এ কিউ রাসেল, গোপালপুর (টাঙ্গাইল) : টাঙ্গাইলের গোপালপুরে পলী বিদ্যুতের তারে স্পৃষ্ট হয়ে ১ কৃষক ও বজ্রপাতে ২ মাদরাসা ছাত্রসহ ৩জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। পৃথক ঘটনায় কমপক্ষে ১১জন আহত হয়েছে। শনিবার উপজেলার ঘোড়ামারা ও গোলপেঁচা মাদ্রাসা নামক স্থানে ঘটনা গুলো ঘটেছে। তবে বিদ্যুত্স্পৃষ্ট হয়ে কৃষক মৃত্যুর ঘটনায় বিক্ষুদ্ধ হয়েছে পড়েছে ওই এলাকার লোকজন।

সরজমিনে উপজেলার ঝাওয়াইল ইউনিয়নের ঘোড়ামারা এলাকার ওই গ্রামে গেলে জানা যায়, মৃত ইনতুলাহর ছেলে সফল কৃষক মো. নুরুল ইসলাম (৬০) শনিবার সকাল ৮টার দিকে খাবার খেয়ে নিজের ধানের জমিতে কাজ করতে গিয়ে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও তারা আর ফিরে আসেনি। পরে তার স্ত্রী বকুল বেগম (৪৫) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে স্বামীর খোঁজ করতে গেলে বিদ্যুতের তারে পৃষ্ট হওয়া নুরুল ইসামের মৃত দেহ মাটিতে পড়ে থাকতে দেখে তাকে উদ্ধার করতে গেলে সে নিজেও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়। পরে কোন রকম ভাবে নিজেকে উদ্ধার করে ডাক চিৎকার দিলে আশ-পাশের ধান কাটার শ্রমিকরা তাকে মারাত্বক আহত অবস্থায় ও স্বামী নুরুল ইসলামের মৃতদেহ উদ্ধার করে। পরে মারাত্বক আহত বকুল বেগমকে চিকিৎসার জন্য দ্রুত গোপালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করানো হয়।
ঝাওয়াইল ইউনিয়ন পরিষদের ওই ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. রুবেল মিঞা অভিযোগ করেন, গত ১০-১২ দিন যাবৎ ঘোড়ামারা ওই চকে পলী বিদ্যুত সমিতির ৩৩হাজার ভোল্টের তার ধানের জমির সাথে পড়ে থাকলেও বিদ্যুৎ বিভাগের লোকজন কোন লাইন মেরামতের কোন উদ্যোগ গ্রহন না করায় একজন সফল কৃষকের মর্মান্তিক মৃত্যু হলো। বছর তিনেক আগে একই ভাবে এই এলাকায় অন্তঃসত্ত¡া গৃহবধু ও শাশুড়ির মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছিল। তবে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে কৃষক মৃত্যুর ঘটনায় বিক্ষুদ্ধ হয়েছে পড়েছে ওই এলাকার লোকজন।
ময়মনসিংহ পলী বিদ্যুৎ সমিতি-১, গোপালপুর যোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মো. দেলোয়ার হোসেন মিঞা জানান, গত কয়েক দিন যাবৎ ঝড়ে বিভিন্ন স্থানে বিদ্যুতের লাইন ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে এবং তার লোকজন তা সংস্কার করছে। কিন্তু ঘোড়ামারা এলাকার বিষয়টির কেউ অভিযোগ করেনি বলে এ বিষয়ে তারা কোন পদক্ষেপ গ্রহন করতে পারেনি বলে তিনি দাবি করেন।
এছাড়া বজ্রপাতে উপজেলার হেমনগর ইউনিয়নের মহিউদ্দিন মেমোরিয়াল হাফেজিয়া মাদ্রাসার ২ ছাত্র সেলিম মিঞা (১৫) ও আলম মিঞা (১৪)’র মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছে কমপক্ষে ১০ জন। শনিবার দুপুর ২টার দিকে গোলপেঁচা মাদ্রাসা মাঠে ফুটবল খেলার সময় এ ঘটনা ঘটে। নিহত সেলিম মিঞা জামালপুর জেলার সরিষাবাড়ি উপজেলার বালিয়াবান্দি গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে ও আলম মিঞা গোপালপুর উপজেলার গোলপেঁচা গ্রামের আব্দুল মজিদের ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, উপজেলার গোলপেঁচা গ্রামের মহিউদ্দিন মেমোরিয়াল হাফেজিয়া মাদ্রাসার ১৫-২০ জন ছাত্র শনিবার দুপুর ২ টার দিকে ওই মাদ্রাসার মাঠে বৃষ্টিতে ভিজে ফুটবল খেলছিল। এসময় হঠাৎ বজ্রপাতে সেলিম ও আলম নামের ২ ছাত্র ঘটনাস্থলেই মারা যায়। তারপরও নিশ্চিত হওয়ার জন্য মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ তাদেরকে ভূঞাপুর হাসপাতালে নিয়ে আসে। হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. প্রিয়া রায় তাদের মৃত্যু নিশ্চিত করেছেন। এতে আহত হয় কমপক্ষে ১০ জন। আহতদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।




