নরসিংদী প্রতিনিধি : দুধের সাথে বিষ মিশিয়ে নাছরিন আক্তার (২০) নামে এক গৃহ বধুকে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

জানা যায়, মনোহরদী উপজেলার নোয়াদিয়া গ্রামের আব্দুল মোমিনের স্ত্রী নাছরিন আক্তারকে গত মঙ্গলবার বিকেলে তার শ্বাশুড়ী মনোয়ারা বেগম দুধ খেতে দেয়। দুধ খেয়ে গৃহবধু নাছরিনের সমস্ত শরীরে জ্বালাপুড়া শুরু হয়। এক পর্যায়ে সে বাথরুমে গিয়ে বমি করতে থাকে। এ খবর পেয়ে তার বড় বোন শারমিন আক্তার তাকে দেখতে আসে। এসময় সে বাড়ীর উঠানে লুটিয়ে পড়ে। এ অবস্থায় তাকে প্রথমে শিবপুর হাসপাতালে। পরে সেখান থেকে নরসিংদী সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সদর হাসপাতালের ডাক্তারগন আপ্রাণ চেষ্টা করেও তাকে বাঁচাতে পারেনি। রাত আনুমানিক ৯ টায় নাছরিন আক্তার মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে।
শিবপুর উপজেলার বৈলাব গ্রামের আব্দুল বারিকের মেয়ে নাছরিন আক্তারের সাথে প্রায় দেড় বছর আগে মনোহরদী উপজেলার নোয়াদিয়া গ্রামের আক্তার মিয়ার ছেলে মোমিনের সাথে মুসলিম শরিয়ত মতে বিবাহ হয়। বিয়ের কিছুদিন পর থেকে শ্বাশুড়ীর সাথে প্রায়ই পুত্রবধু নাছরিনের ঝগড়া বিবাদ লেগে থাকতো। শ্বশুড় বাড়ীর লোকজন নাছরিনের উপর শারীরিক নির্যাতনও করতো। এক পর্যায়ে অতিষ্ঠ হয়ে নাছরিন তার বাবার বাড়ী শিবপুরের বৈলাব গ্রামে চলে যায়। পরে স্বামী এবং শ্বাশুড়ী বৈলাব গিয়ে তাকে আর নির্যাতন করবে না, তার সাথে সুস্পর্ক রাখবে। এই প্রতিশ্রæতি দিয়ে তাকে বাড়ীতে নিয়ে আসে। গত মঙ্গলবার বিকেল বেলায় শ্বাশুড়ী পুত্রবধুকে আদর-সোহাগ করে দুধ খাওয়ায়। এর পর থেকেই প্রতিক্রিয়া শুরু হয়। নাছরিনের চাচা মোজাম্মেল হোসেন জানান, নাছরিনের বিয়ের সময় যৌতুক হিসেবে জামাতাকে আড়াই লাখ টাকা ব্যায় করে একটি চাকুরী দেয়া হয়। সাথে অন্যান্য উপ-ঢৌকন প্রদান করা হয়। কিন্তু ৬ মাস যেতে না যেতেই নাছরিনের শ্বাশুড়ী, স্বামী, দেবর, ননদসহ পরিবারের লোকজন নাছরিনের বাবার বাড়ীর লোকজনের নিকট থেকে আরো ২ লাখ টাকা এনে দেয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করে তার উপর নির্যাতন শুরু করে।
এর ঘটনার পর থেকে নাছরিনের স্বামী আব্দুল মোমিন, শ্বাশুড়ী মনোয়ারা বেগম, ননদ তাসলিমা ও দেবর কাউছারসহ বাড়ীর লোকজন স্বপরিবারে ঘড়বাড়ী ছেড়ে অন্যত্র পালিয়ে গেছে। এদিকে গতকাল বুধবার নরসিংদী সদর হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে নাছরিনের লাশ তার বাবার বাড়ী বৈলাব গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। এ ব্যাপারে মনোহরদী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।




