তাপস চন্দ্র সরকার, কুমিল্লা : সৌদি আরবের রিয়াদের একটি সোফা ফ্যাক্টরিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে কুমিল্লার সাত শ্রমিক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরো ৪ জনসহ মোট ১১ শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ৭ জনের বাড়ি কুমিল্লার হোমনা, তিতাস ও মেঘনায়। নিহতদের স্বজনদের কাছে তাদের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে সেখানে এখন শোকের ছায়া নেমে এসেছে। চলছে শোকের মাতম। নিহতরা হলেন- কুমিল্লার হোমনার চান্দেরচরের ইসমাইল হোসেনের ছেলে বাহাউদ্দিন ও মো: সেলিম, হোমনার কলাগাছিয়ার মতিউর রহমান, কুমিল্লার তিতাসের মো. জালাল নাজির হোসেন ও শাহ আলম, মেঘনার আবদুল গাফ্ফার।
সূত্র জানায়, হিলা কোম্পানির স্বত্ত্বাধিকারী ‘সৌদি হিলা’র কাছ থেকে মাসিক চুক্তিতে কুমিল্লা জেলার তিতাস থানার কালিপুর গ্রামের রাজু উদ্দিন ও তার ভাই ময়নাল ‘তিতাস ফার্নিচার’ নাম দিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন। রাজু এ ঘটনায় আহত হয়েছেন। ওই ফ্যাক্টরিতে কমরত কুমিল্লার হোমনার মো: মাসুম কুমিল্লার নিহতদের পরিবারের সদস্যদের ফোন করে তাদের মৃত্যুর খবর জানানোর পর সেখানে এখন শোকের মাতম। সৌদী যাওয়ার পরপরই হোমনার বাহাউদ্দিন ও মো: সেলিম পুত্র সন্তানের পিতা হলেও তাদের সেই চাঁদ মুখ নিজের চোখে দেখে যেতে পারেন নি। ঋণ করে সুখে আসায় পারি জমানো ঐ সাত জনের পরিবারে এখন অমানিশার অন্ধকার। এখন শুধু লাশ আসার অপেক্ষায় স্বজনরা। ৭ পরিবারের লোকজন অসহাত্বের মতো তাকিয়ে রয়েছে সাংবাদিকদের সামনে আর কান্নায় ভেঙ্গে পড়ছে। কি হবে আমাদের পরিবার, কারও ঋণের বোঝা, স্বামী হারা স্ত্রী, সংসার বাঁধার আগেই স্বামীকে হারিয়ে নির্বাক স্ত্রী। শিশু সন্তানদেরকে নিয়ে কি করবে স্ত্রী, কার কাছে যাবে। ওই সব এলাকায় শান্তনা দেওয়ার মতো কেহই নেই। সবার চোখেই কান্নার রোল। আকাশ বাতাস ভারী হয়ে উঠছে। নিহতদের লাশ দ্রুত দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা নেয়ার পাশাপাশি নিহতদের যথাযথ ক্ষতিপূরণ দেয়ার নিশ্চয়তা দেয়া কথা জানিয়েছেন সৌদি আরবের বাংলাদেশ দূতাবাসের লেবার কাউন্সিলর মিজানুর রহমান।

মূর্ছা যাচ্ছেন বাহাউদ্দিনের মা, নির্বাক স্ত্রী :
‘আব্বাগো আমারে কই ফালাইয়া গেলা, আল্লাহ তুমি আমার ফুতেরে (ছেলে) ছাইয়া রাইক্ষো।’ ছেলের মৃত্যুর খবর শুনে এমনি আহাজারি করছিলেন সৌদি আরবে অগ্নিকাণ্ডে নিহত মো. বাহাউদ্দিনের (৩০) বৃদ্ধা মা শাহিদা বেগম। বাড়ির উঠানে বিলাপ করছিলেন তার বৃদ্ধ বাবা। আর বোবা কান্নায় নির্বাক হয়েছিলেন তার স্ত্রী। গত সোমবার স্থানীয় সময় রাত ১০টায় সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের সিফা সানাইয়া এলাকার একটি সোফা ফ্যাক্টরিতে সৃষ্ট অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে মৃত্য হয় বাহাউদ্দিনের। তার মৃত্যুর খবর শোনার পর থেকেই নিজ গ্রাম হোমনার চান্দেরচর ইউনিয়নের চান্দেরচর গ্রামের আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠে। চারদিকে কান্নার রোল পড়ে যায়।
