শ্যামলবাংলা ডেস্ক : নারায়ণগঞ্জে সাতজনকে অপহরণের পর হত্যার ঘটনায় সরকারের মন্ত্রী-এমপিরা জড়িত বলে দাবি করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি ১০ মে শনিবার সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের কবরে শ্রদ্ধা জানানোর পর সাংবাদিকদের কাছে ওই দাবি করেন। ছাত্রদল সভাপতি আব্দুল কাদের ভূঁইয়া ও সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রশিদ হাবিবের কারামুক্তি উপলক্ষে তাদেরকে নিয়ে জিয়ার কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানায় বিএনপি। এসময় মির্জা ফখরুল বলেন, নারায়ণগঞ্জে সাত খুনের ঘটনায় সরকারের মন্ত্রী-এমপিরা জড়িত। একজন মন্ত্রীর জামাইকে চাকরি থেকে অপসারণ করায় এটা প্রমাণ হয়। তিনি অভিযোগ করেন, সরকার এই ঘটনাকে ‘ধামাচাপা’ দেয়ার চেষ্টা করছে।
সুষ্ঠু তদন্ত করলে সব বেরিয়ে আসবে মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা নারায়ণগঞ্জের ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত চাই। এসময় তিনি শুধু নারায়ণগঞ্জ নয়, সারা দেশে ‘চলা গুম-খুনের’ দায় স্বীকার করে সরকারকে পদত্যাগেরও আহ্বানও জানান। তিনি বলেন, গুম-খুন করে শীতলক্ষ্যা নদীতে মানুষকে ফেলে দেয়া হচ্ছে। কাউকে পাওয়া যাচ্ছে।
প্রসঙ্গত, গত ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম ও আইনজীবী চন্দন কুমার সরকারসহ সাতজন অপহৃত হন। পরদিন শীতলক্ষা নদীতে অপহৃতদের লাশ ভেসে ওঠে, যাদের অপহরণের পরপরই হত্যা করা হয়েছিল বলে ময়না তদন্তকারী চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। ঘটনায় সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ ওঠার পর ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়ার জামাতা র্যাতব-১১ এর সাবেক কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল তারেক সাঈদ মাহমুদসহ তিন কর্মকর্তাকে র্যা ব থেকে প্রত্যাহার এবং সেনাবাহিনী থেকে অকালীন ও বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে কাউন্সিলর নজরুল ইসলামের পরিবারের পক্ষ থেকে ওই ঘটনায় মায়ার ছেলে দীপু চৌধুরীর সংশ্লিষ্টতারও অভিযোগ উঠেছে।
এদিকে নারায়ণগঞ্জের সাত অপহরণ ও হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্তদের সঙ্গে নিজের পরিবারের কোনো সদস্যের সংশ্লিষ্টতা নেই বলে দাবি করেছেন মায়া।




