এসএমএ সিনহা, ঠাকুরগাঁও : গ্রীষ্মের রসালো ফল তরমুজ। সুস্বাদু এই ফলটি গরমে মানুষের যেমন তৃষ্ণা মেটায় তেমনি আনে স্বস্তি। তরমুজ সবার কাছেই প্রিয়। শহরবাসী অথবা গ্রামের মানুষ সবাই কমবেশি পছন্দ করে তরমুজ। এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণ পানি। তরমুজে শতকরা ৬ ভাগ চিনি এবং ৯২ ভাগ পানিসহ অন্যান্য ভিটামিন জাতীয় উপকরণ রয়েছে। এর পুষ্টিগুণ যেমন তেমনি দেশি ফলের ভেতরে দামও তুলনামূলক কম থাকায় গরমে স্বস্তি পেতে মানুষ তরমুজ খায়। আমাদের ঠাকুরগাঁওসহ দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় তরমুজের চাষ হয়। বর্তমানে চলছে তরমুজের মৌসুম। ঠাকুরগাঁওয়ের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ট্রাক ভর্তি করে বিভিন্ন বাজারে প্রবেশ করছে তরমুজ। এমনিতেই গরমের ফল, তার সঙ্গে যোগ হয়েছে তীব্র দাবদাহ। ফলে তরমুজের চাহিদা বেড়েছে। তরমুজের নানা জাত থাকলেও, মানুষ পাকা, লাল ও মিষ্টি তরমুজ পছন্দ করে। তাই এর চাহিদাও বেশি। আর মানুষের চাহিদার কথা বিবেচনা করে অসাধু ব্যবসায়ীরা করছে নানারকম কারসাজি। খাদ্যে ভেজাল মেশানো, তিকর দ্রব্যের সাহায্যে খাদ্যদ্রব্য পাকানো, দীর্ঘদিন খাদ্যদ্রব্যকে সংরণ করতে তিকারক ফরমালিন মেশানোর মতো জঘন্য কাজ দামি খাবারেই করা হতো এ রকম বিশ্বাস ছিল সাধারণ মানুষের। তরমুজের মতো সস্তা ফলে তিকারক কোনো উপাদান মেশানো হয় না, এই বিশ্বাস ভাঙতে শুরু করেছে। মানুষের ভেতরের পশুবৃত্তি, আমাদের কোথায় নামিয়ে নিয়ে গেছে, তার উদাহরণ খাদ্যদ্রব্যে তিকারক দ্রব্য মেশানোর মধ্য দিয়ে স্পষ্ট। তরমুজের মতো সহজলভ্য এবং আপাতদৃষ্টিতে বাজারের অন্য যে কোনো ফলের চেয়ে সস্তা ফলেও এখন দেদার মেশানো হচ্ছে জনস্বাস্থ্যের জন্য তিকারক উপাদান। তরমুজকে পাকা এবং লাল দেখানোর জন্য মেশানো হচ্ছে বিপজ্জনক লাল রং ও মিষ্টি সেকারিন। ইনজেকশনের সিরিঞ্জের মাধ্যমে তরমুজ বোটা দিয়ে এসব দ্রব পুশ করে তরমুজ পাকা ও লাল বলে বিক্রি হচ্ছে। তিকারক দ্রব্য মেশানো এ ধরনের তরমুজ খেয়ে সারাদেশে শিশুসহ বিভিন্ন বয়সের মানুষ যেমন অসুস্থ হচ্ছে তেমনি মৃত্যুর মতো মর্মান্তিক ঘটনাও ঘটছে। ইতোমধ্যেই কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে বিষাক্ত রাসায়নিক মেশানো তরমুজ খেয়ে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া আরো প্রায় দুই ডজন মানুষ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে আসা তথ্য থেকে জানা যায়, শহরের ফলের দোকান গুলোতে ভোর বেলায় পুরনো ব্যবহৃত ইনজেকশনের সিরিজের মাধ্যমে বিষাক্ত লাল রং ও মিষ্টি সেকারিন পানি মেশানো হচ্ছে। তরমুজের বোঁটা বা নিচের অংশে কৌশলে ইনজেকশনের সুই ঢুকিয়ে কেমিক্যাল মেশানোর কাজ করানো হয়। কেমিক্যাল মেশানোর কারণে তরমুজ হয়ে ওঠে টকটকে লাল রঙের এবং স্বাদেও তা হয় মিষ্টি। আর এই তরমুজগুলোই দোকানে ছুরি দিয়ে কেটে পাকা দেখিয়ে বেশি দাম আদায় করা হয়। সেই সঙ্গে তরমুজ যেন নষ্ট না হয়, সে কারণেও মেশানো হচ্ছে কেমিক্যাল। বিষাক্ত কেমিক্যাল মেশানো তরমুজ খেয়ে মানুষ অসুস্থ হচ্ছে। সবচেয়ে তির সম্মুখীন হচ্ছে শিশুরা। খাদ্যদ্রব্যে তিকারক কীটনাশক, নিষিদ্ধ রং আর বিষাক্ত কেমিক্যাল মেশানোর ফলে কিডনি, লিভারের সমস্যা বাড়ছে। খাদ্যে ভেজাল রুখতে আইনের কঠোর প্রয়োগ যেমন জরুরি তেমনি জরুরি জনসচেতনতা বাড়ানো।