সরেজমিনে চান্দেরচরে বাহাউদ্দিনের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, এদিক-ওদিক তাকিয়ে হারানো ছেলেকে যেন খুঁজে ফিরছেন বাহাউদ্দিনের ৭৫ বছর বয়সী বৃদ্ধ বাবা ইসমাইল হোসেন। আর ডুকরে ডুকরে কাঁদছেন। বয়সের ভারে নুয়ে পড়া বৃদ্ধের কান্নার শব্দ না থাকলেও চোখের পানিতে তার বুক ভেসে গেছে। ছেলের শোকে বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন বাহাউদ্দিনের বৃদ্ধা মা। কিছুক্ষণ পরপর উচ্চস্বরে চিৎকার ও বিলাপ করছিলেন তিনি। এদিকে, স্বামীর শোকে পাথর হয়ে পড়েছেন বাহাউদ্দিনের স্ত্রী শাহনাজ। বোবা কান্নায় পাথর হয়ে গেছেন তিনি। কারো সঙ্গে কোনো কথা বলছেন না। বাহাউদ্দিনের আত্মীয়-স্বজনরা জানান, বাহাউদ্দিন ২০১৩ সালের ১৪ ফেব্র“য়ারি ভাগ্য বদলাতে সৌদি আরবে যান। বিদেশ যেতে তিনি কয়েক লাখ টাকা ঋণ করেন। তার ১৪ মাস বয়সী একটি ছেলে রয়েছে। মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টা আগেও বাহাউদ্দিনের সঙ্গে তার বাবা-মা ও স্ত্রীর কথা হয় বলে তিনি জানান।
মেহেদির রং মোছার আগে:
তিতাস উপজেলার কালীপুর গ্রামের শাহ আলম (২৬) মাত্র আড়াই মাস আগে বিদেশ যান। আর বিদেশ যাওয়ার এক মাস আগে বিয়ে করেন পার্শ্ববর্তী কাশীপুর গ্রামের রুমি আক্তারকে। সংসার করা হয়নি তাদের। কথা ছিল কিছু টাকা জমাতে পারলেই দেশে ফিরে আসবেন। সংসার করবেন। কিন্তু তা আর হলো না। বিয়ের মেহেদির রং মোছার আগেই বিধবা হতে হলো রুমিকে। বিয়ের অল্পদিনের মধ্যে বিধবা হয়ে রুমি এখন পাগলপ্রায়। হাবিবুর রহমান ছেলেকে হারিয়ে বিছানায় সংজ্ঞাহীন। মা জায়ফল নেছা পুত্রশোকে এ-বাড়ি ও-বাড়ি পাগলের মতো ছুটে বেড়াচ্ছেন। আত্মীয়স্বজনকে দেখলেই প্রলাপ বকছেন। সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে ফার্নিচার কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত নয়জন বাংলাদেশির মধ্যে শাহ আলম একজন। নিহতদের মধ্যে সাতজনের বাড়ি কুমিল্লার হোমনা, তিতাস ও মেঘনা উপজেলায়। দুজনের বাড়ি ফেনী ও মাদারীপুর জেলায়। আর দুজন ভারতের নাগরিক।

জন্মের পর বাবা জালালের মুখ দেখেনি ৫ বছরের ঝুমুর :
উপজেলার দুলারামপুর চাঁনপুর গ্রামের হাজী রোস্তম আলীর ছেলে জালাল (৩৫) নিহত হওয়ায় দুই সন্তানকে নিয়ে বার বার মুর্ছা যাচ্ছে স্ত্রী সখিনা বেগম। স্বামী হারানো ব্যাথা তাকে যে কুঁড়ে কুঁড়ে খাচ্ছে চোখ দেখলেই তা ভেসে আসে। আট বছরের ছেলে সন্তান সাজ্জাদ ও পাঁচ বছরের মেয়ে সন্তান ঝুমুরের দিকে তাকিয়ে বার বার কেঁধে ফেলে। সাংবাদিকদের দেখে সখিনা বেগম কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে এবং জন্মের পর ঝুমুর তার বাবা মুখ দেখেনি বলে জানান। তিনি আরো জানান, সোমবার রাতে ঝুমুর তার বাবার সাথে কথা বলেছে, বাবাকে বলেছে এ ঈদে বাড়ী আসতে। বাবাও মেয়ের বায়নাকে ফেলে দেয়নি বলেছে আসবে। সন্তানের মৃত্যুর খবর শোনে বাবা রোস্তম আলী ও মা মিনরা বেগম পাগল প্রায়। জালালের বোনের জামাই ডাঃ মোঃ রুহুল আমিন জানান, জালাল ৫ ভাই ও ২ বোনের মধ্যে দ্বিতীয়। আট বছরের প্রবাস জীবনে প্রায় ৫ বছর আগে বাড়ীতে এসেছিল।
