ads

রবিবার , ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ | ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধনপ্রাপ্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  1. ENGLISH
  2. অনিয়ম-দুর্নীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আমাদের ব্লগ
  6. ইতিহাস ও ঐতিহ্য
  7. ইসলাম
  8. উন্নয়ন-অগ্রগতি
  9. এক্সক্লুসিভ
  10. কৃষি ও কৃষক
  11. ক্রাইম
  12. খেলাধুলা
  13. খেলার খবর
  14. চাকরির খবর
  15. জাতীয় সংবাদ

বন্ধুত্ব ও ভালোবাসার রূপ ॥ তালাত মাহমুদ

শ্যামলবাংলা ডেস্ক - ফটো কার্ড
ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০১৬ ৭:২২ অপরাহ্ণ

Talat mahmudবর্ণাঢ্য কর্মময় জীবনের অধিকারী বিশ্বের সেরা মানুষগুলো যে কখনো প্রেমিক হতে পারেন তা যেন অনেককে বিস্ময়ে হতবাক করে তুলে। বিশ্বাস অবিশ্বাসের দোলাচলে লজ্জায় কেউ কেউ আবার মুখ ফিরিয়ে নিতে চায়। অথচ সবই সত্য। সবই বাস্তব। ইউসুফ-জুলেখা, রাধা-কৃষ্ণ, লাইলী-মজনু, শিরি-ফরহাদ, রোমিও-জুলিয়েট, এন্থনী-কিউপেট্্রাসহ বিশ্বের অনেক বিখ্যাত মানুষের জীবনেই প্রেম এসেছে। এদের প্রেমের কথা আমরা যতটা জেনেছি, বন্ধুত্বের কথা ততটা জানি না। যদিও বন্ধুত্ব আর প্রেম পাশাপাশি বিচরণ করে। তবু এ দু’টি বিষয়ের আলাদা ব্যাখ্যা রয়েছে এবং আলাদা বৈশিষ্টও রয়েছে। ফ্রান্সিস বেকন বলেছেন, ‘ভালোবাসা লাল গোলাপের মতো। কিন্তু ‘বন্ধুত্ব’ হচ্ছে ছায়াময়ী বৃক্ষের মতো। জীবনের প্রতি দিনের প্রয়োজন এবং বাস্তবতার মধ্যেই তার সফল বিচরণ।’ আর সে কারণেই আমি আমার ‘উদাম গতরী ন্যাংটা বয়ান’ লেখায় উল্লেখ করেছি-‘বন্ধুত্ব রক্ষা করাই সবচে’ নিষ্ঠুরতম কাজ; তাই আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সঃ) এর জীবনে কোন বন্ধু ছিল না। তবে তিনি সকলের বন্ধু ছিলেন।’ বন্ধুত্বের পূর্বশর্ত হচ্ছে-নিঃশঙ্ক চিত্তে আত্মনিবেদন করা। বিশ্বাস, আনুগত্য, নিঃস্বার্থভাবে শর্তহীন সহযোগিতা প্রদান, বিনিময়ে কিছু পাওয়ার আশা না করা। বন্ধুর বিপদে বন্ধুর পাশে গিয়ে দাঁড়ানো, সাধ্যমত সাহায্য করা, নিজের ত্যাগ স্বীকার করা, বন্ধুর সার্বিক কল্যাণ কামনা করা ইত্যাদি।
বন্ধুত্ব করার একটা সময় থাকে, বয়স থাকে। সব সময়ে সব বয়সে বন্ধুত্ব হয় না। শিক্ষা জীবন আর কর্মজীবনেই সাধারণত বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। তবে শিক্ষা জীবনের বন্ধুত্ব আর কর্মজীবনের বন্ধুত্ব এক রকম হয় না। প্রেম করতে বিপরীত লিঙ্গের প্রয়োজন হয়্ আর বন্ধুত্ব উভয় লিঙ্গের সাথেই হতে পারে। মিলনে প্রেমের সমাপ্তি ঘটে। বন্ধুত্বে কোন মিলন নেই। প্রেম থেকেও বন্ধুত্ব হতে পারে