এস এম জামাল. কুষ্টিয়া : বাউল সম্রাট ফকির লালন শাহ’র গান, বাউল মেলা ও সাধুসংঘের মধ্য দিয়ে আগামী শনিবার থেকে কুষ্টিয়া কুমারখালীর ছেউড়িয়ায় শুরু হচ্ছে পাঁচদিন ব্যাপী লালন স্মরণোত্সব’১৪। আনুষ্ঠানিক ভাবে উদ্বোধণী ও আলোচনা সভা সভা শুরু হবে ওইদিন সন্ধ্যা থেকে।
ইতোমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে অনুষ্ঠানের সব প্রস্তুতি। ভক্ত অনুসারীরা আগে থেকেই লালন আখড়ায় জায়গা করে নিয়েছে। অনুষ্টানকে কেন্দ্র করে মাজার প্রাঙ্গন ধুয়ে মুছে সাফ ছুতোর করে এক বর্ণিল পরিবেশ সৃষ্টি করেছে লালন একাডেমী কর্তৃপক্ষ।
মরমী এ সঙ্গীত সাধকের বার্ষিক স্মরণোৎসব উপলক্ষে তাঁর সাধন-ভজনের তীর্থ স্থান ছেঁউড়িয়ার আখড়াবাড়ি প্রাঙ্গন পরিণত হয়েছে উত্সবের পলীতে। দেশ-বিদেশ থেকে এখানে আগমন ঘটেছে লালনভক্ত, বাউল অনুসারী ও সুধীজনসহ অসংখ্য মানুষের। উত্সব শুরু হবে ১৫মার্চ সন্ধ্যা থেকে, চলবে ১৯ মার্চ পর্যন্ত। প্রতিদিন সন্ধ্যা ৭টা থেকে স্মরণোত্সবে থাকবে লালনের স্মৃতিচারণ করে আলোচনা, লালন সঙ্গীতানুষ্ঠান ও লালন গ্রামীণ মেলা।
কুষ্টিয়া শহরের কোল ঘেষে কুমারখালী উপজেলার কালীগঙ্গা নদী। এ নদীর তীরেই ছেউড়িয়ার লালন সমাধি। বাংলা ১২৯৭’র পহেলা কার্তিক ও ইংরেজী ১৭ অক্টোবর ১৮৯০ সালে এখানেই মরমী সাধক লালন শাহ’র শেষ শয্যা রচিত হয়।
গবেষকদের মতে, বাউল সাধক ফকির লালন শাহ’র জীবদ্দশায় দোল পুর্ণিমা উপলক্ষে পালন করা হতো দোল উৎসব। আর দোল পুর্ণিমাকে ঘিরেই বসতো সাধু সংঘ।
লালনের সেই স্মৃতির ধারাবাহিকতায় লালন একাডেমীও প্রতিবছর এ উত্সবটিকে ‘লালন স্মরণোত্সব’ হিসাবে পালন করে আসছে। তবে লালন অনুসারীরা দিনটিকে ‘দোল পূর্ণিমা’ উত্সব হিসাবেই পালন করে থাকেন।
সাধুদের মতে, সত্যিকার অর্থে লালন অনুসারীরা দোল পূর্ণিমার এ রাতটির জন্য সারা বছর অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে থাকেন। সাঁইজির রীতি অনুসারে দোলপুর্ণিমার রাতের বিকেলে অধিবাসের মধ্য দিয়ে ২৪ ঘণ্টার দোলসঙ্গ শুরু হয়। চৈত্রের পূর্ণিমা রাতে জ্যোৎস্নার ছটায় আর মাতাল হাওয়ায় গানে গানে বাউল সাধকরা হারিয়ে যায় ভিন্ন কোনো জগতে। পরের দিন চারটায় ‘পুণ্যসেবা’ দিয়ে সাধুসঙ্গ শেষ করে আখড়াবাড়ি ত্যাগ করেন বেশির ভাগ সাধু। প্রকৃত সাধুসঙ্গের অধিবাস শেষ হলেও লালন একাডেমি আয়োজিত মূল মঞ্চে লালনগীতি ও লালনমেলা চলে আরও চার দিন। তাঁরা মনে করেন, মানবধর্মই বড় ধর্ম। একসাথে এভাবে সাধুসঙ্গ করলে সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে। সাধু-গুরুর কৃপা ছাড়া মানুষ মুক্তি পেতে পারে না। তার কৃপায় মানুষ সঠিক পথ দেখে।
লালন স্মরনোত্সব ঘিরে কালীগঙ্গা নদীর ধারে প্রতিবছরই বসে জাঁকজমকপূর্ণ বিশাল গ্রামীণ মেলা।
আগামী ১৬মার্চ শনিবার দোল পুর্ণিমার রাতে শুরু হয়ে পাঁচদিন ব্যাপী চলবে লালন স্মরণোৎসব ২০১৪।
শুরুর দিনই সন্ধ্যায় পাঁচদিনব্যাপী লালন স্মরণোত্সবের উদ্বোধন করবেন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক ও কুষ্টিয়া-৩ আসনের এমপি মাহবুব-উল আলম হানিফ।
এতে সভাপতিত্ব করবেন লালন একাডেমীর সভাপতি ও কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক সৈয়দ বেলাল হোসেন।
বিশেষ অতিথি থাকবেন কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার মফিজ উদ্দিন আহম্মেদ, জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি হাজী রবিউল ইসলাম, সাধারন সম্পাদক আসগর আলী, লালন একাডেমীর সাবেক সাধারন সম্পাদক তাইজাল আলী খান।
লালনের জীবনাদর্শন নিয়ে আলোচনা করবেন বিশিষ্ট লালন গবেষক ও লেখক ড. আনোয়ারুল করিম।
শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখবেন কুমারখালী উপজেলা নির্বাহী কমর্কর্তা সাহেলা আক্তার।
স্বাগত বক্তব্য রাখবেন লালন একাডেমীর সাধারন সম্পাদক রেজানুর রহমান খাঁন চৌধুরী মুকুল।
সব প্রস্তুতির সম্পন্ন হয়েছে এমন দাবী করে আয়োজকরা জানিয়েছেন, অনান্যবারের তুলনায় এবারে আরও বেশী লোক সমাগম ঘটবে লালন ভক্ত অনুসারীদের। আর এ উৎসবকে নির্বিঘ্নে রাখতে কয়েক বলয়ে নিরাপত্তামূলক সব ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে পুলিশের পক্ষ থেকে।
জেলা প্রশাসক সৈয়দ বেলাল হোসেন জানান, কুষ্টিয়া পুলিশ প্রশাসন ও আইন শৃংখলা রক্ষাকারী সংস্থা থেকে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।




