নীলফামারী প্রতিনিধি : নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলায় কৃষি কাজের অভাবে হাজার হাজার কৃষি শ্রমিক সম্পূর্ণ বেকার হয়ে পড়েছে। উপজেলার ইরি-বোরো রোপন, নিড়ানি প্রায় শেষ। আর কাটা-মাড়াই করতে মাস খানেক বাকি রয়েছে। ফলে ওইসব কৃষি শ্রমিক বর্তমানে সম্পূর্ণ বেকার হয়ে পড়েছে। তারা আগাম জাতের ধান কাটার জন্য বাইরের জেলায় পাড়ি দিচ্ছেন। এদিকে এলাকায় শিল্প কল-কারখানা না থাকায় কাজের অভাবে সাধারণ মানুষ বিশেষ করে দিন মজুররা চরম বিপাকে পড়েছে। আয়ের উৎস না থাকায় সর্বোপরি নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম আকাশচুম্বী হওয়ায় এ সকল মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়েছে। অনেক পরিবাররের পুরুষ সদস্যরা কাজের সন্ধানে বিভিন্ন জেলা সদরে ছুটছে। এবারে খরার মধ্য দিয়ে উপজেলার কৃষি কাজকর্ম কয়েক সপ্তাহ আগেই শেষ হয়ে যায়। কোন কাজকর্ম না থাকায় এসব পরিবারের লোকেরা অনেকেই রিকশা ভ্যান ইত্যাদি চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন। এদিকে সৈয়দপুর উপজেলার বাঙ্গালীপুর, কামারপুকুর, খাতামধুপুর, কাশিরাম বেলপুকুর ও বোতলাগাড়ী ইউনিয়নের মানুষ দাদন ব্যবসায়ীদের হাতে জিম্মি হয়ে দুঃসহ জীবন যাপন করছে। কৃষকরা উৎপাদিত ফসল এবং স্কুল কলেজের শিক্ষক-কর্মচারী বেতনের টাকা আগাম দাদন ব্যবসায়ীদের হাতে তুলে দিয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছে। আয়ের কোন উৎস না থাকায় ওই সকল কৃষক চরম অসহায় হয়ে স্থানীয় দাদন ব্যবসায়ীদের কাছে প্রতি হাজারে মাসে এক শত থেকে বার শত টাকা, অথবা এক মন ধানের পরিবর্তে দেড় থেকে দুই মন ধানে দাদন নিচ্ছেন। অপরদিকে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যদীর অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির পাশাপাশি আয়ের কোন উৎস না থাকায় নিম্ন ও মধ্যবিত্তারা পড়ছে চরম বিপাকে । তারা কোথাও হাত বাড়াতে পাচ্ছে না আবার প্রকাশ করতেও পাচ্ছেনা। বর্গা ও ক্ষুদ্র চাষীরা উৎপাদিত ফসলের কথা বলে দাদন ব্যবসায়ী ও গ্রাম্য মহাজনদের কাছে আগাম টাকা নিতে বাধ্য হচেছ। গ্রামের একশ্রেনীর মানুষ চুকিয়ে এ ব্যবসা করছে। দাদন বা সুদের টাকা মাসের প্রথম সপ্তাহে পরিশোধ করতে ব্যর্থ হলে প্রায়শই মারামারি হাতাহাতির ঘটনা ঘটছে। কর্মহীন কৃষি শ্রমিকরা আগাম জাতের ধান কাটতে বাইরের বগুড়া, জয়পুরহাট, সান্তাহার, আক্কেলপুর, রানীনগর প্রভৃতি এলাকায় যাচ্ছেন। তারা বাস ও ট্রেনে চড়ে এসব গন্তব্যে যাচ্ছেন। সাথে রয়েছে তাদের কাস্তে, দড়ি আর ভার বহনের বাংকুয়া। এসব শ্রমিকরা অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচিতে তালিকাতেও তাদের নাম নেই। এ তালিকায় স্থান পেয়েছে জমি ও দালালবাড়ি থাকা স্বচ্ছল মানুষ। এমনকি একই পরিবারের একাধিক ব্যক্তি, ইউপি সদস্যের ভাই বা অন্যনামে এবং মাঝারি গোছের নেতার নামও তালিকায় অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে। ফলে সরকারের মুল উদ্দেশ্য ব্যাহত হতে চলেছে। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার শফিকুল ইসলাম জানান, কিছু অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।




