স্টাফ রিপোর্টার : শেরপুরে চাঞ্চল্যকর শিশু রাহাত হত্যা মামলায় বিচার শুরু হয়েছে। ৩ ফেব্রুয়ারি বুধবার দুপুরে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে উভয় পক্ষের শুনানী শেষে শিশু রাহাতের আপন খালু আব্দুল লতিফসহ ৪ ঘাতকের বিরুদ্ধেই অভিযোগ গঠন করেন বিচারক মোঃ সায়েদুর রহমান খান। একইসাথে তিনি আসামীদের জামিনের আবেদন নাকচ করে আগামী ৯, ১০ ও ১১ ফেব্রুয়ারি টানা ৩ দিন সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করেন। ওইসময় জেলা কারাগার থেকে কড়া নিরাপত্তায় নিয়ে আসা আসামী লতিফ, রবিন মিয়া, আসলাম বাবু ও ইমরান হাজির থাকলেও তারা ছিল একেবারেই ভাবলেশহীন। এদিকে জেলা আইনজীবী সমিতির তরফ থেকে আসামীপক্ষে ওই মামলায় কোন সহায়তা না করার ঘোষণা থাকা সত্বেও সমিতির একাধিক সিনিয়র সদস্য তা উপেক্ষা করায় বাদীপক্ষসহ সচেতন মহলে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।
মামলাটি রাষ্ট্রপক্ষে ট্রাইব্যুনালের পিপি এডভোকেট গোলাম কিবরিয়া বুলু পরিচালনা করছেন। তাকে সহায়তা করছেন জেলা দায়রা আদালতের পিপি এডভোকেট চন্দন কুমার পালসহ বেশ কয়েকজন আইনজীবী।
উল্লেখ্য, গত বছরের ২ আগস্ট দুপুরে শেরপুর শহরের বিপ্লব-লোপা মেমোরিয়াল গার্লস স্কুলের প্রথম শ্রেণির ছাত্র আরাফাত ইসলাম রাহাতকে (৮) তার আপন খালু আব্দুল লতিফসহ কয়েকজন দুর্বৃত্ত অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি করে। অপহরণের ৬ দিন পর ৮ আগস্ট দুপুরে নালিতাবাড়ীর মধুটিলা ইকোপার্ক সংলগ্ন পাহাড় থেকে অপহৃত শিশু রাহাতের কঙ্কাল উদ্ধার করে পুলিশ। ওই ঘটনায় নিহত রাহাতের খালু লতিফসহ অপর তিন আসামী রবিন মিয়া, আসলাম বাবু ও ইমরান আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। তদন্ত শেষে পুলিশ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৭/৮/৩০ ধারা এবং তৎসহ দঃবিঃ ৩০২/২০১/৩৪ ধারায় ২৯ নবেম্বর লতিফসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে। পরবর্তীতে নিম্ন আদালত ১৩ ডিসেম্বর মামলাটি বিচারের জন্য ট্রাইব্যুনালে পাঠায়।
এ ব্যাপারে ট্রাইব্যুনালের পিপি এডভোকেট গোলাম কিবরিয়া বুলু বলেন, ঘটনার বিষয়ে শিশু রাহাতের আপন খালু আব্দুল লতিফসহ ৪ ঘাতকই গ্রেফতারের পর আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। কাজেই অভিযোগের স্বপক্ষে পর্যাপ্ত প্রমাণ থাকায় তাদের সকলের বিরুদ্ধেই অভিযোগ গঠন করেছেন ট্রাইব্যুনাল। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, স্বল্পতম সময়ে সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ করে দ্রুতই বিচার নিস্পত্তি করা যাবে।