অকালে স্বামী শাহ আলমকে হারিয়ে সংসার সাজানো হলো না রুমির :
উপজেলার কালিপুর গ্রামের হাবিবুর রহমানের ছেলে শাহ আলম (২৬) আড়াই মাস হয়েছে বিদেশ পাড়ি দিয়েছে। শাহ আলম বিদেশ যাওয়ার এক মাস পূর্বে বিয়ে করে পার্শ্ববর্তী কাশিপুর গ্রামের রুমি আক্তারকে। সোমবার রাতে স্বামীর মৃত্যুর খবর শোনে মেনে নিতে পারছেনা তার স্বামী মারা গেছে। লাশ হয়ে বাড়ীতে ফিরবে। বোবাকান্না বুকে বেঁধে ছলছল চোখে সবার দিকে তাকিয়ে থাকে আর বলতে থাকে সাজানো হলো না আমার সংসার। ছেলেমেয়েহীন রুমি আক্তার এখন পাগল প্রায়। বাবা হাবিবুর রহমান ছেলেকে হারিয়ে বিছানায় সজ্ঞাহীন। মা জায়ফলের নেছা পুত্রশোকে এ বাড়ী থেকে ও বাড়ী, ও বাড়ী থেকে এ বাড়ী। আত্মীয় স্বজনকে দেখলেই বলে আমার সোনা হারিয়ে গেল। ময়নাল আমার সোনাকে বিদেশ নিয়ে মেরে ফেলেছে।
এদিকে সৌদি আরবের রিয়াদের সিফা সানাইয়া এলাকার হিলা সোফা ফ্যাক্টরীর মালিক (দায়িত্বপ্রাপ্ত) ময়নাল জানান, উক্ত ফ্যাক্টরীতে বাংলাদেশের প্রায় ১৩ জন কাজ করে। এদের মধ্যে তার ভাই রাইজুদ্দিন ও বিল্লাল আছে। ঘটনারপর থেকে তাদের কোন খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। তিনি আরো জানান, ৬ মাসের ছুটিতে সে দেশে এসেছে। তবে অগ্নিকান্ডের কারণ সম্পর্কে সে কিছুই বলতে পারেনি। তিতাসের নজির, শাহ আলম ও জালাল ছাড়া আর কেউ মারা যায়নি বলে তিনি জানান। তবে নিহত পরিবারগুলোর দাবী সরকার যেন তাদের সন্তানদের মৃত দেহ দেশে আনার ব্যবস্থা করেন।
মাগো আর মাত্র ছয়টা মাস অপেক্ষা করো :
‘টাকা পয়সা না থাকলে মানুষের কোনো দাম নাই, মাগো আর মাত্র ছয়টা মাস অপেক্ষা করো দেখবা আল্লায় আমাগো তুলবোই। তুমি ডাক্তার দেখাইছোনি, ছেলে জিহাদেরে ডাক্তার দেহাউছনি, মঙ্গলবার মা ডাক্তার দেখাবে শুনে ছেলে রাগ করে। এমনই কথা স্মরণ করে আহাজারিতে পরিবেশ ভারি করে তোলেন নিহত সেলিমের মা। আর্থিক অনটন থেকে মা ও তার পরিবারকে মুক্তি দিতে না পারলেও নিজেই অবশেষে চির মুক্তি নিয়ে পৃথিবী থেকে চলে গেলেন মো. সেলিম। সৌদিতে নিহত কুমিল্লার হোমনা উপজেলার চান্দেরচর ইউনিয়নের চান্দেরচর গ্রামে বাহাউদ্দিনের একটি বাড়ির পরেই অবস্থিত একই কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে মৃত্যুবরণকারী মো. সেলিমের (৩৫) বাড়ি। সেখানেও শুধু কান্নার রোল। কেউই যেন স্বজনকে সামলাতে পারছিলেন না। ঘরের এক কোণায় মাটির মেঝেতে বসে ছেলের জন্য মাটি চাপরে কেঁদে একাকার হয়ে যাচ্ছিলেন সেলিমের মা। ছেলের সাথে শেষবারের মতো মোবাইল ফোনে কথা হয়েছিল, তার পুনরাবৃত্তি করছিলেন আর অঝোরে কাদঁছিলেন। স্ত্রী তাসলিমা বেগম আরেক কক্ষে তার দুধের ছেলে জিহাদকে কোলে আর ৭ বছর বয়সী মেয়ে নুসরাত জাহানকে নিয়ে বুক চাপরে বিলাপ করছিলেন। স্বজনদের কোনো সান্ত্বনার বাণীই যেন বাঁধ ভাঙা কান্নার ঢেউ থামাতে পারছেন না।
ঋণ পরিশোধ করতে পারেননি মতিউর :
