শেরপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. সেলিম মিঞাকে ওএসডি (বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) করা হয়েছে। তাকে ঢাকার মহাখালীর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে। ২১ জুলাই মঙ্গলবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব সাইফুল ইসলামের সই করা এক প্রজ্ঞাপনে ওই আদেশ জারি করা হয়। তার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে নানা অনিয়মের অভিযোগ ছিল।

জানা যায়, ডা. সেলিম মিঞা ২০২৪ সালের ১০ জুলাই নেত্রকোনার সিভিল সার্জন পদ থেকে বদলি হয়ে শেরপুর সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে যোগদান করেন। দায়িত্ব পালনকালে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম, সাংবাদিক লাঞ্ছনা এবং প্রশাসনিক দুর্বলতার অভিযোগ ওঠে। এর আগে, ২০২৪ সালের ১৭ নভেম্বর একটি টেলিভিশন চ্যানেলের স্থানীয় পেশাদার সাংবাদিককে লাঞ্ছিত করার ঘটনায় ডা. সেলিম মিঞার বিরুদ্ধে জেলার সাংবাদিক মহল ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। ওই সময় তার অপসারণ ও শাস্তির দাবিতে এলাকায় ব্যাপক বিক্ষোভ-মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। তার বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে স্মারকলিপিও দেওয়া হয়। কিন্তু নানাভাবে তদবির করে তখন পার পেয়ে যান তিনি।
তবে ওএসডির বিষয়ে ডা. সেলিম মিঞা্ বলেন, আমি এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানি না। তবে গত কিছুদিন ধরে নিজে থেকেই বদলির চেষ্টা করছিলাম। শেরপুরে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বিভিন্ন সমস্যার কারণে কাজ করতে গিয়ে নানা জটিলতা তৈরি হচ্ছিল।

ওএসডির বিষয়টি মঙ্গলবার রাতে নিশ্চিত করেছেন ময়মনসিংহ বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক ডা. প্রদীপ কুমার সাহা। সেলিমের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ প্রসঙ্গে ডা. প্রদীপ বললেন, ‘বিষয়টি নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কর্তৃপক্ষ ভালোভাবে বলতে পারবে।
এদিকে শেরপুর সদর হাসপাতালের নতুন তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে ডা. মুহাম্মদ এমরান হোসেনকে। তিনি এর আগে খুলনার বক্ষব্যাধি হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ছিলেন। তার বাড়ি শেরপুরের নকলা উপজেলায় এবং তিনি আগামী রবিবার দায়িত্ব গ্রহণ করবেন বলে জানা গেছে।




