নাটোর প্রতিনিধি : মানবতাবিরোধী অপরাধে জামায়াতের আমির মতিউর রহমান নিজামীর রায়কে ঘিরে নাশকতার আশঙ্কায় নাটোরে দুই প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে। এ ছাড়া বুধবার ভোর রাতে জেলার বিভিন্নস্থানে অভিযান চালিয়ে জামায়াত-শিবিরের ৯ নেতা-কর্মীকে আটক করেছে পুলিশ।

আটকৃতরা হলো, নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার জামায়াতের পৌর সেক্রেটারি মতিউর রহমান, কর্মী দুলাল হোসেন, লালপুরের ছাত্রশিবির সাধারণ সম্পাদক শাজাহান হোসেন, আকমল হোসেন, নলডাঙ্গার জালাল উদ্দিন শেখ ও বেলাল হোসেন, সিংড়া উপজেলা ছাত্র শিবিরের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক বেলাল হোসেন, শিবির কর্মী আমিনুল ইসলাম ও হাসান আলী।
নাটোর পুলিশ সুপার বাসুদেব বণিক জানান, বুধবার আইনশৃঙ্খলা অবনতির আশঙ্কায় দুই প্লাটুন বিজিবি মোয়াতেন করা হয়েছে।
নাটোরের গুরুদাসপুরে মালামালসহ ২ ডাকাত আটক

নাটোরের গুরুদাসপুরে ডাকাতির মালামাল সহ দুই ডাকাতকে আটক করেছে পুলিশ। বনপাড়া-হাটিকুমরুল সড়কের কাছিকাটা টোলপ্লাজায় নিয়মিত চেকিং পোস্টে মঙ্গলবার রাতে তাদের আটক করা হয়। তারা নাটোর সদরের লালবাজার কারুকাঞ্চন জুয়েলার্সে ডাকাতি করে ও অন্যান্য জায়গায় ডাকাতি করা মালামাল নিয়ে ফিরছিল বলে জানায় গুরুদাসপুর থানার অফিসার ইনচার্জ ইব্রাহিম হোসেন।
এ সময় ডাকাতদের কাছ থেকে স্বর্ণের চেন, কানের দুল, ঝুমকা, নাকফুল, রূপার দুল, নগদ ১২ হাজার ৬৩০ টাকা, ২টি চা পাতি, ২টি মোবাইল সেট উদ্ধার করা হয়।
থানা পুলিশ সুত্রে জানা যায়, নাটোরের লালবাজার কারুকাঞ্চন জুয়েলার্সে ডাকাতি করে বনপাড়া-হাটিকুমরুল মহাসড়ক দিয়ে হায়েচ মাইক্রোযোগে (নং-ঢাকা মেট্রো-চ-১৫-৫৩৩৬) পালানোর সময় কাছিকাটা টোলপ্লাজায় ডাকাতির মালামাল সহ আন্তজেলা ডাকাত দলের সদস্য চট্রগ্রামের মাইক্রো ড্রাইভার শেখ ফরিদ (৩০) ও সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ার হাসান আলী (৩৩) কে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। তাদেরকে থানায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নাটোরের এমপি শফিকুল ইসলাম শিমুল, স্থানীয় এমপি অধ্যাপক আব্দুল কুদ্দুস ও নাটোর জেলা পুলিশ সুপার বাসুদেব বণিক উপস্থিত ছিলেন।
বেগম জিয়ার নাটোর আগমন ও যুবদলের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে সিংড়ায় যুবদলের বর্ণাঢ্য র্যালী
বেগম জিয়ার নাটোর আগমন ও জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৩৬ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে সিংড়ায় বর্ণাঢ্য র্যালী ও কেক কেটে প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালন করেছে সিংড়া শহর যুবদল। বুধবার সকাল সাড়ে ১১ টায় সিংড়া বাসষ্ট্যান্ড এলাকায় এক বর্ণাঢ্য র্যালী শেষে শহর বিএনপির কার্যালয়ে কেক কেটে প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালন করা হয়।
সিংড়া শহর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও থানা শ্রমিক দলের সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন, থানা যুবদলের সভাপতি তায়েজুল ইসলাম, শহর যুবদলের আহবায়ক রুহুল আমিন, যুগ্ম আহবায়ক আবু সাইদ পলাশ, শ্রমিক দলের সভাপতি আহসান হাবিব রোজ, থানা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি রফিকুল ইসলাম, থানা ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি সাইদুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহাদৎ হোসেন, শহর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আপেলসহ বিএনপি, যুবদল ও অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
