ছাতক (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি : ছাতকে বৃটিশ-আমেরিকান টোবাকো কোম্পানীর ছিনতাই হওয়া প্রায় ১৮লক্ষ টাকা উদ্ধার ও জড়িত দু’ছিনতাইকারীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শুক্রবার সকালে কালারুকা ইউনিয়নের মুক্তিরগাঁও গ্রামে পৃথক দুটি অভিযান চালিয়ে টাকাসহ তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা গ্রামের চমক আলীর পুত্র সাইফুল আলম (৩৫) ও একই ইউনিয়নের শিমুলতলা গ্রামের আকলু মিয়ার পুত্র সালাহ উদ্দিন (৩২)। তবে মুল ঘটনাকারী মুক্তিরগাঁও গ্রামের তছলিম মাস্টারের পুত্র কুখ্যাত ডাকাত মিজানকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি।

পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ছাতক থানার অফিসার ইনচার্জ শাহজালাল মুন্সির নেতৃত্বে গতকাল ভোরে ছিনতাইকারী সাইফুল আলমের বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। এ সময় তার স্বীকারোক্তিতে পার্শ্ববর্তী শিমুলতলা গ্রামের সালাহ উদ্দিনের বাড়ি থেকে ছিনতাই হওয়া ৯লক্ষ ৫৬হাজার ৪শ’ টাকা উদ্ধার ও ছিনতাই কাজে ব্যবহৃত ফোরষ্ট্রোক (নং-সিলেট থ-১১-৬৪২৬) আটক করতে সক্ষম হয়। পরে তাদের দেয়া তথ্যে সকাল ১১টায় ডাকাত মিজানের বাড়িতে অভিযান চালায় পুলিশ। তার বসতঘরের এক বিশাল গর্তে লুকিয়ে রাখা ছিনতাই’র আরো ৮লক্ষ ৪১হাজার টাকা উদ্ধারসহ মোট ১৭লক্ষ ৯৭হাজার ৪শ’ টাকা উদ্ধার করা হয়। এ সময় মিজানকে না পেয়ে তার স্ত্রী দীনা বেগম (২৭)কে আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়। গত ২ফেব্র“য়ারি সকালে ডাচ বাংলা ব্যাংক ছাতক শাখার সামনে থেকে বৃটিশ-আমেরিকান টোবাকো কোম্পানী সুনামগঞ্জের এজেন্ট ছাতকের মৌলা বক্স-করিম বক্স’র ২২লক্ষ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে যায় ছিনতাইকারীরা। অভিযানে এসআই মুর্শেদ, এসআই হারুন, এসআই শাহীনুর আলম ও এএসআই হারুনুর রশিদ চৌধুরী অংশ নেন। এ ব্যাপারে ছাতক থানার অফিসার্স ইনচার্জ শাহজালাল মুন্সি জানান, ছিনতাইর ঘটনায় অনেক নাটকিয়তা থাকলেও ঘটনার ৫দিনের মাথায় টাকা উদ্ধারসহ দু’ছিনতাইকারীকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে। ঘটনার মুলহোতা ডাকাত মিজানকে বাড়িতে না পেলেও তার বসতঘরের ৬ফুট দীর্ঘ, ৪ফুট প্রস্থ ও ৫হাত গভীর এক বিশাল গর্তের ভিতর আরো একটি ছোট গর্ত থেকে ৮লক্ষ ৪১হাজার টাকা উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। কাউকে হত্যা করে এ গর্তে লাশ গুম করার পরিকল্পনা ছিল বলে ওসি শাহজালাল মুন্সির ধারনা। বুধবার রাতে একটি লাইটেসে ডাকাতির ঘটনায় বাশখালা গ্রামের পারভেজ, সুমন, নুরুসহ কয়েকজন জড়িত রয়েছে। এদেরকে গ্রেফতারের তৎপরতা চলছে। এ ডাকাতচক্রের বিরুদ্ধে ছিনতাই, চুরি, ডাকাতির ব্যাপক অভিযোগ রয়েছে। বুধবার রাতে পেপার মিল সড়কে উপজেলা চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আওলাদ আলী রেজা’র নির্বাচনী প্রচারনার গাড়ীতে ডাকাতি, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার মোটরসাইকেল চুরিসহ শহরে কয়েকটি মোটরসাইকেল চুরি এবং ছিনতাইর ঘটনায় এ চক্রটি জড়িত রয়েছে বলে স্থানীয়রা ধারনা করছেন।




