আনোয়ার হোসেন, ঠাকুরগাও : সরকার স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সুস্থ্য দেহ সুস্থ মন শ্লোগানকে সামনে রেখে নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে গেলেও এক শ্রেণীর অনভিজ্ঞ, যোগ্যতাহীন চিকিত্সক জনজীবনকে হুমকীর মুখে ঠেলে দিচ্ছে।
মেডিক্যাল এ্যাসিষ্ট্যান্ড, নুন্যতম পল্লী চিকিত্সকের প্রশিক্ষণ নিয়ে নিজেকে ডাক্তার পরিচয় দিয়ে ক্যান্সারসহ নানা জটিল রোগের চিকিত্সার ব্যানার দিয়ে সহজ সরল সাধারণ মানুষকে প্রতারণা করে আসছে নির্বিঘ্নে। অজ্ঞাত কারনে এদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক আইনগত কোন কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছেনা। দিন দিন এসব নামধারী ডাক্তার বেপরোয়া হয়ে উঠছে।
রাণীশংকৈল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিক্যাল এ্যাসিষ্ট্যান্ড মোঃ সহিদুর রহমান সোহাগ নিজেকে ডাক্তার পরিচয় দিয়ে সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেদারসে লোকজনের কাছ থেকে ফয়দা লুটছে। রাণীশংকৈলে ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠা ক্লিনিকগুলোতে নিজে রোগী অপারেশন করে থাকে। অফিস ফাঁকি দিয়ে প্রাইভেট চেম্বার ও ক্লিনিকগুলোতে রোগী দেখে থাকে। এব্যাপারে টিএইচ ডাঃ নজরুল ইসলাম সম্পূর্ণরুপে অবগত থাকলেও অজ্ঞাত কারনে বিষয়গুলো এড়িয়ে যান।
সদর উপজেলার রুহিয়া চৌরাস্তা সংলগ্ন চৌধুরী মার্কেটে অনুমোদনহীন একটি ডায়াগনষ্টিক সেন্টারের পার্শ্বে সবার চোখ ধাঁধানো নাম ফলক লাগিয়ে চিকিৎসক হিসেবে নিয়মিত রোগী দেখে আসছে শেফালী পারভীন। স্বামী সামান্য একজন ঔষধ বিক্রেতা। ডিএমপি নার্সিং ইন্সষ্টিটিউট নামে স্বাস্থ্য বিভাগের আওতায় কোথাও কোন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র না থাকার পরও সে নিজেকে নার্সিং বিষয়ে ডিএমপি ডিপ্লোমাধারী দাবী করে আসছে। সেফালী ৮ম শ্রেণী পাশ। এমন কোন রোগ নেই যার চিকিৎসা সে করেনা। ক্যান্সারসহ সকল প্রকার রোগের চিকিৎসায় সে অভিজ্ঞ বলে দাবী করে।
আরএমপি ব্যাতীত কোন উল্লেখযোগ্য প্রশিক্ষণ না থাকার পরও সে মা ও শিশু রোগের বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত বলে এলাকায় মাইকিং করে রোগীর চিকিৎসা করে। অবৈধপন্থায় টাকা কামায় করে আঙ্গুল ফুলে কলার গাছ বনে গিয়ে সামান্য আয় করা স্বামীকে তোয়াক্কা না করে বিষাদময় সংসারে মামলা মোকদ্দমার বেড়াজালে স্বামীকে নাজেহাল করছে। চিকিৎসাসেবা কেন্দ্র খুলে চিকিৎসার নামে সহজ সরল মানুষের সাথে প্রতারণা করে আসছে।
সহিদুর রহমান সোহাগ ও শেফালী পারভিন’র মতো শত শত ভ‚য়া ডাক্তার জেলার আনাচে কানাচে চিকিৎসার নামে ফয়দা লুটলেও কর্তৃপক্ষ নীরব থাকার ব্যপারে সুধিমহল উদ্বেগ প্রকাশ করে এদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের আহবান জানান।
এব্যাপারে ঠাকুরগাও সভিল সার্জন ডাঃ আফজাল হোসেন তরফদার জানান, এমবিবিএস ও বিডিএস ডিগ্রীধারী এবং বিএমডিসি রেজিষ্ট্রেশন ব্যাতিত অন্য কেউ নামের সামনে ডাঃ লিখার অধিকার রাখেন না। বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখবো।




