ads

রবিবার , ১৩ এপ্রিল ২০১৪ | ১০ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধনপ্রাপ্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  1. ENGLISH
  2. অনিয়ম-দুর্নীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আমাদের ব্লগ
  6. ইতিহাস ও ঐতিহ্য
  7. ইসলাম
  8. উন্নয়ন-অগ্রগতি
  9. এক্সক্লুসিভ
  10. কৃষি ও কৃষক
  11. ক্রাইম
  12. খেলাধুলা
  13. খেলার খবর
  14. চাকরির খবর
  15. জাতীয় সংবাদ

আজ চারঘাট গণহত্যা দিবস

রফিকুল ইসলাম আধার , সম্পাদক
এপ্রিল ১৩, ২০১৪ ১২:৫৬ অপরাহ্ণ

13 April Sনজরুল ইসলাম বাচ্চু, চারঘাট (রাজশাহী): আজ বেদনা বিধূর ১৩ এপ্রিল, চারঘাট গণহত্যা দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে পাক হানাদার বাহিনী অতর্কিত চারঘাট আক্রমন করে মুক্তিযোদ্ধাসহ প্রায় তিন শতাধিক নিরীহ মানুষকে নৃসংশভাবে হত্যা করে। রাজশাহী জেলার প্রায় ৩০ কিলোমিটার দক্ষিন-পূর্ব দিকে পদ্মা বড়াল নদী বিধৌত চারঘাট উপজেলা। চারঘাট পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় ছিল তৎকালীন চারঘাট থানার মুক্তিযোদ্ধাদের মূল ক্যাম্প। ১৩ এপ্রিল মঙ্গলবার, দুপুর ১২ টার দিকে চারঘাট বাজারের পূর্ব ও উত্তর দিক দিয়ে পাক বাহিনী ২০/২৫ টি গাড়ি নিয়ে প্রবেশের চেষ্টা করলে আনসার, পুলিশ এবং তৎকালীন ইপিআরসহ মুক্তিযোদ্ধারা বেশ কয়েকটি বাংকারে অবস্থান নিয়ে প্রতিরোধের চেষ্টা করেন। যার নের্তৃত্বে ছিলেন কমান্ডার ল্যান্স নায়েক লস্কর।
এর দুদিন আগে সারদা পুলিশ একাডেমীর (বর্তমান নাম বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমী) অস্ত্র ভান্ডার থেকে অস্ত্রগুলো ক্যাপ্টেন রশিদের নের্তৃত্বে মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে তুলে দেয়া হয়েছিল। পাক সেনাদের ভারি অস্ত্রের মুখে মুক্তিযোদ্ধারা সেদিন প্রাণপনে যুদ্ধ করেও টিকে থাকতে পারেননি। এ সময় চারঘাট বাজার ও পার্শ¦বর্তী এলাকায় বৃষ্টির মত গুলি বর্ষণে মুক্তিযোদ্ধাসহ অর্ধ শতাধিক ব্যক্তি শহীদ হন, আহত হন প্রায় ২৫ জন। উল্লেখ্য, রাজশাহী ক্যাডেট কলেজের তৎকালীন প্রভাষক আবু বকর সিদ্দিকী (বীর বিক্রম) এইদিন শহীদ হন।
এরপর পাক সেনারা সারদা পুলিশ একাডেমীতে অবস্থান নেয়। এদিকে চারঘাট বাজার থেকে অর্ধকিলোমিটার উত্তর-পশ্চিম দিকে এবং সারদা পুলিশ একাডেমী সংলগ্ন থানাপাড়ার সহস্রাধিক নারী পুরুষ ও শিশু প্রাণভয়ে ঘরবাড়ি ছেড়ে পদ্মার পাড়ে গিয়ে আশ্রয় নেয়। কোন কোন মা-বোনেরা দুপুরে রান্না করা অবস্থায় চুলায় হাঁড়ি রেখেই দৌড়ে পালায়। স্থানীয় রাজাকাররা পাক সেনাদের এ খবর দিলে ঐদিন (১৩ এপ্রিল) বিকালে তারা পদ্মার পাড়ে জড়ো হওয়া সহস্রাধিক মানুষকে ঘিরে ফেলে। হানাদার বাহিনী সমবেত জনতার মধ্য থেকে নারী ও শিশুদের বের করে দিয়ে পুরুষদের কয়েকটি লাইনে সারিবদ্ধ হওয়ার নির্দেশ দেয়। কয়েকজনকে হিন্দু না মোসলমান তাও পরীক্ষা করা হয়। নিশ্চিত মৃত্যুর কথা বুঝতে পেরে সবাই আল্লাহ রাসুলের নাম নিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে যায়। এরপরেই মেশিনগান গর্জে উঠে। সংঘঠিত হয় ইতিহাসের এক নারকীয় পৈশাচিক হত্যাযজ্ঞ। নিহত হন থানাপাড়া ও পার্শ্ববর্তী গ্রামের দুই শতাধিক কর্মক্ষম পুরুষ মানুষ। নিহত হন পুলিশ একাডেমীতে কর্মরত বেশ কয়েকজন কর্মচারিও। সকলের মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার জন্য হায়েনার দল লাশের স্তুপে পেট্রোল ঢেলে আগুন জ্বালিয়ে দেয়। থানাপাড়া পরিণত হয় এক মৃত্যুপুরি, পুরুষশূণ্য বিধবাদের গ্রামে। লাশের স্তুপ থেকে সেদিন অলৌকিকভাবে বেঁচে যান ১০/১২ জন। স্বজন হারানো নারী ও শিশুসহ শত শত মানুষের গগন বিদারী আর্তচিৎকারে সেদিন থানাপাড়ার আকশে বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে শোকের মাতম। লাশগুলো সৎকার করার মতোও সেদিন তেমন কেউ ছিল না। তাই লাশগুলো শিয়াল কুকুরে ছিঁড়ে ছিঁড়ে খেয়েছে। লাশের স্তুপ থেকে পঁচা দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে এলাকাবাসি লাশগুলো মাটি চাপা দেয়। পুলিশ একাডেমীর চানমারী থেকে প্রায় ৯০০ ফুট পশ্চিমে পদ্মা নদীর চরে নিহতদের গণকবর বা বধ্যভূমি রয়েছে। উক্ত গণকবর বা বধ্যভূমি সংরক্ষনের কোন উদ্যোগ নেয়া হয়নি। পুলিশ একাডেমীতে ২৪ জন শহীদ কর্মচারির নাম সম্বলিত একটি স্মৃতি সৌধ থাকলেও সেখানে অন্যান্য শহীদের নাম স্থান পায়নি। শহীদ পরিবার এবং এলাকাবাসির দীর্ঘদিনের দাবীর পরিপ্রেক্ষিতে গণহত্যায় নিহত ও শহীদদের স্মৃতি রক্ষায় স্বাধীনতার ৪২ বছর পর সম্প্রতি একটি স্মৃতিসৌধ নির্মান করা হয়েছে। ১৭৪ জন শহীদের নামের তালিকা সম্বলিত স্মৃতিসৌধটি পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আলহাজ্ব শাহরিয়ার আলম এমপির উদ্যোগে নির্মিত হয়। শহীদদের স্বজন এবং বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠন প্রতিবছর এই দিনে আলোচনা সভা, দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করলেও এবারই প্রথম স্মৃতিসৌধে পুস্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে সম্মিলিতভাবে দিবসটি পালন করা হবে।

Need Ads

সর্বশেষ - ব্রেকিং নিউজ

Shamol Bangla Ads
error: কপি হবে না!