স্টাফ রিপোর্টার : স্থানীয় সরকারে নির্বাচিত নারী প্রতিনিধিদের কার্যকর ভুমিকা ও দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন বিশেষ করে তথ্য ও স্থানীয় সেবার ক্ষেত্রে নারী অধিকার নিশ্চিত করতে শেরপুরে নারী উন্নয়ন ফোরামের মিডিয়া নেটওয়ার্ক কর্মশালা হয়েছে। ২৮ অক্টোবর সোমবার শেরপুর সদর উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে দিনব্যাপী ওই কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। ‘সুইস এজেন্সি ফর ডেভেলপমেন্ট এন্ড কো-অপারেশন’-এসডিসি’র সহায়তায় বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা পিপ ট্রাস্ট পরিচালিত নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন-‘অপরাজিতা’ প্রকল্পের আওতায় ‘উপজেলা নারী উন্নয়ন ফোরাম’ এ কর্মশালার আয়োজন করে।
কর্মশালায় শেরপুর সদর ইউএনও আইরীন ফারজানা প্রধান অতিথি, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান শামীম আরা শামীমা বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপজেলা নারী উন্নয়ন ফোরামের সভাপতি রোকসানা পারভীন শিল্পীর সভাপতিত্বে অন্যান্যের মধ্যে অপরাজিতা প্রকল্পের আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক সাইফুল ইসলাম, প্রোগ্রাম অফিসার সঞ্জিব কুমার দে, সাংবাদিক হাকিম বাবুল, আসাদুজ্জামান মোরাদ, ইউপি মেম্বার হাসনা হেনা খানম, নারী ফেরাম সেক্রেটারী মাহনাজ পারভীন মেরি প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। এতে সদর উপজেলার ১৪ ইউনিয়নের নির্বাচিত ৪২ মহিলা ইউপি মেম্বার ও স্থানীয় মিডিয়াকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন।
কর্মশালায় নারী ইউপি সদস্যরা ইউনিয়ন পরিষদ আইনের নানা দূর্বলতা তুলে ধরে বলেন, সেসব ত্র“টির কারণেই স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে নির্বাচিত নারী মেম্বাররা সঠিক ভুমিকা রাখতে পারছেন না, তাদেরকে নানাভাবে বঞ্চিত করা হচ্ছে। তারা জানান, ২০০৯ সালের সংশোধিত ইউনিয়ন পরিষদ আইনে এক তৃতীয়াংশ প্রকল্পের সভাপতি মহিলা মেম্বার হবেন বলে উল্লেখ থাকলেও কিন্তু তা না মানা হলে কি করা হবে সেটা উল্লেখ নেই। এর সুযোগে ইউপি চেয়ারম্যান ও পুরুষ মেম্বাররা সেই আইনের তোয়াক্কা করছেন না। তাছাড়া স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড মেম্বার হবে বলে আইনে উল্লেখ করা হয়েছে, সেখানে ওই ওয়ার্ডের পুরুষ নাকি মহিলা মেম্বার হবে তার উল্লেখ নেই। কিন্তু একজন মহিলা মেম্বার ৩টি ওয়ার্ডের ভোটে মেম্বার নির্বাচিত হয়েও আইনের সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা না থাকায় মহিলা মেম্বাররা এলাকার শিক্ষা উন্নয়নে কার্যকর ভুমিকা রাখতে পারছেন না। এজন্য তারা ইউনিয়ন পরিষদ আইন সংশোধন করে সুস্পষ্টভাবে নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করার দাবি জানান। মহিলা ইউপি মেম্বাররা অভিযোগ করে বলেন, তারা তিন ওয়ার্ড থেকে নির্বাচিত হন আর পুরুষ মেম্বাররা এক ওয়ার্ড থেকে নির্বাচিত হয়। কিন্তু ইউপি’র নানা বরাদ্দের সময় তাদেরকেও একজন ওয়ার্ড মেম্বারের মতো করেই বরাদ্দ বন্টন করা হয়। মহিলা ইউপি মেম্বাররা ইউনিয়ন পরিষদের এরকম আরো নানা সমস্য তুলে ধরে এসব বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ করে ইউনিয়ন পরিষদকে কার্যকর, জনপ্রতিনিধিত্বশীল স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার জন্য মিডিয়া কর্মীদের সহায়তা কামনা করেন।




