রাণীনগর (নওগাঁ) প্রতিনিধি: মাদকে ভাসছে নওগাঁর রাণীনগর। হাত বাড়ালেই মিলছে বিভিন্ন প্রকার মাদকদ্রব্য। কোথাও খোলামেলা আবার কোথাও একটু লুকোচুরি করে বেচা কিনা বা সেবন চলছে রাণীনগররের বিভিন্ন জায়গায়। এতে করে একদিকে যেমন ধ্বংসের পথে ধাবিত হচ্ছে যুবসমাজ, আরেক দিকে বাড়ছে অপরাধপ্রবণতা ।

সরেজমিনে ঘুরে, বিভিন্ন লোকজনের সাথে কথা বলে জানা যায়, বছর দেড়েক আগে একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের প্রতিনিয়ত ভাম্যমাণ অভিযানে মাদকের, জুয়ার ভয়াবহতা হ্রাস পেলেও ওই অফিসার চলে যাবার পর আবারো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে মাদক বেচা কেনা ও সেবন। আর এইসব মাদক কেনা-বেচা, সেবনের জন্য আগে যেমন যেতে হতো নওগাঁ, সান্তাহার এবং বিভিন্ন জায়গায় কিন্তু এখন আর তাদের হয়রান হতে হয় না। হাত বাড়ালেই মিলছে যে কোন ধরণের মাদক। মাদক সেবন, বেচা কেনার দিক দিয়ে রাণীনগরের বাহাদুরপুর গ্রাম এখন রয়েছে শীর্ষে। এগ্রামে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চলে মাদক কেনা বেচা,সেবন এবং জুয়ার আসর। থানার অনুকূলেই এই গ্রামটি। অথচ প্রসাশনের তেমন কোন জোড়ালো ভূমিকা নেই মাদক বেচা কেনা বা সেবন প্রতিরোধে। অবশ্য এলাকাবাসি অভিযোগ করে বলছেন, কখনো দিনে আবার কখনো রাতে ওই গ্রামে পুলিশের লোকজনকে সাদা পোশাকে দেখা যায় মাদক কারবারিদের সাথে আতাত করতে। আর এই আতাঁতের কারণে প্রভাব বিস্তার করে বেপোরোয়া ভাবে চলছে খোলা মেলা মাদক ব্যবসা আর সেবন। ওই গ্রামের বেশ কয়েকজন নাম প্রকাশ না করার অনুরোধে জানান, হাতের কাছে সহজেই মাদক মেলার কারনে এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রকারি সংস্থা কিম্বা প্রসাশনিক কোন প্রতিরোধ ভূমিকা না থাকায় গ্রামের উঠতি বয়সের যুবকরা আজ নেশাগ্রস্থ হয়ে অন্ধকার পথে নিমজ্জিত হচ্ছে । খারাপ সঙ্গের কারণে অভিভাবকরাও পারছেনা তাদেরকে নেশার মরণ পথ থেকে ফিরে আনতে । আর নেশার টাকা যোগার করতে সম্ভ্রান্ত পরিবারের অনেক যুব ছেলেরা চুরি ছিনতাইসহ জরিয়ে পরছে বিভিন্ন অপরাধ কর্মকাণ্ডে। স্থানিয়রা বলছেন, এগ্রামে শুধু মাদকই নয়, পাশাপাশি চলে জুয়ার আসর আর দেহব্যাবসাও। রাত নামলেই দেখা যায় বিভিন্ন অপরিচিত লোকজনের আনাগোনা। এছাড়া রাণীনগর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বিস্তার করেছে মাদক ব্যবসা আর সেবনের প্রভাব। থানাপুলিশ হঠাৎ করেই দু’চারজন সেবনকারী কিম্বা ক্রেতা/বিক্রেতাকে আটক করে ভাম্যমান আদালতে আবার কখনো চালান করে দেন মামলা দিয়ে । কিন্তু জেল থেকে বেরিয়েই আবারো শুরু করে মাদক সেবন ও ব্যাবসা। মাদক বহনে অভিনব কৌশল হিসেবে ব্যবহার করা হয় ছোট কোলের শিশুদেরকেও । কিছু দিন আগে পূর্ব বালুভরা গ্রামের নাজির উদ্দীন (২৭) তার আড়াই বছরের শিশু পুত্রের পকেটে হেরোইন ভরে কোলে করে নিয়ে মাদক বহনের সময় পুলিশের হাতে ধরা পরে। জেল থেকে বেরিয়ে আবারো মাদক ব্যবসা শুরু করেছে বলে স্থানিয়রা জানান। এছাড়াও উপজেলার আবাদপুকুর, বগারবাড়ী, পারইল, গহেলাপুর, খট্রেশ্বর, দেউলা, বড়গাছা, কাশিমপুর নগরব্রীজ, গোনা, রাণীনগরসদর বাজার, দফাদরের মোড়, পাগলির মোড়, কনুজ সহ বিভিন্ন এলাকায় হেরোইন, ফেন্সিডিল, ইয়াবা, গাঁজা, বাংলামদ ও স্পিটসহ বিভিন্ন প্রকার মাদক বেচা কেনা এবং সেবন চলছে কোথাও খোলামেলা আবার কোথাও একটু লুকোচরি করে। গত কয়েক মাস ধরে রাণীনগরের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে, দোকানে ও বাসা বাড়িতে যে চুরির ঘটনা ঘটেছে তার বিপুল পরিমান মালামালও উদ্ধার সহ ৬ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ । আর যাদেরকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদে এই মালামাল উদ্ধার হলো এদের ৪ জনই মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারি এবং তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মাদক মামলা ও চুরি মামলা রয়েছে বলে পুলিশ জানায়।
রাণীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুলাহ আল মাসউদ চৌধুরী মাদক কারবারীদের সঙ্গে আঁতাতের বিষয়টি অস্বীকার করে জানান, মাদক-জুয়ার সঙ্গে আমাদের কোন আপোসনাই।
এব্যাপারে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্র অধিদপ্তরের নওগাঁ জেলা ইন্সপেক্টর শহিদুল ইসলাম জানান, আমরা নওগাঁ জেলায় মাদক নিয়ন্ত্রের জন্য মাত্র ৬জন লোক রয়েছি। যেখানে খবর পাই সেখানেই অভিযান পরিচালনা করি। তাছাড়া সামাজিক ভাবে সচেতনতা সৃষ্টি না হলে এটা নিয়ন্ত্রন করা সম্ভব নয় বলেও তিনি জানান।