আবার বন্ধুত্ব থেকেও প্রেম হতে পারে । প্রেমের ক্ষেত্রে যেমন বিশ্বাসঘাতকতা রয়েছে, তেমনি বন্ধুত্বের ক্ষেত্রেও বিশ্বাসঘাতকেতা রয়েছে। উভয় বিশ্বাঘাতকতাই জীবনে মহাবিপর্যয় বয়ে আনতে পারে। আমাদের সমাজে প্রেমে এবং বন্ধুত্বে ছলনা, প্রতারণা এবং বিশ্বাঘাতকতার অসংখ্য নজির রয়েছে। আমাদের চারপাশে তাকালে এমন অনেক জীবন্ত নজির চোখে পড়ে। কবি বলেছেনÑ‘আঘাতে আঘাতে পুরুষ নারী হয়ে যায়, আঘাতে আঘাতে নারী পাথর হয়ে যায়, সেই পাথরে তাজমহলের শোভা।’ সৃষ্টির মূলে প্রেম, প্রেমের সৃষ্টি মানুষ আর মানুষের সৃষ্টি ভাষা। ভাষার সৃষ্টি মানেই সভ্যতা ও সংস্কৃতির উত্থান। অর্থাৎ প্রতিটি জটিল পরিস্থিতিকে মোকাবেলা করতে গিয়ে বিশেষ বিশেষ মূহুর্তে বিজ্ঞানের এক একটি উপায় উদ্ভাবিত, ভাষার এক একটি শব্দের উৎপত্তি ।
মানুষ শৃংখলাবদ্ধ সামাজিক জীব। মানুষ তার প্রয়োজনে যেমন সমাজের গোড়া পত্তন করেছে, তেমনি সমাজে সুস্থ্যভাবে বেঁচে থাকার প্রয়োজনেই মানুষে মানুষে বন্ধুত্ব হয়েছেÑআত্মীয়তা হয়েছে। বন্ধুত্ব গড়তে কোন ধর্ম, বর্ণ, গোত্র বা জাতপাতের বালাই নেই । যে কোন পেশার বা শ্রেণীর অথবা যে কোন দেশের মানুষের সাথেই বন্ধুত্ব হতে পারে। এক্ষেত্রে সাদা-কালোরও কোন ধরাবাঁধা নিয়ম নেই। আমাদের দেশে সখি বা সই, দোস্ত বা মিতা সম্পর্ক গড়ে ওঠার একটা কালচার আজোবধি পাড়াগাঁয়ে বিদ্যমান রয়েছে। এই রীতিটির পাশাপাশি ধর্মাত্মীয় করার রেওয়াজও প্রচলিত রয়েছে। যেমন- ধর্ম ভাই, ধর্ম বোন, ধর্ম জামাতা, ধর্ম বাবা, ধর্ম মাতা ইত্যাদি। এসব সম্পর্ক স্থাপনে নানা অনুষ্ঠান ও আপ্যায়নেরও ব্যবস্থা করা হয়ে থাকে। হালে বিশ্বব্যাপী ‘পত্র মিতালী’ করার এক বিশাল নেটওয়ার্ক গড়ে ওঠেছে। মাধ্যম হিসেবে বিভিন্ন উদ্যোগী প্রকাশনায় প্রতিষ্ঠান এই দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে।
যা হোক, বন্ধুত্বের কাছে ফিরে আসি। বন্ধুত্ব-এর ইংরেজি শব্দ হলো FRIENDSHIP. এই FRIENDSHIP শব্দটির প্রতিটি এ্যালফাবেটের আলাদা আলাদা শব্দ রয়েছে। যেমন-F- Faithful (বিশ্বাসী), R- Reasonable (যৌক্তিক), I- Intelligent (বুদ্ধিমান), E- Exquisite-(সূক্ষ্মবিচার), N- Native-(অকপট). D- Dutyful-(কর্তব্যপরায়ণ), S- Social-(সামাজিক), H- Honeytongue (মিষ্টভাষী), I- Intimate (অন্তরঙ্গ), P- Placid-(শান্ত)
