নড়াইল প্রতিনিধি : নড়াইলের কালিয়া হরিবাসরে ১০মার্চ সোমবার শেষ হল এই অঞ্চলের হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় মহানাম সংকীর্তন অনুষ্ঠান।
২২তম বারের মত ৫ দিনব্যাপী ‘৩২ প্রহরব্যাপী অখন্ড শ্রী শ্রী তারকব্রহ্ম মহানাম সংকীর্তন’ এই অঞ্চলের সবচেয়ে বড় সংকীর্তনানুষ্ঠান। হিন্দু সম্প্রদায়ের লক্ষাধিক মানুষ এই ধর্মীয় অনুষ্ঠানে ধারাবাহিকভাবে উপস্থিত হয়েছেন। ৫ মার্চ বুধবার রাতে শ্রীমদ্ভাগবত গীতা পাঠ ও মহানামযজ্ঞের শুভ গন্ধাধিবাসের মাধ্যমে মহানামযজ্ঞ শুরু হয়েছিল। আজ ব্রহ্ম মুহুর্তে নাম সমাপন, নগর পরিক্রমা, কুঞ্জভঙ্গ, মধ্যাহ্নে মহাপ্রভুর ভোগরাগ ও মহাপ্রসাদ বিতরনের মাধ্যমে মহানামযজ্ঞের সমাপ্তি হয়।
এই মহানামযজ্ঞে বাংলাদেশের বৃহৎ আটটি সম্প্রদায় নামসংকীর্তন পরিবেশন করেন, তারা হলেন শ্রী শ্রী রূপসনাতন সম্প্রদায় (ইস্কন, ঢাকা), বঙ্কুবিহারী সম্প্রদায় (ঢাকা), গৌরাঙ্গ সম্প্রদায় (খুলনা), গৌরসুন্দর সম্প্রদায় (খুলনা), শিশু গোপাল সম্প্রদায় (মাগুরা), শিব মন্দির সম্প্রদায় (রাজবাড়ি), বীনাপানি সম্প্রদায় (মাগুরা) ও জয়নিতাই সম্প্রদায় (মাদারীপুর)।
নামযজ্ঞ উপলক্ষে কালিয়া সেজেছিল নবসাজে। জায়গাটি একটি উৎসবের নগরীতে পরিণত হয়েছিল। ডাকবাংলো চত্বরে পসরা সাজিয়ে বসেছিল দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা নানা রকম পণ্য ও খাদ্যসামগ্রীর অসংখ্য স্টল। স্টলগুলোতে ছিল ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড়। নাগরদোলায় চড়ে বসতে দেখা যায় ছোটদের পাশাপাশি বড়দেরও। জাত-পাত ভুলে সকল মানুষের সমাগম ছিল লক্ষ্যনীয়। সবমিলিয়ে এ অনুষ্ঠানটি ছিল সকল ধর্মের মানুষের মিলনমেলা। অনুষ্ঠান চলাকালীন কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। সুষ্টুভাবে অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন হওয়ায় স্থানীয় এমপি কবিরুল হক মুক্তি আয়োজক এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন ।




