ডুমুরিয়া (খুলনা) প্রতিনিধিঃ ডুমুরিয়ায় বিআরডিবি অধিদপ্তরের উদ্যোগে উপজেলার ৪০জন অপ্রধান শষ্য চাষীকে নিয়ে পাঁচদিন ব্যাপি প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে। গত রোববার সকাল দশটায় অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ কক্ষে অনুষ্টিত এ কর্মসুচীতে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা বিআরডিবি কর্মকর্তা সাবিহা খানম। এ সময় শুভ উদ্ভোদন ও প্রধান অতিথি’র বক্তব্যদেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ সামছু-দ্দৌজা। অনুষ্টানে আরও বক্তব্যদেন, উপজেলা সহকারী কমিশানার (ভূমি) মেহেদী হাসান, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা এবিএম কামরুজ্জামান, বিআরডিবি’র সামছুর রহমান প্রমুখ। প্রশিক্ষনে অপ্রধান শষ্য আদা, হলুদ, ডাল, ভুট্রা উৎপাদন পদ্ধতি, সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াকরণ ও বাজারজাতসহ প্রযুক্তিগত কলাকৌশলের উপর আলোচনা করা হয়।

ডুমুরিয়ায় প্রভাবশালীদের কালো থাবায়…………..
বিলিন হতে চলেছে শত বর্ষীয় ধর্মীয় ও গ্রামীণ উৎসব, পুনঃরুদ্ধারে মাঠে নেমেছে সচেতন এলাকাবাসী

ডুমুরিয়ার দোলখোলা মাঠে শত বছর ধরে উদযাপিত ধর্মীয় উৎসব ও গ্রামীণ মেলা বিলিন হতে চলেছে। একশ্রেনীর প্রভাবশালী ব্যাক্তি ভুয়া দলিল দেখিয়ে জায়গাটি দখলে নিয়ে সেখানে জোরপূর্বক বাজার বসিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে এলাকার সচেতন মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানটি পুনঃরুদ্ধারে বৃহত্তর আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, উপজেলার মাগুরাঘোনা ইউনিয়নের দোলাখোলা মাঠে এ বছর কালিপূঁজা উপলক্ষে আয়োজিত ধর্মীয় উৎসব ও গ্রামীন মেলা যেন-তেন ভাবে সম্পন্ন হয়েছে। আয়োজক কমিটির শত চেষ্টা করেও জায়গা মেলাতে পারেনি। ফলে সনাতন ধর্মালম্বীদের সাথে সচেতন মানুষেরাও হয়েছেন মর্মাহত। এ ব্যাপারে স্থানীয় প্রবীন কৃষক জোবান আলী শেখ (৬০) জানান, এখানে এক সময় দীনবন্ধু ঘোষ ও অক্ষয় ঘোষ নামে দুই জমিদার ছিলেন। তখন জমিদার বাড়িতে চৈত্র মাসে দোলপঁুঁজা এবং কার্ত্তিক মাসে বৃহৎ আকারে কালীপূঁজা হত। পূঁজার পরে এখানে বিরাট বাজার বসত এবং গ্রামীণ উৎসব ঢালী খেলা, লাঠি খেলা ও পালা গানের আসর বসত। জমিদার বাড়িটি প্রায় তেইশ বিঘা সম্পত্তি নিয়ে ঘেরা ছিল। পরে আনুমানিক ১৯৫০ সালের দিকে তারা সবকিছু রেখে ভারতে চলে যায়। তারপর এখানকার হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষেরা সেই থেকে পূঁজার আয়োজন করত। এর কয়েক বছর পর বাড়িটি পাশের মালতিয়া গ্রামের হামিদুর আলী সরদার ও তার ভাই ওমর আলী সরদার মালিক বনে গিয়ে সমগ্র সম্পত্তি দখলে নেয়। কিন্তু তখনও পূঁজা এবং মেলার উৎসব অব্যাহত ছিল। পরে তাদের মৃত্যু’ হলে দুই ভাইয়ের সন্তান সাইদুর রহমান লাকু ও আজহারুল ইসলাম ওই জমির মালিক হয়। এখন তারা সেই মেলার স্থানে স্থায়ীভাবে দোকান-পাট তৈরী করে বাজার বসিয়েছে। এ ছাড়া এলাকার মহসীন সরদার, ডাঃ আমজাদ হোসেন, মোঃ সোহরাব হোসেন, শহিদুল ইসলামসহ অনেকেই জানান, আমরা ছোট বেলায় এখানে পূজার বাজার ও মেলা হতে দেখেছি। তখন এ অঞ্চলের সকল মন্দির থেকে প্রতিমা এই মাঠে আনা হত। বাজি ফুটানো, বাজাদারদের সাঁনাই, ঢাক-ঢোল বাজনার প্রতিযোগিতা ও আরুতি শেষে পাশের জমিদারের পুকুরে মুর্তি বিসার্জন দেওয়া হত। কিন্তু এখন আর হয় না। চার বছর আগে থেকে সেখানে জমির মালিকরা ঘর তৈরী করে বাজার বসিয়েছে। এ বছর আমরা অনুরোধ করে যেন-তেন ভাবে আয়োজন করেছি। আগামী বছর কি হবে বলা যাচ্ছে না। হয়ত হারিয়ে যাবে এলাকার শত বছরের ঐতিহ্য ঘেরা এ উৎসবটি। জমির মালিকানা নিয়ে তারা জানান, জমিটি ওরা ভূয়া বা অবৈধ ভাবে নিলাম কিনে মালিক হয়েছে। এখন আমরা ওই জমির মালিকানার বিষয়টি উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে সুষ্ঠ তদন্তের দাবি জানাচ্ছি। অন্যথায় বিষয়টি নিয়ে আমরা বৃহত্তর আন্দোলন সংগ্রাম গড়ে তুলবো। ওই এলাকার হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে ইউপি সদস্য হরিদাশ বৈদ্য, শ্যামাপ্রসাদ হরি, সুকদেব বৈদ্যসহ অনেকেই জানান, উৎসব হিন্দু ধর্মীয়দের হলেও এখানে সকলে আনন্দ উপভোগ করে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আমরা শংকায় আছি। এ ব্যাপারে জমির মালিক সাইদুর রহমান জানান, ওই সম্পত্তি আমরা নিলাম সুত্রে ক্রয় করে ভোগ দখল করছি। এখন আমাদের জায়গায় মেলা হবে কেন।




