ইয়ানুর রহমান (যশোর) : সরকারের রাজস্ব আয়ের বড় অংশ বেনাপোল স্থল বন্দর । সে বন্দর থেকে গত ২০১২-১৩ অর্থ বছরের চেয়ে চলতি ২০১৩-১৪ অর্থ বছরের ৮ মাসে ৭২ হাজার ৫৮০ মেট্রিক টনে পন্য আমদানি কমেছে। ২০১২-১৩ অর্থবছরের প্রথম ৮ মাসে এ বন্দর দিয়ে ভারত থেকে আমদানি হয়েছিল ৫ লাখ ৩২ হাজার ৯১০ মেট্রিকটন পন্য। আর বর্তমানে চলতি ১৩-১৪ অর্থবছরে আমদানি হয়েছে ৪ লাখ ৬০ হাজার ৩০৩ মেট্রিকটন পন্য।
বেনাপোল কাষ্টমস সুত্র জনায়, চলতি অর্থবছরের নভেম্বর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত রাজনৈতিক অস্থিরতা হরতাল অবরোধের কারনে আমদানি কম হয়েছে। তবে ব্যাবসায়িরা বলছে দেশে এখন রাজনৈতিক অবস্থা স্বভাবিক থাকলে ও ব্যাবসায় মন্দাভাব যাচ্ছে। এতে আমদানি করা পন্য এনে বিক্রি করা যাচ্ছে না। সেই থেকে বন্দর শেড থেকে মাল চুরি, কাষ্টমসসের হয়রানির কারনে অনেকে এ বন্দর ছেড়ে চলে গেছে।
বেনাপোল কাষ্টমস জানায় ২০১২- ১৩ অর্থবছরের প্রথম ৪ মাসের জুলাই মাসে আমদানি করা হয় ৯৫ হাজার ৯৮২ মেট্রিকটন , আগষ্ট মাসে ৬০ হাজার ৫৫৮ মেট্রিকটন সেপ্টেম্বর মাসে ৯৪ হাজার ২৩১ মেট্রিকটন, অক্টোবর মাসে আমদানি হয়েছিল ৭৩ হাজার ৬৫১ মেট্রিক টনপন্য, নভেম্বর মাসে আমদানি হয়েছিল ৫০ হাজার ৩৮০ মেট্রিকটন ডিস্মেবর মাসে আমদানি হয় ৪৪ হাজার ৩৩৮ মেট্রিকটন, জানুয়ারি মাসে আমদানি হয় ৬২ হাজার ৮৫৬ মেট্রিকটন এবং ফেব্র“য়ারী মাসে ৫০ হাজার ৯১২ মেট্রিকটন, পন্য।
চলতি অর্থ বছরের জুলাই মাসে আমদানি হয় ৭১ হাজার ২৫৫ মেট্রিকটন,আগষ্টে ৩৯ হাজার ৭৮৬ মেট্রিকটন, সেপ্টম্বর মাসে ৬৩ হাজার ৪৭৯ মেট্রিকটন, অক্টোবরে আমদানি হয়েছে ৫৭ হাজার ৩২৭ মেট্রিকটন নবেম্বর মাসে আমদানি হয়েছে ৫৬ হাজার ৭৩৬ মেট্রিকটন,ডিসেম্বর মাসে আমদানি করা হয়েছে ৪৮ হাজার ৩৬৩ মেট্রিকটন, জানূয়ারী মাসে ৬২ হাজার ৭৫৩ মেট্রিকটন এবং ফেব্র“য়ারী মাসে আমদানি করা হয়েছে ৬০ হাজার ৩৩৬ মেট্রিকটন পন্য।
এ ব্যাপারে যশোর চেম্বর অব কমার্সের সভাপতি মিজানুর রহামন খান জানান ব্যাংকের উচ্চ সুদ, বন্দর থেকে মালামাল চুরি, কাষ্টমসের হয়রানিসহ বিভিন্ন কারনে অনেক আমদানি কারকরা বেনাপোল ছেড়ে অন্য বন্দরে চলে গেছে। যে কারনে দিন দিন বেনাপোল থেকে আমদানি কমে যাচ্ছে। আবার দেশে ব্যাবসায়িক মন্দার কারনে ও ব্যাবসায়িরা আমদানি কমিয়ে দিয়েছেন।
বেনাপোল বন্দরের সিএন্ড ব্যাবসায়ি শাহবুদ্দিন গোলদার জানান, বেনাপোল অব্যাহত প্রতিকুল পরিবেশে থাকার কারনে আমদানি রফতানি কারকরা এ বন্দর ছেড়ে অন্য বন্দরে চলে যাচ্ছে। ব্যাবসায়িরা চায় দ্রুত পন্য খালাশ । কারন আমদানিকৃতমাল পড়ে থাকলে তাদের মাসুল গুনতে হয়। সেই সাথে চোরাই পথে আসছে বিপুল পরিমান পন্য। গত মাসে বিজিবি বেনাপোল সীমান্ত থেকে কয়েক কোটি টাকার পন্য আটক করেছে।
বিশিষ্ট সিএন্ডএফ ব্যাবসায়ি বেনাপোল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মফিজুর রহমান স্বজন বলেন, কথায় কথায় শ্রমিকরা বন্দর অচল করে দেওয়ায় ব্যাবসায়িদের চরম ক্ষতি হচ্ছে। হরতাল অবোরোধে পরিবহন খরচ ও বেড়ে যাওয়ায় দেশের আমদানিকারকরা ব্যাপক অর্থনৈতিক ক্ষতির শিকার হওয়ায় এ বন্দর ছেড়ে চলে যাওয়ায় আমদানি পন্য কমে গেছে।
বেনাপোল কাষ্টমস যুগ্ম কমিশনার ফাইজুর রহমান জানান, চলতি অর্থবছরের নভেম্বর থেকে জানুয়ারী পর্যান্ত রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা কারনে হরতালের প্রভাব ছিল বেশী। যে কারনে আমাদের প্রথম ৮ মাসে পন্য আমদানি কিছুটা কমে গেছে।