জালাল উদ্দিন কারিগরি’র সুপারের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ এর অভিযোগ ভূয়া সনদে শিক্ষক নিয়োগ
বিধি বহির্ভূতভাবে প্রচুর অর্থের বিনিময়ে ভূয়া সনদধারী শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ায় নাটোরের সিংড়া উপজেলার আলহাজ্ব জালাল উদ্দিন কারিগরি উচ্চ বিদ্যালয়ের সুপারিন্টেডেন্ট নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন অত্র প্রতিষ্ঠানের দাতা সদস্য ফেরদৌসি বেগম। গত মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) অভিযোগ দায়ের’র পর শিক্ষা সচিব, সংশ্লিষ্ট মহাপরিচালক, জেলা শিক্ষা অফিসসহ বিভিন্ন দপ্তরে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য অনুলিপি প্রেরণ করেছে। তাছাড়া অবৈধ ভাবে নিয়োগ প্রাপ্ত ওই ছয় শিক্ষকসহ ম্যানেজিং কমিটির বিরুদ্ধে সিংড়া সহকারী জজ আদালতে একটি মামলা চলমান রয়েছে। এতে ওই প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিয়ত শিক্ষার্থীদের পাঠদান বিঘিœত হচ্ছে বলে জানা গেছে।
অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সুপার নজরুল ইসলাম শিক্ষা নীতিমালা বহির্ভূত ও অবৈধ ভাবে নিজে সুপার পদে নিয়োগ নেন। অথচ ওই পদে তার নূন্যতম যোগ্যতা নেই, অভিযোগ রয়েছে, ভূয়া ডিজি প্রতিনিধি সাজিয়ে জাল স্বাক্ষর ও জাল সার্টিফিকেট দিয়ে নিয়োগ নেন। অথচ এসএসসি ও এইচএসসিতে ৩য় বিভাগ প্রাপ্ত একজন ব্যক্তি কোন ক্ষমতা বলে রাতারাতি সুপার হন তা নিয়ে নানা প্রশ্নের দানা বেধেছে শিক্ষক সমাজ ও এলাকাবাসীর মনে। ইতোপূর্বে ২০১০ সালে জেলা শিক্ষা অফিসার ইব্রাহীম খলিলুল্লাহ নজরুল ইসলামকে সুপার পদে নিয়োগে অনিয়মের কারণে দু’বার কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠান। ২০০৮সালের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের শিক্ষা পরিদর্শক শফিকুল ইসলাম সিদ্দিকির এক তদন্ত প্রতিবেদনে জানা যায় বর্তমান সুপার নজরুল ইসলামের সনদ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান সরকার কর্তৃক অনুমোদন না থাকায় তার সনদ গ্রহণযোগ্য নহে। সুপার নজরুল ইসলাম প্রতিষ্ঠানের জরুরী কাগজপত্র নিজ বাসায় রাখেন এবং বারবার প্রতিষ্ঠানের হিসাব নিকাশের তাগিদ দেওয়ার পরও কোন মিটিং দিচ্ছেন না। তাছাড়া ভূয়া শিক্ষক নিবন্ধন দিয়ে চাকুরীসহ সীমাহীন দূর্নীতি ও অনিয়মগুলো ওই প্রতিষ্ঠানে নিয়ম কানুনে পরিণত হয়েছে বলে জানা গেছে।
এবিষয়ে দাতা সদস্য ফেরদৌসি বেগম ও প্রতিষ্ঠাতা সদস্য মাহবুবুর রহমান অভিযোগ দায়েরের সত্যতা স্বীকার করে তারা জানান, নজরুল ইসলাম প্রতিষ্ঠান প্রধান হওয়ার পর থেকে কোন অর্থনৈতিক হিসাব দেননি। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই ভূয়া সনদধারী শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে প্রায় ৩০ লক্ষাধিক টাকা আত্মসাৎ করেছে সুপার। আর স্কুলে কোন নিয়ম কানুন নেই, শিক্ষার কোন পরিবেশও নাই। শিক্ষানুরাগী সদস্য ইসমাইল হোসেন মোবাইল ফোনে এই প্রতিবেদককে জানান, দু’বছরের কমিটিতে একটি মাত্র মিটিং হয়েছে। সেই মিটিংয়ে কোন অর্থনৈতিক হিসাব দিতে পারেননি।
সুপার নজরুল ইসলামের মোবাইল (০১৭১৮-০৮৬০৬০) নম্বরে যোগাযোগ করা হলে প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন বিষয়ে সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে স্বীকার করে জানান, ভেতরের অনেক ব্যাপার রয়েছে। তবে তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ মিথ্যা।
উপজেলা নির্বাহী সালমা খাতুন জানান পদাধিকার বলে তিনি উপজেলার সকল কারিগরী প্রতিষ্ঠানের সভাপতি। আর এই সকল প্রতিষ্ঠানে অনেক অনিয়ম রয়েছে। বিষয়টি তিনি তদন্ত’র আশ্বাস দেন।




