হোসেনপুর (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি :কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে চলতি ইরি বোরো ধান কাটার ভরা মওসুমে কাস্তে তৈরিতে ব্যাস্ত কর্মকারেরা নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন।
সরেজমিনে উপজেলার নগর আড়াইবাড়িয়া ও ধনকুড়া গ্রামের কামার পল্লীতে গিয়ে দেখাযায়, ইরি বোরো ধান কাটার প্রধান উপকরন কাস্তে তৈরিতে কর্মকারদের দম ফেলার যেন ফুরসৎ নেই। এ সময় কর্মকার নজরুল ইসলামসহ অনেকেই জানান, চৈত্র-বৈশাখ মাসে সিলেট,সুনামগঞ্জসহ ভাটি অঞ্চলের কৃষকেরা কাস্তে নিতে হোসেনপুরে আসে। তাদের চাহিদা পূরনে রাত-দিন কাজ করতে হয়। কেননা রোরো মওসুম ছাড়া তাদের হাতে তেমন কোনো কাজ থাকেনা।তখন লাঙ্গলের ফালি,ছেনি,নিড়ানি,কুদাল,দা,কুড়াল তৈরি করে কোন রকমে দিনাতিপাত করতে হয়। তারা আরো জানান,প্রতিবছর বোরো ধান কাটার ভরা মওসুমে কাস্তের চাহিদা ২-৩ গুণ বেড়ে যাওয়ায় প্রতিদিন কাস্তে ও লৌহজাত কৃষি সামগ্রী বিক্রি করে গড়ে ৫শ-৬শ টাকা আয় হচ্ছে। এ সময়ের আয় দিয়ের তাদের সারা বছর চলতে হয় বিধায় এখন দিন-রাত কাস্তে তৈরিতে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন।
মূলতঃ হোসেনপুরে কামারদের নিপুন হাতে তৈরি কাস্তে ও কৃষিজ যন্ত্রপাতি খুবই ধারালো,নিখুঁত ও টেকসই হওয়ায় এসব কৃষি উপকরন স্থানীয় চাহিদা পূরণ করে দেশের বাইরে ভারত ও সৌদি আরবে রপ্তানী করে অনেকেই আজ স্বাবলম্বী। তবে স্থানীয় কর্মকারদের দাবি কাস্তে তৈরিতে ব্যাংক ঋনের সহায়তা পাওয়া গেলে তাদের দাদন ব্যবসায়ীদের ওপর নির্ভর করতে হতোনা।তাই তারা স্বল্প সুদে এ খাতে ব্যাংক ঋণ প্রদানের সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের সু-দৃষ্টি কামনা করেছেন।




