নবীনগর এলাকার কলেজশিক্ষার্থী সোবহান উদ্দিন জিহানের সাথে সম্পর্কের সূত্রে চলে যায় ওই বছরের ১৪ মার্চ। পরদিন সে জিহানের সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়। কিন্তু বাধ সাধেন পিতা। পরপর দুবার ছুটে যাবার পরও জিহানের পিতা-মাতা যে দোআশাকে তুলে দিয়েছিল তার অভিভাবকের হাতে, সেই দোআশা তৃতীয় দফায় জিহানের হাত ধরে চলে যাবার পরও ‘অপরিণত’ বয়সের অজুহাত তুলে তিনি (দোআশার বাবা) অপহরণ ও সহায়তার অভিযোগে মামলা ঠুকে দেন জিহান, তার পিতা-মাতাসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে। উচ্চ পর্যায়ের নির্দেশে দোআশাকে উদ্ধার এবং জিহানসহ অন্যান্যদের গ্রেফতারে অসম্ভবভাবে বেড়ে যায় থানা পুলিশের তৎপরতা। ওই অবস্থায় দোআশাকে নিয়ে জিহান ২২ জুলাই শেরপুর সদর থানায় আত্মসমর্পণ করে। এরপর জিহানকে আদালতে সোপর্দ করা হলে সে যায় কারাগারে। আর কথিত ভিকটিম দোআশাকে আদালতে সোপর্দ করা হলে সে জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে প্রদত্ত জবানবন্দিতে জানায়, সম্পর্কের সূত্রে জিহানের সাথে স্বেচ্ছায় চলে গিয়ে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার কথা। সেইসাথে আরও জানায়, তার ওই ঘটনায় জিহানের বাবা-মাসহ অন্য কেউ জড়িত না থাকার কথা। কিন্তু অপরিণত বয়স এবং অভিভাবকের জিম্মায় যেতে অস্বীকৃতি জানানোর কারণে ওই তারিখেই তাকে যেতে হয় নিরাপদ হেফাজতে। কয়েকদিন জেলা কারাগার হেফাজতে থাকার পর তাকে পাঠানো হয় ফরিদপুরের ট্যাপাখোলা মহিলা ও কিশোরী নিরাপদ হেফাজত আবাসন কেন্দ্রে (সেইফ হোমে)। এরপর থেকে তার বাবা নিজ হেফাজতে নেওয়ার জন্য যেমন বারবার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছেন, ঠিক তেমনি অপরিণত হওয়ার কারণে আগ্রহ প্রকাশ করার পরও জিহানের মা-বাবার জিম্মাতেও দেয়নি বিচারিক নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল। ওই অবস্থায় পিতা-মাতা ও অন্যান্য আসামীসহ জিহান পর্যায়ক্রমে জামিনে মুক্তি পেয়ে বেরিয়ে এলেও দোআশাকে থাকতে হয়েছে নিরাপদ হেফাজতের চার দেয়ালে আবদ্ধ। তবে এরপরও সে থেমে থাকেনি। সেখানে থেকেই সে চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে আফসর আলী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হিসেবে অংশ নেয়। আর এতে কাঙ্খিত ফলাফল পেয়ে সে যেমন উজ্জীবিত, ঠিক তেমনি ভবিষ্যতে আরও ভাল করতে আত্মপ্রত্যয়ী। এরপরও তার কষ্ট বন্দিত্ব জীবন; বন্ধু জিহান কাছে না থাকায়, সে জিহানের পাশে থাকতে না পারায়।
এ বিষয়ে জিহানের পক্ষের সিনিয়র আইনজীবী মোখলেসুর রহমান আকন্দ জানান, দোআশার এক বান্ধবীকে (সহপাঠি) মামলায় সাবালিকা হিসেবে আসামী করা হয়েছে। মেডিকেল রিপোর্ট অনুযায়ী দোআশার বর্তমান বয়স প্রায় ১৭ বছরের উর্ধ্বে। কাজেই খুব শীঘ্রই দোআশা মুক্তি পাবে বলে আশা করছি।

Need Ads
error: কপি হবে না!