হোমনা উপজেলার কলাগাছিয়া গ্রামের মো. মতিউর রহমান দুই বছর আগে সৌদি আরব যান। পাঁচ লাখ টাকা ঋণ করে গেলেও তিনি সে টাকা পরিশোধ করতে পারেননি। দুই ভাই ও তিন বোনের মধ্যে তিনি সবার বড়। তার এক ছেলে এবং এক মেয়ে রয়েছে। উপজেলার বড় কলাগাছিয়া পশ্চিম পাড়ার আব্দুল করিমের ছেলে মোহাম্মদ মতিউর রহমানকে হারিয়ে পুরো এলাকায় শোকের কালো ছায়া নেমে আসে। একমাত্র সন্তানকে কোলে জড়িয়ে মতিউরের স্ত্রী আবেগাপ্লুত হয়ে বলতে শোনা যায়, ওগো তুমি আর বলবেনা মেয়ের চুল গুলো ভাল করে সাজিয়ে রাখতে পারনা। বাড়ির আঙ্গিনা জুড়ে শত শত মানুষের মাঝে যেন প্রিয় সন্তানকে খুঁেজ খুঁেজ বার বার র্মুছা যাচ্ছেন মা দুখিনি ও বাবা আব্দুল করিম। একটি রুমে জ্ঞান হারিয়ে পরে আছে মতিউরের ভাই মোজাম্মেল।
পরিশোধ করা হলো না নজিরের ঋণের টাকা :
অসহায় পরিবারের পিতাহারা ব্যাথাটা কাটিয়ে উঠে যখন আলোর মুখ দেখেছিল তিতাস উপজেলার দক্ষিণ নারান্দিয়া চকের বাড়ীর মৃত জমসের আলীর পরিবার। কিন্তু সেই আলো আর বেশিদিন স্থায়ী হলো না, পরিশোধ করা হলো না ঋণের টাকা। ছোট ভাইকে হারিয়ে বড় ভাই কবির হোসেন যখন কথাগুলো বলছিলেন তখন ছেলে হারা মায়ের আত্মনাত কে আটকে রাখে? সন্তানের মৃত্যুর খবর শোনে মা জুলেখা বেগম গভীর রাতেই ঢাকা থেকে বাড়ীতে ফিরে আসেন অন্য ছেলেদের কাছে। উপজেলা দণি নারান্দিয়া গ্রামের মৃত জমসের আলীর ছেলে নজির (২৭) বার বছর যাবৎ সৌদিতে চাকরীরত। অভাব অনটনের কারনে ১২ বছরের মধ্যে একবারও দেশে আসেনি নজির। ৫ ভাইয়ের মধ্যে নজির দ্বিতীয়। ছোট ভাই আজিজুল হক জানায়, সোমবার বিকাল ৫টায় ভাই ফোন করে বাড়ীর সকলের খোঁজ খবর নেয় এবং আগামী ঈদে বাড়ী আসবে বলে জানায়।
বিয়ে করা হয়নি গাফফারের :
মেঘনা উপজেলার শিবনগর গ্রামের মো. আবদুল গাফফার দুই বছর আগে বিদেশ গিয়েছিলেন। তিনি চার ভাই ও দুই বোনের মধ্যে সবার বড়। সংসারের অনেক দায়িত্ব তার কাঁধে। গাফফার সংসারের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে বিয়ে পর্যন্ত করতে পারেননি। দেশে ফিরে আসার ইচ্ছে জানিয়ে ছোট বোন নুরজাহানের সাথে গতকাল সোমবার বিকেলে শেষবারের মত মুঠোফোনে কথা বলেছিলেন মেঘনা উপজেলার চন্দনপুর ইউনিয়নের শিবনগর গ্রামের সৌদি প্রবাসী আব্দুল গাফ্ফার (২৯) । সৌদিতে বিয়ের কেনাকাটা ও মা-বাবা , ভাই-বোনদের জন্যও কেনাকাটা করেছেন। রোযার মাসে দেশে ফিরবেন। গাফ্ফারের আশা পূরণ হল না। গাফফার ৪ ভাই ও দুই বোনের মধ্যে সবার বড়। পারিবারিক আর্থিক অনটন দূর করতে জমি বন্ধক রেখে এবং ঋণ করে গত ৬ বছর আগে বিদেশ যান আব্দুল গাফ্ফার। বিদেশে যাওয়ার কয়েক বছর পর চাকরির কাগজপত্রের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েন গাফ্ফার । এক সময় তিনি সৌদির রিয়াদে বিভিন্ন বন্ধুর বাড়িতে লুকিয়ে বসবাস শুরু করেন। লুকিয়ে থাকা অবস্থায় তিনি চাকরির কাগজপত্রের বৈধতার জন্য আবেদন করেন। সব সমস্যা মিটিয়ে আগামী রমজান মাসে তার বাড়িতে ফেরার কথা ছিল। গাফ্ফারের মৃত্যুতে তার পরিবার বেকায়দায় পড়েছে।




