ads

শুক্রবার , ৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৪ | ২৭শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধনপ্রাপ্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  1. ENGLISH
  2. অনিয়ম-দুর্নীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আমাদের ব্লগ
  6. ইতিহাস ও ঐতিহ্য
  7. ইসলাম
  8. উন্নয়ন-অগ্রগতি
  9. এক্সক্লুসিভ
  10. কৃষি ও কৃষক
  11. ক্রাইম
  12. খেলাধুলা
  13. খেলার খবর
  14. চাকরির খবর
  15. জাতীয় সংবাদ

নিম্নমানের ভেজাল বীজে ক্ষতির মুখে পড়েছে মেহেরপুরের ভুট্টা চাষিরা

রফিকুল ইসলাম আধার , সম্পাদক
ফেব্রুয়ারি ৭, ২০১৪ ৭:৪৭ অপরাহ্ণ

Vuttra picমেহের আমজাদ, মেহেরপুর : নিম্নমানের ভেজাল বীজের কারণে ক্ষতির মুখে পড়েছে মেহেরপুরের শত শত ভুট্টা চাষি। গাছ ভাল হলেও গাছে ভুট্টার মোঁচা আসেনি। আবার যেগুলোর মোঁচা এসেছে সেগুলোর মাথার দিক থেকে পচন ধরে গাছ থেকে ভেঙ্গে পড়ছে। ফলে লাভের বদলে লোকসানের মুখে পড়েছে জেলার ভুট্টা চাষিরা। ক্ষতিগ্রস্থ ভুট্টা ক্ষেত পরিদর্শন করেছে বাংলাদেশ কৃষি গবেষনা ইনিস্টিটিউটের একটি প্রতিনিধি দল।

Shamol Bangla Ads

সরজমিনে জেলার বিভিন্ন মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, প্রচলিত আবাদ ধান পাটের চেয়ে লাভজনক হওয়ায় ভুট্টা চাষের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠেছে মেহেরপুরের চাষিরা। মেহেরপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সূত্র মতে চলতি মৌসুমে মেহেরপুর জেলায় ভুট্টা চাষ হয়েছে প্রায় ৪ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে। যা গত বছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। কঠোর পরিশ্রম আর সার পানি দিয়ে ভুট্টার গাছকে সবল করে তুললেও গাছে আশানুরুপ মোঁচা ধরেনি। যা ধরেছে তাও আবার মাথার দিক থেকে পচন ধরে গাছ থেকে ভেঙ্গে পড়ছে। ফলে দিশেহারা হয়ে পড়েছে চাষিরা। ভেজাল নিম্নমানের বীজের কারণেই এমনটি হয়েছে বলে ধারণা কৃষকদের।
সদর উপজেলার পুরাতন মদনাডাঙ্গা গ্রামের ভুট্টা চাষি ইয়াছিন জোয়ার্দার জানায়, গত বছর পেট্রোকেম বাংলাদেশ কোম্পানির পাইওনিয়ার এবং ইয়াং এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ লিঃ কোম্পানির এলিট জাতের ভুট্টা চাষ করে চাষিরা বেশ লাভবান হয়েছে। কিন্তু চলতি বছর একই জাতের ভুট্টা চাষ করে ক্ষতির মুখে পড়েছেন তারা। ভেজালের কারণেই এমনটি হয়েছে বলে ধারণা তাদের। আসাদুল ইসলাম জানান, সমিতি থেকে ঋণ নিয়ে ১২ বিঘা জমিতে ভুট্টা চাষ করেছেন তিনি। গত বছর ভুট্টা চাষ করে বিঘিা প্রতি ৫০ মণ হারে ফলন পেয়েছিলেন। কিন্তু এবার ভুট্টা গাছ ভাল হলেও গাছে ঠিকমত মোঁচা আসেনি। যা এসেছে তা থেকে বিঘা প্রতি সর্বোচ্চ ১৫ মণ হারে ফলন পাওয়া যেতে পারে। ফলে তাকে মোটা অংকের লোকসান গুণতে হবে। এখন কীভাবে ঋণের টাকা পরিশোধ করবেন তা নিয়ে চিন্তিত তিনি। আছের আলী জানান, ভুট্টা গাছ যখন দেড় দুই লম্বা হলো তখন প্রতিটি গাছের গোড়া থেকে দুই তিনটি করে কুঁশি বেরিয়ে নতুন গাছের জন্ম হতে লাগলো। মূল গাছের চেয়ে কুঁশিগলো হলো বেশ তরতাজা। তাই অনেকেই কুঁশি রেখে মুল গাছ কেটে দেয়। তাতে গাছ হলো খুব ভাল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ঠিকমত মোঁচা হলো না। এতে প্রত্যেকটা চাষি ক্ষতির মুখে পড়েছে। এ ক্ষতি পূরণ কে দেবে আর কে শুনবে তাদের কষ্টের কথা। আমঝুপি গ্রামের চাষি রমজান আলী ও হাফিজুল ইসলাম জানান, প্রতি বিঘা জমিতে দশ থেকে বার হাজার টাকা খরচ করে ফলন পাওয়া যায় ৪০ থেকে ৫০ মণ পর্যন্ত। কিন্তু এ বছর দশ থেকে পণের মণের বেশি ফলন হবে না। ফলে লোকসান গুণতে হবে চাষিদের। কীভাবে ঋণের টাকা পরিশোধ করবেন তা নিয়েও দিশেহারা অনেকে।
কৃষকের এ অবস্থা জানতে পেরে ক্ষতিগ্রস্ত মাঠ পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশ কৃষি গবেষনা ইনিস্টিটিউটের একটি প্রতিনিধি দল। যার নেতৃত্বে ছিলেন বাংলাদেশ কৃষি গবেষনা ইনিস্টিটিউটের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডঃ রওশন আলী। তিনি বলেন, গাছের বৃদ্ধি জনিত সমস্যার কারণে এমনটি হয়েছে। তবে নিশ্চিত হওয়ার জন্য ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষেতের ভুট্টা গাছ ও মাটির নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। সেগুলো পরীক্ষা নিরীক্ষা করা হবে। প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক গবেষণা কেন্দ্রে গবেষণার জন্য নমুনা পাঠানো হবে বলেও জানান তিনি।

Need Ads
error: কপি হবে না!