শ্যামলবাংলা ডেস্ক : গত ২৪ ঘন্টায় রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে বজ্রপাতে ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এতে আহত হয়েছেন আরও ২৯ জন। গতকাল শুক্রবার দুপুর থেকে আজ শনিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত ঝড়বৃষ্টি চলাকালে ওই ঘটনা ঘটে।
বজ্রপাতে চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায় বজ্রাঘাতে জান্নাতুল বকেয়া (৮) এবং মোবারক (১০) নামে দুই ভাই-বোন নিহত হয়েছেন। ১৬ মে শনিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তাদের মৃত্যু হয়। বাঁশখালী থানার ওসি কামরুল হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মাগুরায় পৃথক স্থানে বজ্রপাতে তিনজন নিহত এবং নারীসহ পাঁচজন আহত হয়েছেন। সন্ধ্যায় বয়ে যাওয়া ঝড়োবৃষ্টির সময় এ হতাহতের ঘটনা ঘটে। এ সময় বজ্রপাতে উপজেলার লক্ষীপুর গ্রামের মলিন হোসেন (২৫), আন্দোলবাড়িয়া গ্রামের সিনবাদ মিয়া (২২) এবং ঝিনাইদহ জেলার হাটগোপালপুর পাইকপাড়ার ইয়াদুল হোসেন (৪০) নামে তিনজন গুরুতর আহত হন। আশঙ্কজনক অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান তারা।
গাজীপুরের শ্রীপুরে বজ্রপাতে দুই ব্যক্তি নিহত ও তিনজন আহত হয়েছেন। নিহতরা হলনে: শ্রীপুর উপজেলার বেলদিয়া গ্রামের মিয়ার উদ্দিন মেঘুর ছেলে কৃষক নছর উদ্দিন (৬০) ও টাঙ্গাইল জেলার মধুপুর গ্রামের আহাম্মদ আলীর ছেলে ছফির উদ্দিন (৩৫)। শ্রীপুর থানার ওসি আবদুল মোতালেব মিয়া জানান, শ্রীপুর উপজেলার বেলদিয়া গ্রামে জমিতে কৃষি কাজ শেষে গতকাল শুক্রবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে।
রাজবাড়ী সদর উপজেলায় বজ্রপাতে দেবর ও ভাবির মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় উপজেলার বসন্তপুর ইউনিয়নের নূরপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। তারা হলেন: ওই আবুল বাশার শেখের ছেলে কোলা উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর ছাত্র রুবেল শেখ (১৫) ও তাঁর বড় ভাইয়ের স্ত্রী পারভিন বেগম (১৮)।
স্থানীয়রা জানায়, সন্ধ্যায় দেবর ও ভাবী বাড়ির বারান্দায় বসেছিলেন। হঠাৎ বজ্রপাত হলে তারা দুজন মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। দ্রুত তাদের উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলায় শহিদুল্লাহ (১৩) নামে এক স্কুলছাত্র এবং ইঞ্জিন মিয়া (৪০) নামে এক কৃষক বজ্রপাতে মারা গেছেন। টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারে বজ্রপাতে আরিফ হোসেন (২২) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। এতে আরো দুইজন আহত হয়েছেন। সন্ধ্যা ৬টায় উপজেলার লাউহাটি উত্তরপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। আরিফের বাড়ি উপজেলার উত্তর পাড়া গ্রামে। আহতরা হলেন: একই গ্রামের আলী হোসেন (৫৫) ও রাব্বি (১৬)।
ঝিনাইদহের বিভিন্ন উপজেলায় বজ্রপাতে দুইজন মারা গেছেন। এরা হলেন: সদর উপজেলার পাইকপাড়া গ্রামের উবায়দুর রহমান (৪০) ও শৈলকুপা উপজেলার কুমিরাদহ গ্রামের ইনতাজ আলী (৭০)। জেলা আহত হয়েছেন ৯ জন।
এ ছাড়া, বজ্রপাতে রাজধানীর চন্দ্রিমা উদ্যানে ক্রিকেট খেলা অবস্থায় বাদল (১৪) নামের এক কিশোর, ঝিনাইদহ জেলার শৈলকুপায় বজ্রপাতে ইন্তাজ আলী (৫৫) নামে এক কৃষক, সিলেটের জৈন্তাপুর এলাকায় মায়ারুন (৪৫) নামে এক নারী এবং মৌলভীবাজারে সফর মিয়া (৭) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।




