নজরুল ইসলাম সাতক্ষীরা : সাতক্ষীরা সিটি কলেজ পরিচালনা পরিষদের সভাপতির স্বৈরতান্ত্রিক মনোভাবে ও অসৎ কর্মকান্ডে শিক্ষক-শিক্ষার্থী-অভিভাবক-কলেজ শুভাকাংখীদের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে চরম অসন্তোষ। কলেজের স্বাভাবিক কার্যক্রম ভেঙ্গে পড়ায় ফুসে উঠেছে ছাত্র শিক্ষক অভিভাবকসহ এলাকার সাধারণ মানুষ। গড়ে উঠেছে ছাত্র ঐক্য পরিষদ। আন্দোলনে উত্তাল এখন সাতক্ষীরা সিটি কলেজ ক্যাম্পাস।
ঐতিহ্যবাহী সম্ভাবনাময় এ কলেজটি এখন অব্যবস্থাপনা আর সমস্যায় জর্জরিত। ক্লাস চলছে না ঠিকমত। কলেজের প্রশাসনিক শৃংখলা ভেঙ্গে পড়েছে। পরিচালনা পরিষদের সভাপতি কলেজের উন্নয়ন কাজ ফেলে রেখে বিভক্ত করার মানসিকতায় কলেজ ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার আশংকায় দেখা দিয়েছে। এসব ঘটনার প্রতিবাদ ও ১০ দফা দাবীতে গতকাল বুধবার সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে জাতীয় বিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর নিকট স্বারক লিপি প্রদান করেন সিটি কলেজ ছাত্র ঐক্য পরিষদ। সাতক্ষীরা সিটি কলেজর ছাত্র ঐক্য পরিষদের আহবায় আনিসুর রহমান পাপ্পু স্বাক্ষরিত স্বারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে, জাতীয় বিশ্ব বিদ্যালয়ে অনুমোদন নিয়ে ১৩ টি বিষয়ে অনাস ও ৭ টি বিষয়ে মাষ্টাস কোর্স চালু রয়েছে। তবে অবকাঠামোগত সমস্যার কারণে কলেজের সাভাবিক শিক্ষার কার্যক্রম ব্যহাত হচ্ছে। ১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর জাতীয় বিশ্ব বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সাতক্ষীরা সদর আসনের এমপি মীর মোস্তাক আহম্মেদ রবিকে কলেজ পরিচালনা পরিষদের সভাপতি মনোনিত করা হয়। কিন্তু সভাপতি হওয়ার সাথে সাথে কলেজের সংকট দিন দিন বেড়েই চলেছে। কলেজের কোন সভা না করে গত ২২ ফেব্রæয়ারি তার নিজ বাড়িতে বসে সাতক্ষীরা সিটি কলেজের পরিচালনা পরিষদের গোপনে একটি সভা দেখায়াছেন। এবং একই সাথে রেজুলেশনও করেছেন একটি খাতায় নতুন।
এমনকি এ সভার জন্য নোটিশ পর্যন্ত দেননি। সাতক্ষীরা সিটি কলেজ পরিচালনা পরিষদের ৩ জন শিক্ষক প্রতিনিধি, অভিভাবক প্রতিনিধিদের বাসায় ডেকে নিয়ে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করেন। সাতক্ষীরা সিটি কলেজ পরিচালনা পরিষদের অন্যান্য সম্মানিত সদস্যবৃন্দকে অবজ্ঞা করে সম্মানহানি করেছেন।
ঐ সভায় সাতক্ষীরা সিটি কলেজ পরিচালনা পরিষদের সম্মানিত সদস্যবৃন্দ-জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় মনোনিত বিদ্যোৎসাহী সদস্য ও সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব নজরুল ইসলাম, যশোর বোর্ড মনোনিত বিদ্যোৎসাহী সদস্য ও জাতীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মুস্তফা লুৎফুল¬াহ, হিতৈসী সদস্য মোহাম্মদ আবু সায়ীদ, অভিভাবক শ্রেণীর প্রতিনিধি আব্দুল হান্নানকে অবজ্ঞা করে এমনকি সভায় নোটিশ দিয়ে ডাকা হয়নি। সম্মানিত সদস্যদের বাদ দিয়েই যে সভা দেখানো হয়েছে তা ছিল অবৈধ। অবৈধ সভার সিদ্ধান্তও সঙ্গত কারণে অবৈধ। তার সাথে জড়িয়ে আছে কতিপয় দূর্নীতিবাজ শিক্ষক ও অসৎ ব্যক্তি। গত ২২ ফেব্র“য়ারি’১৪ তারিখের কলেজ পরিচালনা পরিষদের অবৈধ সভার সিদ্ধান্ত অবিলম্বে প্রত্যাহার করা দাবী জানান। তা না হলে উদ্ভুত পরিস্থিতির জন্য ছাত্র-ছাত্রীরা দায়ী থাকবে না।




