আরিফ মাহমুদ, কলারোয়া (সাতক্ষীরা) : অবৈধভাবে ভারতে যাওয়ার চেষ্টাকালে কলারোয়া সীমান্তে বিজিবি ১৫ নারী-পুরুষ ও শিশুকে আটক করেছে। মঙ্গলবার বিকেল ৫ টার দিকে কলারোয়ার সীমান্তবর্তী ভাদিযালি গ্রামে এরা আটক হয়। কাকডাঙ্গা বিওপি’র সুবেদার গোলাম সরোয়ার সাংবাদিকদের জানান, ভাদিয়ালি গ্রামের সোনাই নদীর পাড়ে ১৫ নারী-পুরুষ ও শিশুদের দেখে টহলরত বিজিবি সদস্যরা তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এসময় এরা ভারতে যাচ্ছিলো বলে স্বীকার করলে তাদের আটক করেন বিজিবি সদস্যরা। এরা হলো: খুলনার তেরখাদার রাজু বিশ্বাস (৩৬), তাসলিমা বিশ্বাস(২৭), রাহান বিশ্বাস (৪), রমজান বিশ্বাস (১৫), নুরুল ইসলাম(৩০), মরিয়ম (২৮), আল আমিন(১৩), রুহুল আমিন(১১), জান্নাতুল(৯), ময়না(৩৩), শরিফা(২৮), সাজেদা(২৬), জনি(৪), হাসান আলি(১৯) ও আলাউদ্দিন(২১)

অগ্নিদগ্ধ মা ও ভাইও যেন পিছু ছাড়ছে না
সবাইকে কাঁদিয়ে ‘না ফেরার দেশে’ চলে গেলো কলেজ শিক্ষকের অগ্নিদগ্ধ শিশুপুত্র তামিম
সবাইকে কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে চলে গেলো কলেজ শিক্ষকের অগ্নিদগ্ধ শিশুপুত্র তামিম। মঙ্গলবার রাত ৮টা ২৫মিনিটের দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তামিম মারা যান। উপজেলার লাঙ্গলঝাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১ম শ্রেনির ছাত্র তামিম আসাদ (৬) আর দুরন্তপনা করবে না বন্ধুদের সাথে। টানা ৬দিন চরম যন্ত্রনাভোগের পর মৃত্যুর কাছে পরাজিত হতে হলো তাকে। গত ৯অক্টোবর বৃহষ্পতিবার গভীর রাতে উপজেলার লাঙ্গলঝাড়া গ্রামের বাড়িতে কলারোয়ার শেখ আমানুল্লাহ ডিগ্রী কলেজের প্রভাষক খলিলুর রহমানের ঘুমন্ত পরিবারের উপর দূর্বৃত্তরা পেট্রোল ঢেলে অগ্নিসংযোগ করে। এঘটনায় খলিলুর রহমান (৪৫) সামান্য অগ্নিদদ্ধ হলেও শরীরের সিংহভাগ পুড়ে ঝলসে যায় স্ত্রী শাহানারা খাতুন ঝর্ণা (৩৫), দুই শিশু পুত্র তানভির আসাদ (১১) ও তামিম আসাদ (৬) এর। মারাত্মক ক্ষতবিক্ষত অবস্থায় ওই দিনই ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে তাদের ভর্তি করা হয়। আশংকাজনক অবস্থায় টানা ৬দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে মা ও ভাইকে ফেলে না ফেরার দেশে চলে গেলো তামিম। মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে এরিপোর্ট লেখার সময় শাহানারা খাতুন ও তানভির আসাদের অবস্থাও আশংকাজনক বলে জানা গেছে। সকলের দোয়া বিফল করে প্রিয়জনদের ছেড়ে চলে যাওয়ার সময়ও তামিমের মা ও ভাইও যেন তাকে পিছু ছাড়ছে না। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে অবস্থানরত কলারোয়া শেখ আমানুল্লাহ কলেজের উপাধ্যক্ষ রেজাউল ইসলাম জানান, বুধবার সকালে ময়না তদন্ত শেষে সামান্য আহত পিতা খলিলুর রহমান তার শিশুপুত্রের লাশ নিয়ে কলারোয়ায় ফিরবে। লাশ দাফন সম্পন্ন শেষে ছোট ছেলেকে চিরতরে রেখে চিকিৎসার জন্য আবারো তিনি আশংকাজনক অগ্নিদগ্ধ স্ত্রী ও বড় পুত্রের কাছে ঢাকা মেডিকেলে যাবেন।

অবৈধ সীমান্ত অতিক্রম বন্ধ করার নিমিত্তে কলারোয়ার চন্দনপুরে বিজিবির মতবিনিময় সভা
অবৈধ সীমান্ত অতিক্রম বন্ধ করার নিমিত্তে কলারোয়ার চন্দনপুরে বিজিবির উদ্যোগে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে স্থানীয় চন্দনপুর হাইস্কুল চত্বরে আয়োজিত ওই সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বিজিবির খুলনা সেক্টর কমান্ডার কর্নেল খলিলুর রহমান। চন্দনপুরের পার্শ্ববর্তী শার্শার কায়বা বিওপির আয়োজনে স্থানীয় সুধি ও জনপ্রতিনিধিদের সাথে ওই মতবিনিময় সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনা, ২৩ বিজিবি ব্যাটালিয়নের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক মেজর আব্দুল্লাহ আল ফারাজী। প্রধান অতিথির বক্তব্যে কর্নেল খলিলুর রহমান বলেন, সীমান্তে অবৈধ পারপার যে কোনো মূল্যে রুখতে হবে। মাদকের করাল গ্রাস থেকে বর্তমান প্রজন্মকে রক্ষা করা সকলের নৈতিক দায়িত্ব। সীমান্তে মাদক ও নারী-শিশু পাচার বন্ধ করার আহবান জানিয়ে তিনি আরো বলেন, এ পাচার রুখতে সামাজিকভাবে গণ প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। মতবিনিময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন চন্দনপুর ইউপি চেয়ারম্যান ডা. রমজান আলি, কায়বা বিওপির সুবেদার আলমগীর হোসেন, সমাজসেবক ইছহাক আলি, কলারোয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি গোলাম রহমান, সাবেক সা.সম্পাদক শেখ জুলফিকারুজ্জামান জিল্লু, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আতাউর রহমান, এমএ সাজেদ, এসএম ফারুক প্রমুখ।