বন্ধুত্বের জন্য আলাদা করে দিবস পালিত হয় আমেরিকাতে, যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস আগস্ট মাসের দ্বিতীয় রোববারকে ‘ফ্রেন্ডশিপ দিবস’ হিসেবে পালনের ঘোষণা দেয়। সেই থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে ‘বন্ধুত্ব দিবস’ পালিত হয়ে আসছে। আমেরিকার মত অন্যান্য দেশেও এই দিবসটি পালিত হয়ে থাকে। ১৯৯৭ সালে ‘উইনি দ্যা পো’ নামে ‘ফ্রেন্ডশিপ এ্যাম্বেসেডার’ প্রতিষ্ঠিত হয়। ‘বন্ধুত্ব দিবস’ পালনের উদ্দেশ্য হচ্ছে-অন্তত এ দিনটি সবকিছুর উর্ধ্বে থেকে দেশে দেশে মানুষে মানুষের মধ্যে অন্তরঙ্গ একটি সম্পর্কের সৃষ্টি করা। সেই ল্েয জাতিসংঘ দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরলেও আমাদের দেশে আনুষ্ঠানিক ভাবে বন্ধুত্ব দিবস আজও উদযাপন করা হয়নি। বেসরকারী েেত্র প্রচার-প্রচারণা কম। কেবল ব্যক্তিগত উদ্যোগেই ‘বন্ধু দিবস’টি বাংলাদেশে পালিত হয়ে আসছে। আন্তর্জাতিক বন্ধু মাস হিসেবে খ্যাত ফেব্রুয়ারি মাস। ‘ওল্ড ফ্রেন্ডস-নিউ ফ্রেন্ডস উইক’ পালিত হয় মে মাসের তৃতীয় সপ্তাহে। জাতিসংঘ কর্তৃক ঘোষিত ‘ওয়ার্ল্ড অ্যাম্বেসেডার অব ফ্রেন্ডশিপ’ হচ্ছেন-‘উইনি দ্যা পো’। উল্লেখ্য, প্রতিবছর ১৪ ফেব্রুয়ারি পালিত হয় ‘বিশ্ব ভালোবাসা দিবস’।
নতুন নতুন সামাজিক উপাদানের মিথস্ক্রিয়ায় সম্পর্কের নতুন সংঙ্গা নির্মিত হয়েছে। কিন্তু বন্ধু, বন্ধুত্ব-ভালোবাসা এসব মানসিক বিষয়গুলোর অর্থ ঘুরেফিরে একই রয়ে গেছে। বন্ধুত্বের সংঙ্গা একেক জনের কাছে একেক রকম হলেও বন্ধুত্বের প্রকৃতি এবং নির্ভেজাল ভালোবাসার রূপ আজও বদলায়’নি। বিশ্বব্যাপী যখন চলছে হানাহানি, মত পার্থক্য আর একদেশকেন্দ্রীক আগ্রাসন, শোষণ, নির্যাতন এবং বিশ্বায়ন প্রক্রিয়া-তারপরও মানবীয় আবেগ, উচ্ছাস অনুভূতিকে নাড়া দিয়ে প্রতিবছর সারাবিশ্বে পালিত হচ্ছে ‘বন্ধুত্ব দিবস’ বা ‘ফ্রেন্ডসশিপ ডে’ আর বিশ্ব ভালোবাসা দিবস’। সুন্দর মন, সতেজ অনুভূতি আর সুস্থ্য শরীর ধরে রাখতে বন্ধুত্ব ও ভালোবাসার প্রয়োজন রয়েছে। এ প্রয়োজন মেটাতেই তো বিশ্বব্যাপী ‘বন্ধুত্ব দিবস’ ও ‘ভালোবাসা দিবস’ পালিত হয়ে থাকে।
আমাদের দেশে অধিকাংশ পরিবার প্রচলিত ভ্রান্ত ধারণা আর কুসংস্কারে বিশ্বাসী। এ জন্য দায়ী অশিা-কুশিা আর ফতোয়াবাজী। এসব অভিশাপ জাতিকে অন্ধকারের অতল তলে নিমজ্জিত করে রেখেছে। যে কারণে আমরা সন্দেহ, অবিশ্বাস, মিথ্যাচার আর অপ-প্রচারে লিপ্ত থেকে নিজেদেরই নির্মম পরিনাম ডেকে আনি। নিজেদের দোষ স্বীকার না করে অপরের ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে থাকি। ফলে, আমাদের মন ও মননে অবয় দেখা দেয়, নৈতিকতার স্খলন ঘটে। আমরা শত্র“ ভাবাপন্ন হয়ে ওঠি। এসবই জটিল ব্যাধি সমতুল্য। এ ব্যাধির কোন প্রতিষেধক নেই। তাই সুস্থ জীবন যাপনেরও নিশ্চয়তা নেই। কবি বলেন, ‘মায়ের মত আপন আর কেউ নেই জেনে সব আপন ভাগাভাগি হয়ে যায়।’ আমাদের এই জটিল কুটিল ও আগ্রাসী সমাজ ব্যবস্থায় বেঁচে থাকতে নিজেকে যেমন সৎ ও ভাল মানুষ হতে হবে, তেমনি বন্ধুত্ব করার জন্য সৎ ও সুন্দর মনের মানুষের সন্ধান করতে হবে।
