এম.আবদুল্লাহ আনসারী, পেকুয়া (কক্সবাজার) : পেকুয়ায় চলতি মৌসুমে বোরো চাষের বাম্পার ফলনেও কৃষকের মাঝে স্বস্তি নেই। অতিমাত্রার তাপে বাম্পার ফলনের ধান মাঠ থেকে কেটে ঘরে নিয়ে আসার পূর্বেই বাস্পিত হয়ে ধানের ওজন কমে যাচ্ছে বলে কৃষকরা হতাশ হয়ে পড়েছে।

পেকুয়া উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে ঘুরে দেখা যায় কৃষকরা ধান কাটার কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। প্রচন্ড তাপদাহ উপেক্ষা করে বিলের ধান ঘরে তুলতে জোর প্রচেষ্ঠা চালিয়ে যাচ্ছে। শুরু করেছে এবং কৃষাণীরা মাড়াই করছে। অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছরও কৃষকরা তাদের কষ্ঠের ফসল কালবৈশাখী ঝড়ের আগে ঘরে তোলার জন্য প্রাণপণ প্রচেষ্ঠার যেন অন্ত নেই। কৃষকরা জানিয়েছে এ বছর ফলন বেশি হলেও অন্যান্য মৌসুমের চেয়ে প্রচন্ড রৌদের কারণে জমিতে ধান নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। যার ফলে কৃষকদের পরিশ্রমের সেই মূল্য টুকু পাওয়ার ব্যাপারে তাদের মাঝে শংকাও রয়েছে। কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায় এ মৌসুমে প্রতি কানি জমিতে ৬০/৭০ আড়ি ধান উৎপাদন হয়েছে। আর এ গুলো উৎপাদন করতে জমির লাগিয়ত প্রতি কানি ৫/৬ হাজার টাকা এবং সার, বিষ, কীটনাশক প্রয়োগ, আগাছা পরিস্কার, ধানের চারাসহ সবকিছু মিলে বর্তমানে কৃষকদের ক্ষতির সম্মুখীন। তারপরও কৃষকরা তাদের আর কোন উপার্জন করার কোন উপায় না দেখে কৃষি কাজ করে থাকে। কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে পেকুয়া উপজেলার ৭ইউনিয়নে চলতি বোরো মৌসুমে ৬হাজার ১শ হেক্টর জমিতে চাষাবাদ লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ৬ হাজার ২শ ৭০ হেক্টর জমিতে চাষ করা হয়েছে। ২.৮৯ মেট্রিক টন ফলনের লক্ষ্যমাত্রার ক্ষেত্রে ৩.৩ মেট্রিক টন ধান উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে বলেও জানাযায়। অন্য বছরের তুলনায় এবার উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবণা থাকলেও ধানের গুণগত মান ও বাজার দর নিয়ে কৃষকরা মোটেও সন্তুষ্ট না। এ ব্যাপারে কৃষি কর্মকর্তা এ কে এম নাজমুল হকের কাছে জানতে চাইলে তিনি এবারের বুরোর ভাল ফলনে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, উপযুক্ত সময়ে সার সহ অন্যান্য উপকরণ সামগ্রী সরবরাহ সম্ভব হওয়ায় বাম্পার ফলন হয়েছে তাপদাহ ও কালবৈশাখী থেকে বাচাতে পারলে রেকর্ড় পরিমাণ ধান সংগ্রহ করা যাবে।