আবেগ সাধারণত শরীরের ক্রিয়া করে। আর অনুভূতি কোন শারীরিক পরিবর্তন না ঘটিয়ে শুধূমাত্র মানসিক উত্তেজনা বা অসাড়তা সৃষ্টি করে। তারপরও আবেগ ও অনুভূতির মধ্যে পরস্পর পরিপূর্ণতা বিদ্যমান। মনোবিজ্ঞানী জেমস-এর মতে, বস্তুর প্রত্যণ মস্তিস্কেই হাইপোথেলামাস আবেগের কেন্দ্রস্থল। মস্তিস্কই হল মন বা হৃদয়ের বাহক। একমাত্র নিয়ন্ত্রক। ব্রেইনের টেম্পোরাল লোবে অসংখ্য নিউরেণের ভেতর দিয়ে ইলেক্ট্রিক ইমপালসের বিশেষ ক্রিয়াই হল ভালোবাসার স্পন্দন। তবে কারও কারও মতে, পিটুইটারি গ্রান্ড থেকে বিশেষ এক প্রকার এনজাইম নির্গত হওয়ার ফলে ভালোবাসার ভ্রুণ জন্ম নেয়। এবং তা ক্রমে ক্রমে ভালবাসায় রূপান্তরিত হয়ে এক ধরনের মোহাচ্ছন্ন নেশার সৃষ্টি করে। মোহমুগ্ধাপ্লুত নেশার প্রধান উপকরণ হল-ফিনাইল, ইথাইল ও অগামিন। সংক্ষেপে পিইএ। কারও মনে ভালোবাসা জন্ম নিলে তার মন প্রাণ অকারণেই পুলকিত হয়ে ওঠে। এটা ইউফোরিয়ার প্রভাব। অর্থাৎ জৈব-যৌগিক এর ক্রিয়ার ফল। এছাড়া ভালোবাসার পাত্র-পাত্রীদের ঘনিষ্ঠতা উত্তরোত্তর বেড়ে গেলে তাদের মস্তিস্কে এনডরফিন জাতীয় রাসায়নিক ক্ষারণ ঘটিয়ে তাদের সম্পর্ককে সুন্দর থেকে সুন্দরতম পর্যায়ে নিয়ে যায়। যা পুস্করের পুস্পিত প্রশান্ত বে শরদিন্দুর জোছনার সম্পর্কের সাথে অতুল তুলনীয়।
তবে মনোবিজ্ঞানী ম্যাকডুগাল-এর মতে, আমাদের সকল প্রকার আচরণ ও চিন্তার মূলে রয়েছে একটি করে আবেগ। যখন আমরা আবেগে আচ্ছন্ন হয়ে পড়ি, তখনই তার সহজাত ও অনুভূতি কোনক্রমেই ষড়রিপুর উর্ধ্বে নয়। বরং ষড়রিপুকে অর্থাৎ কাম ক্রোধ, লোভ, মোহ এই ক’টি দেহাভ্যন্তরের রিপুকে ধারণ করেই ভালোবাসার স্ফুরণ, ভালোবাসার আলোড়ন। বিন্দুকে কেন্দ্র করে যেমন বৃত্ত তেমনি ভালোবাসাকে কেন্দ্র করেই তো জীবন। তাই জীবন মানেই চাওয়া-পাওয়া। আরও গভীরভাবে বলতে গেলে, জীবন মানেই যৌবন। যৌবন মানেই যৌনতা। যৌনতা মানেই প্রেম গুঢ়তা। তবে এ প্রেমের আবেগ ও অনুভূতির অনুরোধকে তিন পর্যায়ে বিশ্লেষণ করা যায়। যেমন স্বাভাবিক ভালোবাসা, সতনু ভালোবাসা ও আত্মিক ভালোবাসা। প্রথমটি পরিবার আত্মীয় ও প্রকৃতিকে ঘিরে আবর্তিত। দ্বিতীয়টি বিপরীত লিঙ্গের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে গড়ে ওঠে। আর তৃতীয়টি বিশ্বাস ও ভরসায় ভর করে গড়ে ওঠে। ভালোবাসার নিবাস হৃদয়ে, নাকি মনে, নাকি মস্তিস্কেÑ বলা যায়না। তাই এর সমাধান আজও রহস্যাবৃত। এই রহস্যের জট যেদিন খুলবে সেদিন মানব জীবনে বিরহ বিচ্ছেদের যাতনাত্ত হ্রাস পাবে। আমরা সেদিনের অপোয় রইলাম।

Shamol Bangla Ads

লেখক : কবি, সাহিত্যিক, সাংবাদিক ও কলামিস্ট।

Need Ads